কাগতিয়া দরবার শরীফে পবিত্র শোহাদায়ে কারবালা (রা.) স্মরণে ৭৪তম আশুরা মাহফিল উদযাপিত
পবিত্র আশুরার ফজিলতে সমৃদ্ধ হযরত গাউছুল আজম (রা.) এর তরিক্বত – মাননীয় মোর্শেদে আজম (মা.জি.আ.)।
নিউজ ডেস্ক : যুগে যুগে মানুষকে হেদায়তের জন্য অসংখ্য নবী ও রাসূল পৃথিবীতে এসেছেন। ছৈয়্যদুল মুরসালিন হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (দ.) সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী। প্রিয় নবী (দ.) এর পর আর কোনো নবী আসবেন না, ফলশ্রুতিতে মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বানের এ মহান দায়িত্ব পালন করছেন আউলিয়ায়ে কেরামগণ। এরই ধারাবাহিকতায় আমরা পেয়েছি খলিলুল্লাহ, আওলাদে মোস্তফা, খলিফায়ে রাসূল (দ.) হযরত শায়খ ছৈয়্যদ গাউছুল আজম (রা.)-কে। তিনি এমন এক তরিক্বত প্রবর্তন করেছেন যেখানে কুরআন ও সুন্নাহর কোন ব্যত্যয় নেই। প্রিয় রাসূল (দ.) বলেছেন, ‘আমি তোমাদের জন্য দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি এই দুটি বিষয় আঁকড়ে ধরলে কখনো পথভ্রষ্ট হবে না, একটি হলো আল্লাহর কিতাব অন্যটি হলো আমার আহলে বাইত’। আহলে বাইতের প্রতি ভালোবাসার নিদর্শনস্বরূপ শোহাদায়ে কারবালা স্মরণে কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজম দরবার শরীফে পবিত্র আশুরা মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। হযরত গাউছুল আজম (রা.) এর তরিক্বতের মূল বিষয় হলো নবীজির প্রতি পূর্ণ এত্তেবা ও ভালোবাসা। যে তরিক্বতে রয়েছে প্রতিদিন এগারোশত এগারো বার দরূদ শরীফ, ফয়েজে কুরআন, মোরাকাবা, জিকিরে জলী ও জিকিরে খফির ব্যবস্থা। ইসলামের সম্মানিত চার মাসের মধ্যে মুহররম অন্যতম। মুহররমের দশম দিন আশুরা নামে পরিচিত। মহান আল্লাহ বিভিন্ন মনীষীকে কঠিন কঠিন মুসিবত থেকে এই দিনেই পরিত্রাণ দেন। এই দিনেই ইতিহাসের সবচেয়ে হৃদয় বিদারক-নির্মম ঘটনার সাক্ষী হয় পৃথিবীবাসী। এ দিনেই প্রিয় নবী (দ.) এঁর প্রাণপ্রিয় দৌহিত্র ইমাম হুসাইন (রা.)-কে শহিদ করা হয়। প্রিয় রাসূল (দ.) এঁর প্রাণপ্রিয় দৌহিত্রের শাহাদাতের মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যুগে যুগে যারাই আল্লাহ ও রাসূল (দ.) এর পথে থাকবে তারাই বিভিন্নভাবে আঘাতের শিকার হবে। কারবালার করুণ ঘটনার মাধ্যমে তারই প্রতিফলন ঘটে।
গতকাল (২৫ জুন) বৃহস্পতিবার বাদে জোহর হতে চট্টগ্রামের কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজম দরবার শরীফে অনুষ্ঠিত পবিত্র শোহাদায়ে কারবালা (রা.) স্মরণে ৭৪তম আশুরা মাহফিলে মাননীয় মোর্শেদে আজম মাদ্দাজিল্লুহুল আলী ছাহেব প্রধান মেহমানের বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য এবং মুনিরীয়া যুব তবলিগ কমিটি বাংলাদেশের মহাসচিব প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আবুল মনছুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মাহফিলে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. জালাল আহমদ, কাগতিয়া এশাতুল উলুম কামিল এম.এ. মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ বদিউল আলম, মাওলানা মুহাম্মদ আবদুস সবুর ও মাওলানা মুহাম্মদ গোলাম রব্বানী ফয়সাল।
মিলাদ-কিয়াম শেষে মাননীয় প্রধান মেহমান দেশ, জাতি ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি-সমৃদ্ধি এবং কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজম দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা হযরত শায়খ ছৈয়্যদ গাউছুল আজম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর ফুয়ুজাত কামনা করে বিশেষ মুনাজাত পরিচালনা করেন।






Discussion about this post