খোশ আমদেদ মাহে রবিউল আউয়াল
পবিত্র কুরআনে ‘মুহাম্মাদ’ নামে একটি সুরা আছে। সুরা নাম্বার-49
ধারণা করা হয় ‘হাম্দ’ থেকে ‘মুহাম্মাদ’
শব্দের উৎপত্তি। হাম্দ অর্থ
প্রশংসা, মুহাম্মাদ অর্থ প্রশংসিত।
আহমাদ, মুহাম্মাদ, হামিদ তথা হা মিম ও দাল নিয়ে সৃষ্ট নামটি বিভিন্ন ভাবে গ্রামারের পথ ধরে 68 বার কুরআন মাজিদে উল্লিখিত হয়েছে।
রাসুল (স.) এর পবিত্র নাম মুহাম্মাদ। এটি কুরঅানে চার জায়গায় এসেছে। যথা-
1. সূরা অালে ইমরান , অায়াত 144
3. সূরা মুহাম্মাদ, অায়াত 2
আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন, ‘মুহাম্মাদ (সা.) একজন রাসুল; তাঁর পূর্বে বহু রাসুল গত হয়েছেন। সুতরাং, যদি তিনি ইন্তেকাল করেন অথবা শাহাদতবরণ করেন, তবে তোমরা কি পৃষ্ঠ প্রদর্শন করবে? এবং কেউ পৃষ্ঠ প্রদর্শন করলে সে কখনো আল্লাহর ক্ষতি করতে পারবে না; বরং আল্লাহ শিগগিরই কৃতজ্ঞদের পুরস্কৃত করবেন।’ (সুরা-3 আলে ইমরান, আয়াত: 144)।
‘মুহাম্মাদ (সা.) তোমাদের মধ্যে কোনো পুরুষের পিতা নন; বরং তিনি আল্লাহর রাসুল এবং সর্বশেষ নবী। আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ।’ (সুরা-33 আহযাব, আয়াত: 40)।
‘যারা ইমান আনে, সৎকর্ম করে এবং মুহাম্মাদ (সা.)-এর প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তাতে বিশ্বাস করে, আর উহাই তাদের প্রতিপালক হতে প্রেরিত সত্য, তিনি তাদের মন্দ কর্মগুলো বিদূরিত করবেন এবং তাদের অবস্থা ভাল করবেন।’ (সুরা-47 মুহাম্মাদ, আয়াত: 2)।
আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেন, ‘মুহাম্মাদ (সা.) আল্লাহর রাসুল; তাঁর সহচরগণ কাফিরদের প্রতি কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিশীল; আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টির আশায় আপনি তাদেরকে রুকু ও সিজদায় অবনত দেখবেন। তাদের লক্ষণ তাঁদের মুখমণ্ডলে সিজদার প্রভাব পরিস্ফুট থাকবে: তাওরাতে তাঁদের বর্ণনা এরূপ এবং ইঞ্জিলেও তাঁদের বর্ণনা এরূপই। তাঁদের দৃষ্টান্ত একটি চারাগাছ, যা হতে নির্গত হয় কিশলয়, অতঃপর ইহা শক্ত ও পুষ্ট হয় এবং পরে কাণ্ডের ওপর দাঁড়ায় দৃঢ়ভাবে, যা চাষির জন্য আনন্দদায়ক।’ (সুরা-48 ফাতহ, আয়াত: 29)।
‘আহমাদ’ অর্থ সর্বাধিক প্রশংসাকারী। আহমাদ নামটি কোরআনে আছে একবার। ‘আর যখন ঈসা ইবনে মারিয়াম (আ.) বললেন, হে বনি ইসরাইল! নিশ্চয়ই আমি আল্লাহর রাসুল তোমাদের প্রতি প্রেরিত; সত্যায়নকারী তোমাদের মাঝে তাওরাতের যেটুকু রয়েছে তার। এবং সুসংবাদদাতা এক রাসুলের, যিনি আমার পরে আগমন করবেন; তাঁর নাম ‘আহমাদ’। (সুরা-61 সফ, আয়াত: 6)।
আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন, ‘তোমাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে আলোক জ্যোতি ও মহাগ্রন্থ এসেছে।’ (সুরা-5 মায়িদাহ, আয়াত: 15)।
সে মহাগ্রন্থ হল আল–কুরআন এবং আল–কুরআনের বাস্তব রূপ হলেন মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সা.)।
সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ এই মহামানবের আগমনবার্তা কুরআনে ঘোষিত হয়েছে এভাবে, ‘অবশ্যই তোমাদের মধ্য হতেই তোমাদের নিকট এক রাসুল এসেছেন। তোমাদেরকে যা বিপন্ন করে তা তাঁর জন্য কষ্টদায়ক। তিনি তোমাদের মঙ্গলকামী, মোমিনদের প্রতি তিনি দয়ার্দ্র ও পরম দয়ালু। অতঃপর তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে আপনি বলুন, “আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, তিনি ব্যতীত অন্য কোনো ইলাহ নেই। আমি তাঁরই ওপর নির্ভর করি এবং তিনি মহা আরশের অধিপতি।”’ (সুরা-9 তাওবা, আয়াত: 128-139)।
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন রাহমাতুল্লিল আলামিনের সুমহান নাম ও আলোচনা সমুন্নত করে দিয়েছেন। তিনি বলেন: ‘আর আমি আপনার স্মরণ ও আলোচনা উন্নত করেছি।’
(সুরা-94 ইনশিরাহ, আয়াত: 4)।
মুহাম্মাদ (স) রাহমাতুল্লিল আলামিন।
Discussion about this post