কলমের কথা কে না জানে। কলম এমন একটি নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস যার প্রয়োজন রয়েছে সবখানে। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে কলমেও। প্রযুক্তির উৎকর্ষে হাতে হাতে মোবাইল কিংবা ল্যাপটপ, কম্পিউটার অনেকটাই কলমের কাজ করে দিচ্ছে, তাই বলে কলমের চাহিদা বা প্রয়োজন এতটুকুও কমেনি।কলম আবিষ্কারের পেছনে রয়েছে বিস্তৃত ইতিহাস।কলমের ইতিহাস প্রায় ৫ হাজার বছরের পুরানো।সেই কলম নয়, কলমকে ধারন কারী আন্তর্জাতিক কলম সাহিত্য সংসদ লন্ডনের বিস্তৃত কর্মকান্ডের মধ্যে খানিকটা কর্মকান্ড নিম্ম আলোচিত।এই কলম সাহিত্য সংসদ লন্ডন এর জম্ম প্রায় বছর দশেক আগে।জন্মের পর থেকে বিশ্বব্যাপী সংগঠনকে বিস্তৃত ও গতিশীল করতে উদ্যোগ গ্রহন করা হয়।জন্মের প্রায় পাঁচ বছর পর থেকে বিশ্ব ব্যাপী সাহিত্য ও মানব কল্যানে বিভিন্ন কর্মকান্ড গ্রহন করা হয়,সেই থেকে শুরু। কর্মকান্ড শুরু হয় বিলেতের মাটি থেকে অধ্যাপক নজরুল ইসলাম হাবিবীর হাত ধরেই।কর্মকান্ড চলছে,আগামীতে এই সংগঠনের কর্মকান্ডে মুখরিত হবে পুরো বিশ্ব,জয় হবে মানবতার,প্রচার প্রসার হবে বাংলা ভাষা।
অক্ষরে অমরতা” শ্লোগানের পতাকাবাহী,আন্তর্জাতিক সাহিত্য ও সমাজসেবামূলক সমাদৃত ও অন্বিত সংগঠন ‘কলম সাহিত্য সংসদ লন্ডন’ এর সৌজন্যে, চলতি ২০২১ সালে হাসান আলী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে কলম- হাসান আলী পুরস্কার -২০২১ ঘোষনা করা হয়। এ বছর পাঁচজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে তাঁদের স্ব স্ব ক্ষেত্রে অবদানের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে সাহিত্য পুরস্কার দেয়া হয়।আমরা জানি,কলম সাহিত্য সংসদ লন্ডন একটি মানবসেবামূলক সংগঠন এখানে সাহিত্যের নামে বিশ্বব্যাপী জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও দল মত নির্বিশেষে লেখকবৃন্দকে অসম্প্রদায়িক লেখক হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ও বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় কলমের সংগঠন রয়েছে।এটি অন্যান্য সাহিত্য গ্রুপ ভিত্তিক কোন সংগঠন নয়,অন্যান্য সাহিত্য গ্রুপ বা সংগঠনের মত এই সংগঠন কোন দৈনিক,সাপ্তাহিক সাহিত্য পুরস্কার প্রদান করে না বা এই ধরনের কর্মকান্ডের প্রয়োজন অনুভব করে না।এই সংগঠনটি সাহিত্য ও মানবিক সংগঠন হিসাবে ইতিমধ্যে যে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে তা বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল।
এই সংগঠনের পক্ষে অনেক সেবামূলক কর্মকান্ড করা হয়েছে,প্রতিনিয়ত এই কর্মকান্ড চালু রয়েছে।এতিম বা গরিবদের জন্য শিক্ষা বৃত্তি, চিকিৎসার জন্য সংগঠনের সদস্য ও সাধারন মানুষকে অনুদান,স্কুল,কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য ছাত্র/ছাত্রীদেরকে প্রতি বছর অনুদান দেওয়া হয়ে থাকে। জানা যায়,প্রতি বছর সংগঠনের পক্ষে বন্যা দুর্গত এলাকায় ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। শীতে প্রতি বছর গরীবদের মধ্যে শীতের কাপড় বিতরণ করা হয়।পবিত্র কুরআন মাজিদ সহ বিভিন্ন বইপুস্তক বিতরণ করা হয়। মেধাবী অথচ গরীব লেখদের আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়। তাহা ছাড়া ইতিমধ্যে সংগঠন কর্তৃক “কাব্যফুল” উপাধিপ্রাপ্ত গণ-মাধ্যমকর্মী মোঃ কামরুল ইসলামের সঞ্চালনায় “কলম টিভি”কর্তৃক জনপ্রিয় টকশো “কলমের টকশো, এলমের টকশো” মাধ্যমে “সাহিত্যের বাতিঘর”খ্যাত অধ্যাপক নজরুল ইসলাম হাবিবী লেখক মন্ত্রণালয়’ প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন যা এই প্রথম এর আগে বাংলাদেশ সহ পৃথিবীর কেউ কবি লেখকদের পক্ষে এই ধরনের দাবি উপস্হাপন করেননি। এতে লেখক,কবিদের জন্য নির্ধারিত কোটা, ফ্রি শিক্ষা ও চিকিৎসা প্রদানের দাবি ও জানানো হয়েছে। এই সংগঠনের পক্ষে প্রতি বছর ১৮ সেপ্টম্বরকে “বিশ্ব লেখক অধিকার দিবস” পালনের জন্য সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক সবাইকে অনুরোধ জানিয়েছেন।
কলম সাহিত্য সংসদ লন্ডন বাংলাদেশ ও বৃটিশ সরকার কর্তৃক রেজিস্ট্রার্ড একটি সংগঠন হওয়া সারা বিশ্বে মানবতার জন্য,মানুষের জন্য কাজ করতে সক্ষম। এটি একটি শতভাগ অলাভজনক সংগঠন। এই সংগঠনের শ্লোগান “অক্ষরে অমরতা”। গত ২০২০ সালে কলম সাহিত্য সংসদ লন্ডন চট্টগ্রাম বিভাগ কর্তৃক সর্বপ্রথম এই সংগঠনের শ্লোগানকে ধারন করে মোঃ কামরুল ইসলাম ও কুতুবউদ্দিন বখতেয়ারের সম্পাদনায় স্বনামধন্য কবিদের কবিতা নিয়ে “অক্ষরে অমরতা” নামে একটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয় যা ইতিমধ্যে কবিমহলে প্রসংশা অর্জন করেছে।
“অক্ষরে অমরতা” শ্লোগানের পতাকাবাহী, আন্তর্জাতিক সাহিত্য ও সমাজসেবামূলক সংগঠন ‘কলম সাহিত্য সংসদ লন্ডন’ বাংলা ভাষা এবং সংগঠনের পতাকাকে বহির্বিশ্বে বয়ে নেবার মাধ্যমে ‘ বিশ্ব লেখক অধিকার’ আদায়ের লক্ষ্যে তরুণ ক্রিকেটার, বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব ১৯ দলের সফল সহ-অধিনায়ক রাশেদ আহমদকে ২০২২ সালের জন্য এম্বাসেডর নিয়োগ করা হয়েছে।কেননা ‘কলম সাহিত্য সংসদ লন্ডন’ একটি সেচ্ছাসেবী সংগঠন। এখানকার কোন সদস্যকে কোন প্রকার আর্থিক সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয় না। কোন সদস্য ‘কলম সাহিত্য সংসদ লন্ডন’- কে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যবহার করার অধিকার ও সংরক্ষণ করেনা।তাহা ছাড়া এই সংগঠনের পক্ষে প্রতিমাসে কলমের আয়না এনে প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক বিভিন্ন কবি লেখককে তাদের জীবন,দর্শন লেখালেখি ও সাহিত্যকর্মকে বিশ্বময় পরিচয় করিয়ে দেন এর মাধ্যমে মুলত সংগঠনের কবি লেখককে উৎসাহিত করা হয়।ইতিমধ্যে কলমের ইংরেজি ভার্সনের জন্য একটি মডারেটস গ্রুপ করা হয়েছে। বিশ্বের লেখক, সাহিত্যিক ও সাংবাদিকগণ বাংলা ভাষার উজ্জ্বল বর্ণালী দেখে যেন বিশ্বাস করতে পারে বাংলাভাষা অনেক সমৃদ্ধ।তাহা ছাড়া সংগঠনের দশম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে বিশ্ব ময় সংগঠনের সদস্য ও নেতৃবৃন্দের সর্বসম্মতিতে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক নজরুল ইসলাম হাবিবীকে “সাহিত্যের বাতিঘর” উপাধি দেয়া এই ছাড়াও গত বিশ্ব কবিতা দিবসে মোঃ কামরুল ইসলামকে “কাব্যফুল” উপাধিতে ভুষিত করে সংগঠনের পক্ষে উভয়কে সম্মানিত করা হয়।
কলম সাহিত্য সংসদ মনে করে,সংগঠন মানুষকে উদার হতে শিক্ষা দেয়।আর প্রকৃত সংগঠক তিনি যিনি সাংগঠনিক নেতৃত্বকে মেনে তার উপর অর্পিত যে কোন দায়িত্বকে যথাযথ ভাবে পালন করে।অর্পিত দায়িত্বের বাহিরে না গিয়ে নিজস্ব সাংগঠনিক বলয়ের মধ্যে থেকে সংগঠনকে গতিশীল করে।এই ক্ষেত্রে সুস্থ ও সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে ও শিক্ষা,সাহিত্য, সংস্কৃতি বিস্তারে ও মানব কল্যানে কাজ করছে ‘কলম সাহিত্য সংসদ লন্ডন’।কলমের কলমী শক্তি কবি বা লেখক তাদের দাবি আদায়ে ও বাংলা ভাষার প্রসারে কাজ করছে এই সংগঠন।
সুস্থ সমাজ গঠনে,মানব কল্যানে শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশে এই সংগঠনের বিকল্প নেই।”সাহিত্যের বাতিঘর” অধ্যাপক নজরুল ইসলাম হাবিবীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টার ফল আজকের কলম -‘কলম সাহিত্য সংসদ লন্ডন’।
যে মালা গাঁথে তার নিষ্ঠা, ধৈর্য,ধ্যান,দক্ষতা অন্য কারও চেয়ে কম নয়। কোন একটা বাদ গেলে মালা গাঁথা হয়ত সম্পন্ন হবে, কিন্তু সেই মালা সুন্দর হবে না,থাকবে না তাতে স্হায়িত্ব সেইটি যে মালা গাঁথে সেইই বুঝে।অন্যরা তা বুঝে না যা স্বাভাবিক।এটি পৃথিবীর বাস্তবতা।সে দিক থেকে প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক যথেষ্ট আন্তরিক।
আমরা জানি,সংগঠন বয়ে চলে সেই তানপুরার সুরের মত। কখন ও তা মধুর, কখনও করুণ, কখনও সুরেলা,কখনও দুঃসময়ের আওয়াজ তাতে অনুরণিত হতে পারে তবে তার সঠিক আওয়াজ সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে উপযুক্ত ব্যবস্হা যিনি কারিগর তিনিই নেন এবং তিনিই বুঝেন।
এই ক্ষেত্রে সংগঠন পরিচালনার জন্য বড্ড প্রয়োজন উচ্চ শিক্ষিত, দক্ষ,সৎ,নীতিবান,উদার ও পরিশ্রমী নির্দেশক।সেই ক্ষেত্রে কলম একধাপ এগিয়ে। এই সংগঠন অন্যের সিদ্ধান্তকে সম্মান করতে শিক্ষা দেয়।মানুষের জীবনের পরিধি বিস্তৃত করে,মানুষকে স্বপ্ন দেখায়,আত্মবিশ্বাসী করে কাজের প্রেরণা ও বেঁচে থাকার সাহস জোগায়।
আগে উল্লেখ করা হয়েছে,এই সংগঠন দৈনিক,সাপ্তাহিক কবি সনদ দেয় না বিশ্বাস ও করে না তবে প্রকৃত কবি,লেখক তৈরীতে ভুমিকা রাখে।এই সংগঠনের নিবেদিত প্রাণ (কর্মী ) মোঃ কামরুল ইসলাম মনে করেন যারা এই সংগঠনকে ভালবাসবে অন্তর থেকে তার সংখ্যা কম হলেও সংগঠন গতিশীল হতে বাধ্য। এখানে প্রকৃত প্রেমিকের অভাব নেই এখানে সতত বসে ভালোবাসার মেলা।তিনি মনে করেন স্বার্থপরতার ঘুর্ণিতে সবাই ঘুরছে।এর থেকে বেরিয়ে যারা কলমকে ভালবাসবে বিনিময় ছাড়া আর এই ধরনের সংগঠকই পারে
সব ভেদাভেদ ভুলে বিজয়ের পতাকা হাতে নিতে।বেশি দিন দুরে নয়-সুদিন আসবেই কলম হবে বিশ্ব সেরা।
কলম সাহিত্য সংসদ চায় জাতির কল্যাণে সুন্দর এবং পবিত্র সাহিত্য সৃষ্টি হোক যা হবে মানুষের কল্যানের জন্য, সমাজের জন্য, বিশ্বের জন্য,শব্দের মধ্যে, অক্ষরের মধ্যে সংগঠনটি অমরতা চায়। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা মনে করেন সংগঠনের মাধ্যমে এমন কিছু করতে হবে যা হবে পরকালের সম্বল। তাই এই সংগঠনকে বলা হয়, “দুই জাহানের সংগঠন”। লেখা দিয়ে, কথা বা কবিতা দিয়ে সাহিত্য ও সমাজ সেবার মাধ্যমে পৃথিবীতে অমর হতে চায় বলে এই সংগঠনের শ্রোগান “অক্ষরে অমরতা”।
এই সংগঠন ও সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা আরো মনে করেন বিশ্বময় জয় হোক বাংলা ভাষা। সারা পৃথিবীতে বাংলাভাষা হোক সম্মানিত, অন্বিত ও সমাদৃত।এরই মাঝে একটু হাসি ফুটে উঠুক অবহেলিত,লাঞ্ছিত, ক্ষুধার্ত কোন অসহায় এতিমের মুখে। সার্থক হোক সংগঠনের শ্লোগান “অক্ষরে অমরতা”।
সাহিত্য চর্চা ও সাহিত্যের প্রভাবে হৃদয়ের দ্বারা হৃদয়ের যোগ অনুভব হয়, হৃদয়ের প্রবাহ রক্ষা হয়, হৃদয়ের সহিত হৃদয় খেলতে থাকে, হৃদয়ের জীবন ও স্বাস্থ্য-সঞ্চার হয়। সাহিত্য চর্চা করণ মানে একত্রে থাকিবার ভাব মানবের ‘সহিত’ থাকিবার ভাব—মানবকে স্পর্শ করা, মানবকে অনুভব করা মাত্র।সাহিত্যের প্রভাবে হৃদয়ে হৃদয়ে শীতাতপ সঞ্চারিত হয়, বায়ু প্রবাহিত হয়, ঋতুচক্র ফিরে আসে,গন্ধ, গান ও রূপের হাট বসে। মানব কল্যান নিয়ে আলোচনা হয়,বাস্তবায়নে পরিকল্পনা গ্রহন করা হয়।কলম সাহিত্য সংসদ লন্ডন এই সাহিত্য চর্চার পাশাপাশি মানব কল্যান মুলক কর্মকান্ড বাস্তবায়ন করছে।তাই এক কথায় বলা যায় কলম সাহিত্য সংসদ লন্ডন সাহিত্য ও মানবিক কর্মকান্ডে অনন্য।
জয় হোক কলম সাহিত্য সংসদ লন্ডন,জয় হোক কলমের।






Discussion about this post