মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দীন সাকিব:
নবী করিম (দঃ)-এর উর্দ্ধজগতের মো’জেযা সমূহের মধ্যে মি’রাজ গমন একটি বিস্ময়কর মো’জেযা। এজন্যই মি’রাজের আয়াতের শুরুতেই আল্লাহ পাক ‘সুবহানাল্লাহ্’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন-যা কেবল আশ্চর্য্যজনক ঘটনার ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা হয়ে থাকে। সশরীরে মি’রাজ গমনের প্রমাণ স্বরূপ কোরআনের ‘বিআবদিহী’ শব্দটি তাৎপর্যপূর্ণ। কেননা, ‘আবদুন’ শব্দটি দ্বারা রুহ ও দেহের সমষ্টিকে বুঝান হয়েছে। তদুপরি বোরাক প্রেরণ ও বোরাক কর্তৃক নবী করিম (দঃ) কে বহন করে নিয়ে যাওয়ার মধ্যেও সশরীরে মি’রাজ গমনের প্রমাণ পাওয়া যায়। সর্বোপরি-স্বপ্নে বা রুহানীভাবে মি’রাজের দাবী করা হলে কোরাইশদের মধ্যে এত হৈ চৈ হতোনা। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের সকল ইমামগণই সশরীরে মি’রাজ গমনের কথা স্বীকার করেছেন।
মি’রাজের ঘটনাটি নবীজীর জীবনে গুরুত্বপূর্ণ এজন্য যে, এর সাথে গতির সম্পর্ক এবং সময় ও স্থানের সঙ্কোচনের তত্ত্ব জড়িত রয়েছে। সূর্য্যের আলোর গতি সেকেন্ডে এক লক্ষ ছিয়াশি হাজার মাইল। পৃথিবীতে সূর্যের আলো পৌছতে লাগে আট মিনিট বিশ সেকেন্ড। এ হিসেবে পৃথিবী হতে সূর্যের দূরত্ব- নয় কোটি তিরিশ লক্ষ মাইল। অথচ নবী করিম (দঃ) মূহুর্তের মধ্যে চন্দ্র, সূর্য, সিদ্রাতুল মোস্তাহা, আরশ-কুরছি ভ্রমণ করে লা-মকানে আল্লাহর দীদার লাভ করে নব্বই হাজার কালাম করে পুনরায় মক্কা শরীফে ফিরে আসেন। এসে দেখেন, বিছানা এখনও গরম রয়েছে। এর চেয়ে আশ্চর্য আর কি হতে পারে? নবী করিম (দঃ)-এর নূরের গতি কত ছিল- এ থেকেই অনুমান করা যায়। কেননা, তিনি ছিলেন নূর। যাওয়ার সময় বোরাক ছিল-কিন্তু ফেরার সময় বোরাক ছিলনা (রুহুল বয়ান)।
রজব চাঁদের ২৭শে তারিখ সোমবার পূর্ব রাত্রের শেষাংশে নবী করিম (দঃ) বায়তুল্লায় অবস্থিত বিবি উম্মেহানী (রাঃ)-এর ঘরে অবস্থান করছিলেন। বিবি উম্মেহানী (রাঃ) ছিলেন আবু তালেবের কন্যা এবং নবী করিম (দঃ)-এর দুধবোন। উক্ত গৃহটি ছিল বর্তমান হেরেম শরীফের ভিতরে পশ্চিম দিকে। হযরত জিব্রাইল (আঃ) ঘরের ছাদ দিয়ে প্রবেশ করে নূরের পাখা দিয়ে, অন্য রেওয়ায়াত মোতাবেক-গন্ডদেশ দিয়ে নবী করিম (দঃ)-এর কদম মোবারকের তালুতে স্পর্শ করতেই হুযুরের তন্দ্রা টুটে যায়। জিব্রাইল (আঃ) আল্লাহর পক্ষ হতে দাওয়াত জানালেন এবং নবীজীকে যমযমের কাছে নিয়ে গেলেন। সিনা মোবারক বিদীর্ণ করে যমযমের পানি দিয়ে ধৌত করে নূর এবং হেকমত দিয়ে পরিপূর্ণ করলেন। এভাবে মহাশূন্যে ভ্রমণের প্রস্তুতিপর্ব শেষ করলেন।
নিকটেই বোরাক দন্ডায়মান ছিল। বোরাকের আকৃতি ছিল অদ্ভুত ধরনের। গাধার চেয়ে উঁচু, খচ্চরের চেয়ে নীচু, মুখমন্ডল মানুষের চেহারাসদৃশ, পা উটের পায়ের মত এবং পিঠের কেশর ঘোড়ার মত (রুহুল বয়ান-সুরা ইস্রা)। মূলতঃ বোরাক ছিল বেহেস্তী বাহন- যার গতি ছিল দৃষ্টি সীমান্তে মাত্র এক কদম। নবী করিম (দঃ) বোরাকে সওয়ার হওয়ার চেষ্টা করতেই বোরাক নড়াচড়া শুরু করলো। জিব্রাইল (আঃ) বললেন- “তোমার পিঠে সৃষ্টির সেরা মহামানব সওয়ার হচ্ছেন- সুতরাং তুমি স্থির হয়ে যাও”। বোরাক বললো, কাল হাশরের দিনে নবী করিম (দঃ) আমার জন্য আল্লাহর দরবারে শাফাআত করবেন বলে ওয়াদা করলে আমি স্থির হবো। নবী করিম (দঃ) ওয়াদা করলেন। বোরাক স্থির হলো। তিনি বোরাকে সওয়ার হলেন। জিব্রাইল (আঃ) সামনে লাগাম ধরে, মিকাইল (আঃ) রিকাব ধরে এবং ইস্রাফিল (আঃ) পিছনে পিছনে অগ্রসর হলেন। পিছনে সত্তর হাজার ফেরেস্তার মিছিল। এ যেন দুলহার সাথে বরযাত্রী। প্রকৃতপক্ষে নবী করিম (দঃ) ছিলেন আরশের দুলহা (তাফসীরে রুহুল বয়ান)।
মি’রাজের রাত্রে নবী করিম (দঃ) কে প্রথম সম্বর্ধনা দেয়া হয়েছিলো জিব্রাইল, মিকাইল ও ইসরাফিল ফেরেস্তাসহ তাঁদের অধীনে সত্তর হাজার ফেরেস্তা দ্বারা। দ্বিতীয় সম্বর্ধনা দেয়া হয়েছিল বাইতুল মুকাদ্দাস নবীগণ (আঃ) দ্বারা। তৃতীয় সম্বর্ধনা দেয়া হয়েছিল আকাশের ফেরেস্তা, হুর ও নবীগণের দ্বারা এবং চতুর্থ ও শেষ সম্বর্ধনা দিয়েছিলেন স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা। সিদরাতুল মুন্তাহা এবং আরশ মোয়াল্লা অতিক্রম করার পর স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা একশত বার সম্বর্ধনামূলক বাক্য প্রেরন করেছেন, যেটি হলো: ‘হে প্রিয় বন্ধু মোহাম্মদ, আপনি আমার অতি নিকটে আসুন’- একথা বলে নবী করিম (দঃ) কে সম্মানিত করেছিলেন।
মি’রাজের ঘটনা ঘটেছিল নবুয়্যত প্রকাশের ১১ বৎসর ৫ মাস ১৫ দিনের মাথায়। অর্থাৎ প্রকাশ্য নবুয়্যতের ২৩ বৎসরের দায়িত্ব পালনের মাঝামাঝি সময়ে। সে সময় হুযুর (দঃ)-এর বয়স হয়েছিল ৫১ বৎসর ৫ মাস ১৫ দিন। সন ছিল নবুয়তের দ্বাদশ সাল। তিনটি পর্যায়ে মি’রাজকে ভাগ করা হয়েছে। মক্কা শরীফ থেকে বায়তুল মুকাদ্দাছ পর্যন্ত মি’রাজের অংশকে বলা হয় ইসরা বা রাত্রি ভ্রমণ। বায়তুল মুকাদ্দাছ থেকে সিদরাতুল মুন্তাহা পর্যন্ত অংশকে মি’রাজ বলা হয়। সিদরাতুল মুনতাহা থেকে আরশ ও লা-মকাম পর্যন্ত অংশকে বলা হয় ই’রাজ।
মক্কা শরীফ থেকে রওনা দিয়ে পথিমধ্যে মদিনার রওযা মোবারকের স্থানে গিয়ে বোরাক থামলো। জিব্রাইলের ইশারায় তথায় তিনি দু’রাকাত নামায আদায় করলেন। এভাবে ঈছা আলাইহিস সালামের জন্মস্থান বাইতুল লাহাম এবং মাদইয়ান নামক স্থানে হযরত শুয়াইব (আঃ)-এর গৃহের কাছে বোরাক থেকে মোমে নবী করিম (দঃ) দু’রাকাত করে নামায আদায় করলেন। এজন্যই নেকেতময় স্থানে নামায আদায় করা ছুন্নত। এই শিক্ষাই এখানে রয়েছে। নবী করিম (দঃ) এরশাদ করেন, আমি বোরাক থেকে দেখতে পেলাম- হযরত মুজা (আঃ) তাঁর মাযারে (জর্দানে) দাঁড়িয়ে নামায পড়ছেন।
অতঃপর জিব্রাইল (আঃ) বায়তুল মুকাদ্দাছ মসজিদের সামনে বোরাক থামালেন। সমস্ত নবীগণ পূর্ব হতেই সেখানে স্বশরীরে উপস্থিত ছিলেন। জিব্রাইল (আঃ) বোরাককে রশি দিয়ে বায়তুল মোকাদ্দাছের ছায়া নামক পবিত্র পাথরের সাথে বাঁধলেন এবং আযান দিলেন। সমস্ত নবীগণ (আঃ) নামাযের জন্য দাঁড়ালেন। হযরত জিব্রাইল (আঃ) নবী করিম (দঃ) কে মোসল্লাতে দাঁড় করিয়ে ইমামতি করার জন্য অনুরোধ করলেন। হুযুর (দঃ) সমস্ত আম্বিয়ায়ে কেরাম ও সত্তর হাজার ফেরেস্তাকে নিয়ে দু’রাকাত নামায আদায় করলেন।
তখনও কিন্তু নামায ফরয হয়নি। প্রশ্ন জাগে-নামাযের আদেশ নাযিল হওয়ার পূর্বে হুযুর (দঃ) কিভাবে ইমামতি করলেন? বুঝা গেল তিনি নামাযের নিয়ম কানুন পূর্বেই জানতেন। নামাযের তা’লীম তিনি পূর্বেই পেয়েছিলেন-তানযীল বা নাযিল হয়েছে পরে। আজকে প্রমাণিত হলো- নবী করিম (দঃ) হলেন ইমামুল মুরছালীন ও নবীউল আম্বিয়া (আঃ)। নামায শেষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সভায় নবীগণ নিজেদের পরিচয় দিয়ে বক্তব্য পেশ করলেন। সর্বশেষ সভাপতি (মীর মজলিস) হিসাবে ভাষণ রাখলেন নবী করিম (দঃ)। তাঁর ভাষণে আল্লাহ তায়ালার প্রশংসা করে তিনি বললেন- “আল্লাহ পাক আমাকে আদম সন্তানগণের মধ্যে সর্দার, আখেরী নবী ও রাহমাতুল্লিল আলামীন বানিয়ে প্রেরণ করেছেন”। বায়তুল মুকাদ্দাস থেকে এবং শেষ হয় সিদরাতুল মুনতাহাতে গিয়ে শেষ হয়। প্রথম আকাশে গিয়ে হযরত জীবরাইল আঃ ডাক দিয়ে ফেরেস্তাদের বললেন, আসমানের দরজা খুলে দাও। ফেরেস্তারা দরজা খুলে দিলেন। প্রথমেই সাক্ষাৎ হলো বাবা হযরত আদম আঃ এর সাথে। নবীজি তাকে সালাম দিলেন।কেননা ভ্রমনকারীকেই প্রথমে সালাম দিতে হয়। হযরত আদম আঃ এর নেতৃত্বে অভ্যর্থনায় যোগ দিলেন অনান্য আম্বিয়াযে কেরামগন,প্রথম আসমানের ফেরেস্তাগন, এমনিভাবে ২য় আকাশের ফেরেস্তাসহ সবাই অভ্যর্থনায় + দিলেন।
সিদরাতুল মুন্তাহায় পৌঁছে জিব্রাইল (আঃ) নবী করিম (দঃ) থেকে বিদায় নিলেন এবং বললেন:”সিদরাতুল মুন্তাহা থেকে এক আঙ্গুল-অন্য রেওয়ায়তে চুল পরিমাণ অগ্রসর হলে আমার ছয়শত নূরের পাখা নূরের তাজাল্লীতে জ্বলেপুড়ে ছারখার হয়ে যাবে”। সুবহানাল্লাহ!
যেখানে নূরের ফেরেস্তা জিব্রাইল (আঃ) জ্বলে যায়, সেখানে আমাদের প্রিয় নবী (দঃ) সশরীরে স্বচ্ছন্দে সামনে অগ্রসরমান। বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গ্রন্থের প্রারম্ভে হযরত জাবের (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত নূরে মোহাম্মদী সৃষ্টির হাদীসখানা আর একবার পাঠকদের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি- “তিনি আল্লাহর যাতী নূরের জ্যোতি হতে পয়দা হয়েছেন”। বুঝা গেল তিনি মাটি নন। মাটি হলে তথায় জ্বলে পুড়ে ভস্ম হয়ে যেতেন। জিব্রাইল (আঃ) আমাদের নবীজীর (দঃ) নূরের সামান্যতম অংশের তাজাল্লী দিয়ে সৃষ্টি। যেখানে জিব্রাইলের গতি শেষ, সেখান থেকে আমাদের নবীজীর (দঃ) যাত্রা শুরু। করিম (দঃ) কে আরশে আযিমে পৌছিয়ে দেয়। এ পথে নবী করিম (দঃ) সত্তরটি নূরের পর্দা ভেদ করেন। এক এক পর্দার ঘনত্ব ছিল পাঁচশত বৎসরের রাস্তা। এ হিসাবে ৩৬ হাজার বৎসরের রাস্তা অতিক্রম করে নবী করিম (দঃ) আরশে মোয়াল্লায় পৌঁছলেন। এ পথে যখন তিনি একাকীত্ব অনুভব করছিলেন, তখন হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ)-এর আওয়ায শুনতে পেয়ে শাস্ত হয়েছিলেন। আর একটি আওয়াজও তিনি শুনতে পেয়েছিলেন: “হে প্রিয় মোহাম্মদ (দঃ), আপনি একটু থামুন, আপনার রব সালাত পাঠ করছেন”। আল্লাহর সাথে দীদারের সময় নবী করিম (দঃ) এ দু’টি বিষয়ের রহস্য জানতে চাইলেন। আল্লাহ তায়ালা বললেন, আমার সালাত অর্থ আপনার উপর দরূদ পাঠ করা।
আরশ মোয়াল্লা হতে এবার লা-মাকানের দিকে-অজানার পথে রওনা দিলেন নবী করিম (দঃ)-যেখানে স্থান, কাল বলতে কিছুই নেই। সমগ্র সৃষ্টিজগতই তখন নবীজীর কদমের নীচে। আসমান, জমিন, চন্দ্র-সূর্য্য আরশ কুৰ্ছি-সবকিছু, এমন কি-আলমে খালক (সৃষ্টি জগত) ও আলমে আমর (নির্দেশ জগত) সবকিছুই তখন নবী করিম (দঃ)-এর পদতলে রয়ে গেল। তিনি সমস্ত কিছু অতিক্রম করে আল্লাহর এত নিকটবর্তী হলেন যে, দুই ধনুকের চার মাথার ব্যবধান বা তার চেয়েও কম ব্যবধান রয়ে গেল। এটা রহস্য জগত। এ অবস্থাকে মুতাশাবিহাত বা দুর্বোধ্য অবস্থা বলা হয়।
অর্থ-“নবী করিম (দঃ) লাইলাতুল মি’রাজে কোন স্থানে বা সৃষ্টি জগতে সীমাবদ্ধ ছিলেননা। কেননা, তখন তিনি তাঁর জড় অস্তিত্বের অন্ধকার ভেদ করে ফানা হয়ে আল্লাহর নূরের অস্তিত্বে অস্তিত্ববান হয়েছিলেন। এ কারণেই কোরআন মজিদে (সুরা মায়েদা-১৫ আয়াত) আল্লাহ তায়ালা তাঁকে ‘নূর’ বলে আখ্যায়িত করে এরশাদ করেছেন, হে জগতবাসী, তোমাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ হতে প্রথমে এক মহান নূর ও পরে একটি স্পষ্ট কিতাব এসেছে”।
বুঝা গেল- তিনি দুনিয়াতে আগমনকালেই নূর ছিলেন- মাটি নয়। যারা মাটি বলে-তারা ভ্রান্ত। (তাফসীরে রূহুল বয়ান পৃঃ ৩৯৫ তৃতীয় পারা ১ম আয়াত)। উক্ত আয়াতের পূর্ণ বিকাশ হয়েছিল “ক্বাবা কাওছাইন” মাকামে।
শেষে রাসূলে পাক্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর সাথে ঘুরে ঘুরে জান্নাত জাহান্নাম দেখলেন, ওখানে কে কি করছে সবকিছু স্বচক্ষে দেখে তিনি উম্মতের জন্য ৫০ ওয়াক্ত নামাজের বদলে ৫ ওয়াক্ত নামাজ উপহার হিসেবে উম্মতের জন্য নিয়ে আসলেন।
যারা মি’রাজ কে অস্বীকার করতে চায়, তাদের কাছে প্রশ্ন একটাই, আগে তো নামাজ ছিলো না,তাহলে নামাজ আসলো কেমনে ৫০ ওয়াক্তের জায়গায় ৫ ওয়াক্তে???
আল্লাহ্ আমাদের সবাই কে সঠিক জ্ঞান দান করুক এবং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আত তথা সুন্নী আকিদার উপর অটল থাকার ও সুন্নী জামাতের ছায়াতলে আসার তৌফিক দান করুক, আমিন।
সাংগঠনিক সম্পাদক: আন্-নূর ফাউন্ডেশন







Discussion about this post