**
আজ থেকে কম পক্ষে বত্রিশ বছর আগের কথা। কুন্ডেশ্বরীর পাশে একটি হিন্দুদের গ্রাম। (রাউজান থেকে আসার পথে কুন্ডেশ্বরীর পর মূল সড়কের উপর স্থাপিত পাকা ব্রীজটির পরই হাতের বাম পাশের গ্রামটির কথা বলছি)। যতদূর মনে পড়ে, গ্রামটির নাম ‘বড় পাড়া’। রাউজান উপজেলার বর্তমান মেয়র সম্ভবত এ গ্রামের অধিবাসী।
বলাবাহুল্য, রাউজান ছাত্র কল্যাণ পরিষদের পক্ষে আমাকে দেয়া এক সংবর্ধনায় বর্তমান মেয়র দেবাশীষ পালিত সভাপতিত্ব করেছিলেন। এ সংক্রান্ত কয়েকটি ছবি আমার ফেসবুকের প্রফাইলে আছে।
প্রসঙ্গটি এলাকা সংশ্লিষ্ট হওয়ায় বলতে অনুপ্রাণিত হচ্ছি যে, আমি কুন্ডেশ্বরী মহিলা কলেজের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও আমন্ত্রিত হতাম। অবশ্য, তা হত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন স্যারের কল্যাণে। এক অনুষ্ঠানে ড. আবদুল্লাহ আবু সাঈদ ও রাউজানের রাজনৈতিক সম্পদ আবদুল্লাহ আল হারুন সাহেব উপস্থিত ছিলেন। সেখানে আমি আমার লেখা অধ্যক্ষ নতুন চন্দ্র সিংহ স্মরণে একটি দীর্ঘ কবিতা আবৃত্তি করেছিলাম।
(সময় করে আমাকে দেয়া উনাদের অটোগ্রাফ ফেইজবুকে পোস্ট করা হবে)।
যা হোক, এ গ্রামের কিছু ছেলে মেয়ে ভার্সিটিতে আমার ইয়ার মেট ছিল।তাদের কাছে আমি খুবই স্নেহভাজন ছিলাম। তারা আমাকে তাদের পূজা-পার্বনে বা সামাজিক অনুষ্ঠানাদিতে আমন্ত্রণ করত।
“সূর্যসেন ক্লাব” নামে তাদের একটি সংগঠন ছিল।
সে সংগঠনের পক্ষে আমি রাঙামাটিতে বনভোজনে গিয়েছিলাম। সারা পথেই আমাকে গান কবিতা গাইতে হয়েছিল।
সবচেয়ে যে স্মরণীয় বা ঐতিহাসিক কাজটি করেছিলাম তা হলো, সূর্যসেনের নামে সঙ্গীত রচনা করা।
তারা আমাকে অনুরোধ করছিল যে, আমি যেন সূর্যসেনের নামে একটি গান লিখে ও তার সুর করে গেয়ে শুনাই।
সে চেলেঞ্জ আমি নিয়েছিলাম।
তাল ঠুংরির সাথে তাল রেখে বিপ্লবী ভাব ও ভাষার সমন্বয়ে সে সঙ্গীতটি রচনা করেছিলাম। যা আমার ইতিহাসের অমর স্বর্ণালী স্বাক্ষী।
**
পাঠকদের মধ্যে কেউ যদি উক্ত গ্রামের কাউকে জেনে বা চিনে থাকেন আমার এ লেখাটি তাদের দৃষ্টিতে নিয়ে আনার অনুরোধ করছি।
তারা চবি’র 1984/85 বা 86 সেশনের ছাত্রছাত্রী ছিল।
অথবা, তাদের মধ্যে যদি কেউ কারো ফেইজবুকের ফ্রেন্ড হয়ে থাকে তা হলে আমাকে লিংকটি দেবেন।
**
সূর্যসেন সঙ্গীত
রচনা ও সুর
নজরুল ইসলাম হাবিবী
বারুদের বিস্ফোরণ
বিপ্লবী সূর্যসেন
আগুনের স্পন্দন
বিপ্লবী সূর্যসেন
সূর্যসেন, সূর্যসেন, সূর্যসেন—-।
বাংলার গর্ব আমাদের ইতিহাস
ইতিহাস—-
লুটেরা খুনিয়ার যে ছিল যম ত্রাস
যম ত্রাস—–
সে সারা বাঙালির সম্মান।
সে আমার রাউজানের সন্তান।
(দুই বার)
স্বাধীকার স্বাধীনতার বিপ্লবী সৈনিক
সৈনিক —,
অধিকার স্বকীয়তা লহু কথা দৈনিক
দৈনিক—-
আমাদের জেগে উঠে টগবগে প্রাণ
মুক্তিযুদ্ধের মহিয়ান।
সে আমার রাউজানের সন্তান।
(দুই বার)
**
রচনাকাল -1984 থেকে 1988
সালের কোন একদিন।
Discussion about this post