যীশু সেন, বিশেষ প্রতিনিধি :
রাউজান প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভা যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে রাউজান পৌরসভার জলিলনগরস্থ রাউজান প্রেস ক্লাবের স্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এ সভায় স্থানীয় সাংবাদিক সমাজের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। জাতীয় দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরতে গিয়ে বক্তারা স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন রাউজান প্রেস ক্লাবের সভাপতি প্রদীপ শীল। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন রাউজান প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নেজাম উদ্দিন রানা। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান, যুগ্ম-সম্পাদক শাহাদাত হোসেন সাজ্জাদ, অর্থ সম্পাদক আনিসুর রহমানসহ রাউজান প্রেস ক্লাবের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, মহান স্বাধীনতা দিবস বাঙালি জাতির গৌরব, আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের প্রতীক। ১৯৭১ সালে দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত এই স্বাধীনতা আমাদের জাতীয় জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন। তারা বলেন, স্বাধীনতার মূল চেতনা ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন, উন্নত ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। এজন্য সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ হিসেবে কাজ করেন। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কলম ধরাই তাদের প্রধান দায়িত্ব। স্বাধীনতার চেতনাকে ধারণ করে গণমাধ্যমকর্মীদের নিরপেক্ষ ও সাহসী ভূমিকা পালন করতে হবে। তারা তরুণ প্রজন্মকে দেশের ইতিহাস জানার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
সভায় উপস্থিত বক্তারা দেশের বর্তমান উন্নয়ন অগ্রযাত্রার কথা তুলে ধরে বলেন, এই অগ্রযাত্রা টেকসই করতে হলে দুর্নীতি, অন্যায় ও সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। একই সঙ্গে স্বাধীনতার সুফল যেন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছেও পৌঁছে যায়, সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
আলোচনা সভা শুরুর আগে রাউজান প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে উপজেলা সদরের স্বাধীনতা স্মৃতি স্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়। এ সময় উপস্থিত সকলেই নীরবতা পালন করে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের আত্মত্যাগ স্মরণ করেন।
সমগ্র আয়োজনটি ছিল সুশৃঙ্খল ও হৃদয়স্পর্শী। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধ জাগ্রত করার ক্ষেত্রে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন উপস্থিতরা। অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্বাধীনতার মহান আদর্শ পুনরায় স্মরণ করা এবং তা বাস্তব জীবনে প্রয়োগের অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।







Discussion about this post