গত ১৭/৮/২০২২ ইং রোজ বুধবার সন্ধ্যে চট্টগ্রামস্থ “বিপ্লব উদ্যানে”সবুজের সমারোহে ভিন্ন আঙ্গিকে এক কবিতা পাঠ ও সাহিত্য আড্ডা সম্পন্ন হয়।
সাহিত্য আড্ডায় আলোচনার বিষয় ছিল ” বর্তমানে কবিতার শরীর ভাল যাচ্ছে না”। কলম একাডেমি লন্ডন চট্টগ্রাম বিভাগের সাধারন সম্পাদক কবি ও প্রাবন্ধিক মোহাম্মদ কামরুল ইসলামের সঞ্চালনায় ও বিভাগীয় সভাপতি কবি কুতুব উদ্দিন বখতেয়ারের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন যথাক্রমে কবি,নজরুল গবেষক এবিএম ফয়েজ উল্লাহ,কবি ও রম্য লেখক নিযাম উদ্দিন,কবি আরিফ চৌধুরী, গবেষক,কলাম লেখক অভিজিৎবড়ুয়া,কবি আলমগীর হোসাইন,কবি তৌফিকুল ইসলাম,কবি আবু সুফিয়ান সহ প্রমুখ।
ধারাবাহিক আলোচনায় অংশ নিয়ে মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন,কবিতা শব্দ প্রয়োগের ছান্দসিক কিংবা অনিবার্য ভাবার্থের বাক্যবিন্যাস কবির আবেগ,অনুভূতি উপলব্ধি,চিন্তা করার সংক্ষিপ্ত রূপ ও তা অত্যাবশ্যকীয় ভাবে উপমা উৎপ্রেক্ষা চিত্র কল্পের সাহায্যে আন্দোলিত সৃষ্টির উদাহরণ।
অন্যদিকে সাহিত্য-Literature শিল্পের একটি বড় অংশ শিল্পের ছোঁয়া দিয়ে একটি সাধারণ লেখনীকে যখন অন্যসব লেখনী থেকে আলাদা করে তোলা হয় তখনই তা সাহিত্য হয়।
সেই সাহিত্য তার পুর্বের জৌলুস হারিয়েছে,হারিয়েছে কবিতা তার স্বাভাবিক গতিময়তা।
তিনি আরও বলেন,বর্তমানে কবিতার যে শরীর নির্মাণ হয় সে কবিতার শরীরে এখন গেঁথে থাকে না শক্তিশালী কোন মানবেতিহাস,প্রেম,বিরহ কষ্ট যাতনা, সংস্কৃতি পুঁজিবাদ, নিপীড়ন,শোষণ ও জীবন বোধের নানান অনুষঙ্গ থাকে শুধু ঠুনকো নিজস্ব ভাবনা।
তাই বর্তমানে কবির কবিতায় পাঠক আন্দোলিত হয় না। কবির কবিতায় সংস্কৃতি,নানা নিপীড়ন শোষণ,আর সমাজ উন্নয়নে ও সচেতনতা থাকে না কোন বার্তা।বর্তমানে যেসব কবিতা রচিত হচ্ছে তম্মধ্যে বেশির ভাগ কবিতা মানহীন।
কবি ও গবেষক এ বিএম ফয়েজ উল্লাহ বলেন,কবিতার চর্চা মানুষকে সেইসব সময়ে বেশি করতে হয় যখন স্বার্থ পরতা ও হিসাব-নিকাশের বাড়াবাড়ির কারণে সুখের তুলনায় সম্পদের সংগ্রহ বেশি ভারী হয়ে পড়ে।সমাজ যখন দুষিত হয়,তখন সমাজের শোষণ নির্যাতন নানা অসংগতি
তুলে কবিরা মানুষকে জাগ্রত করবে তা এই সময়ে করতে কবিরা ব্যর্থ হচ্ছে।কবি আরিফ চৌধুরী বলেন,সাহিত্যের প্রতি মানুষের ভালবাসা বাড়ছে,একদিন সুদিন আসবে।ভাল কবি ও লেখককে আমাদের পৃষ্ঠপোষকতা করা উচিত।গবেষক ও রম্য লেখক মুহাম্মদ নিযামুদ্দীন বলেন,যে
সাহিত্য বর্তমানে রচিত হচ্ছে বিশেষত মানহীন কবিতা তা বাংলা সাহিত্যে গৃহীত হবে না। এসব কবিতার মান উন্নয়নের কোন বিকল্প নেই।তিনি কবি আল মাহমুদ ও বিভিন্ন কবির কবিতা ব্যাখ্যা
করে বলেন,আমাদের গবেষনার কোন বিকল্প নেই।তিনি আর ও বলেন যে কবির কবিতা পাঠককে ভাবাতে ব্যর্থ হয় তা কবিতা নয়।গবেষক ও কলাম লেখক অভিজিৎ বড়ুয়া বলেন,যারা
কবিতা বুঝে না তারা অন্যদেরকে খুশী করতে দৈনিক, সাপ্তাহিক সনদ ও শ্রেষ্ট কবি সম্মাননা প্রদান যা সাহিত্য এর জন্য ক্ষতিকর।তিনি জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে সাহিত্য চর্চা করার উপর
গুরুত্ব আরোপ করেন। পরিশেষে সাহিত্যের বর্তমান অবস্থা বর্ননা করে সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে সভাপতি তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।







Discussion about this post