বিশেষ প্রতিনিধি- শাহেদ সরওয়ার : সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্যিক নগরী দুবাইয়ে আজ থেকে জমকালো আয়োজনে শুরু হয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম খাদ্য ও পানীয় খাতের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ‘গালফুড ২০২৬’। পাঁচ দিনব্যাপী এই মেলার ৩১তম আসরটি একযোগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে দুবাই ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার এবং এক্সপো সিটির দুবাই এক্সিবিশন সেন্টারে। মেলাটি চলবে আগামী ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) উদ্বোধনী দিনে এক্সপো সিটির দুবাই এক্সিবিশন সেন্টারে অবস্থিত ‘বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন’ আলাদাভাবে উদ্বোধন করেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিযুক্ত বাংলাদেশের মান্যবর রাষ্ট্রদূত জনাব তারেক আহমেদ। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন দুবাইস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট এর কনসাল জেনারেল জনাব মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) পরিচালক (মেলা) জনাব মোঃ ওয়ারেস হোসেন, কমার্শিয়াল কাউন্সেলর জনাব আশীষ কুমার সরকার, সহকারী সচিব বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জনাব মোঃ আব্দুল কাদের’সহ বাংলাদেশ মিশনের অন্যান্য কর্মকর্তাগণ। এছাড়াও মেলায় অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশি কোম্পানিসমূহের প্রতিনিধিবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মীসহ মেলায় আগত বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী উপস্থিত ছিলেন।।
এবারের গালফুড মেলায় বিশ্বের ১৯০টিরও বেশি দেশ থেকে প্রায় সাড়ে আট হাজারেরও বেশি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে অংশগ্রহণ করেছে ৩৪টি প্রতিষ্ঠান, যা আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের খাদ্য ও কৃষিপণ্য খাতের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতার প্রতিফলন।
বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য, হিমায়িত খাবার, স্ন্যাকস, মসলা, চাল, জুস ও বিভিন্ন পানীয়সহ কৃষিভিত্তিক নানাবিধ মূল্য সংযোজিত পণ্য প্রদর্শন করা হচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশের কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। তৈরি পোশাক খাতের বাইরে রপ্তানি ঝুড়িকে বৈচিত্র্যময় করতে এই খাতটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
গালফুড মেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে বিটুবি (B2B) নেটওয়ার্কিং করার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ পাচ্ছেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই মেলায় অংশগ্রহণ কেবল নতুন রপ্তানি আদেশ অর্জনেই সহায়ক হবে না, বরং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের হালাল খাদ্যপণ্য ও কৃষিপণ্যের একটি শক্তিশালী ব্র্যান্ড ইমেজ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত তারেক আহমেদ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সরকারের নীতিগত সহায়তা এবং উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবনী উদ্যোগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মান ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে বাংলাদেশ বিশ্ব খাদ্য বাজারে তার অবস্থান আরও সুসংহত করতে সক্ষম হবে।







Discussion about this post