নজরুল ইসলাম হাবিবী
ইংল্যান্ডের ক্রিকেট বিজয়ে
অনেকেই আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। আযম চৌধুরী সরাসরি পোস্ট দিয়েছে। আমার এই লেখাটি আযমকে উৎসর্গ করতে চাই।
ইংল্যান্ডের বিজয়ে আপনাদের মত আমিও আনন্দিত! তবে, আমাদেরকে জানতে হবে
বাংলাদেশের অর্জন মোটেও কম নয়। বিশ্বে শত শত রাষ্ট্রের মধ্যে দশ সেরাদের বাংলাদেশ একটি।
আমেরিকা বিশ্ব শাসন করে, অবশ্য শোষণ করে না, কিন্তু দেশটির এগার জন ক্রিকেটার নেই। নেই ফুটবলারও। বিশ্বের অনেক দেশ আছে রাতারাতি যুদ্ধ করে দেশের মানচিত্র বধ করে, বদলে দেয়, কিন্তু ক্রিকেটে তাদের অবস্থান বাংলাদেশ থেকে পিছিয়ে। এমন দেশ আছে যারা ভেটো দিয়ে ভোট বাতিল করে, বুট দিয়ে বুক টুটে দেয়, যাদের প্রতাপে বিশ্ব কাঁপে, বিশ্বকাপে তো দূরের কথা নিজের দেশেও তাদের অবস্থা তথৈবচ।
কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেট সেই পরাক্রান্ত পরাশক্তিকে মরাশক্তি করে ছেড়েছে বহুবার। বিশ্বের সেরাদশ বাংলাদেশের কাছে বিভিন্ন ভাবে হেরেছে। আমরা সহজ জয় বুঝি, কঠিন বিজয় বুঝি না।
আমি অবশ্য ক্রিকেটের মোটেই অনুরাগী নই। আকরাম খানেরা যখন খেলতেন, তখন বাংলাদেশ ইংল্যান্ডে এলে মাঠে গিয়েছিলাম একবার খেলা দেখার জন্য। মনে হয় সে বছর বাংলাদেশ এশিয়া কাপ জিতেছিল। সম্ভবত খেলা হয়েছিল মালেশিয়ায়। আমি দৈনিক আজাদীতে একটি কবিতা লিখেছিলাম। কবিতার নাম ছিল ‘আকরাম বাহিনী’। কবিতাটির প্রথম লাইন ছিল: “আকরাম বাহিনী!
বিশ্বটা জেনে গেল বিজয়ের কাহিনী”!
তখন অধিনায়ক সম্ভবত সুজন ছিলেন। আমি দৈনিক পূর্বকোণের জন্য সুজন ভাই থেকে ইন্টারভিউ নিয়েছিলাম। তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, “কে জিতলে আপনি খুশি হবেন”? তিনি উত্তরে বলেছিলেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজের কথা। আমি খুবই দুঃখ পেয়েছি, লজ্জিত হয়েছি নিজের কাছে। তারা এসেছেন খেলার জন্য, জয় করার জন্য। এখন দেখলাম, খেলার আগেই পরাজয় মেনে নিলেন। শক্ত কন্ঠে উচ্চারণ করতে পারতেন “আমরা জিততে এসেছি, আমরা বাঙালি”!
আমিও জানি বাংলাদেশ তখন অনেকটাই অদক্ষ। কিন্তু সে কথা খেলোয়াড়দের মনে থাকবে কেন? তারা দেশ জয় করতে এসেছেন। তারা যুদ্ধের মাঠে। একজন সৈনিক কী ভাবে যুদ্ধের ময়দানে পরাজয়ের কথা ভাবতে পারেন ? সৈনিকের মনের শ্লোগান “ডু অর ডাই-মার অথবা মর”।
আমি জানি আমার মা গরীব অথবা বেশি সুন্দরী নন; সে কথা কী আমি বাজারে বলে বলে বেড়াতে পারি? এক সেকেন্ডের জন্যও যদি আমি ভাবি যে, আমার মা কোন কারণে সমাজের কাছে একটু বেমানান, তা হলে আমার পাপ হবে। ক্ষমা হীন পাপ।
গুগল আর বৃটিশ পন্ডিতেরা বলে থাকেন, “ক্রিকেটের জন্মভূমি ইংল্যান্ড”। আমার মতে তা সত্য নয়। এ কথাটি আমি আমার লেখা ‘কথার নাম লতা’ বইতে বিশ বছর আগেও বলেছি। আমি বিশ্বাস করি, ক্রিকেট এসেছে বাংলাদেশ থেকে। বাংলাদেশের ডাংগুটি খেলার চারআনা সংস্করণের নাম ক্রিকেট। যারা ছোট বেলায় ডাংগুটি খেলেছেন, তারা একটু বলুন দেখি, ডাংগুটি আর ক্রিকেটের মধ্যে পার্থক্য কী?
আমি অনেক অনেক ডাংগুটি খেলতাম। ছোট বেলায় খেলাধুলার জন্য আপনাদের মত আমিও প্রচুর মার খেয়েছি। আমার খেলাধুলা ছিল স্কুল পালানোর ‘ভদ্র তরিকা’। স্কুলে আসার পথে খেলতাম বেশি, যাতে স্কুলে যেতে না হয় বা বিলম্ব হয়।
পাঠক, আমার ছবিটি লক্ষ্য করুন, ঠোঁটের নিচের দিকে তাকান, দুটোই ডাংগুটি খেলার বরকতের নিশানা। এর একটি আমার জেঠাতো ভাই শাহ আলম, অন্যটি আমার সেজ ভাই ফজলুল কাদেরের অবদান।
শাহ আলম ডাংগুটির ডাট দিয়ে আমাকে আঘাত করেছিল খেলায় পরাজয়ের কষ্টে। সেজ ভাই হারিকেন ছুঁড়ে মেরেছিলেন সে দিন দুপুরে দোকানের কর্মচারীদের জন্য খাবার নিতে বিলম্ব করেছি বলে।
মন্দ কী! আমার ডাংগুটি এখন বিশ্বের সেরা খেলা!
আজ ইংল্যান্ড জিতেছে, কাল নিশ্চয়ই নিশ্চয়ই বাংলাদেশ জিতবে!!
আগামীকাল হয়ত আমি থাকব না, তাই অগ্রিম অভিনন্দন হে আমার আল্লাহ প্রদত্ত বিশ্বের সেরা সুন্দর দেশ!
কাম অন বাংলাদেশ!

নজরুল ইসলাম হাবিবী
15. 07. ’19
লন্ডন।





Discussion about this post