করোনা”কালীন সময়ে বিশ্ব শিশুর মানসিক সুরক্ষাঃ
কোভিড – ১৯ করোনা ভাইরাসের প্রভাবে বিশ্বের শিশুদের উপর যে মানসিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে, তা নিয়ে আগামীর পৃথিবীতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কি ভাবছেন? তবে এই লেখাটা যখনই লিখতে বসলাম তখন ২৪-০৪ -২০২০ তারিখের পত্রিকা সংবাদ মাধ্যমে জানতে পারলাম ডব্লিউ এইচও প্রধান তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস বললেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা শিশুদের জন্য কোভিড-১৯ রোগ সম্পর্কিত একটি বই প্রস্তুত করেছেন। যা বিনা মূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে। দুই সপ্তাহের কম সময়ের মধ্যে এটি বাংলাদেশর কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিশু এবং সিরিয়া, ইয়েমেন, ইরাক, গ্রিস ও নাইজেরিয়ায় শরনার্থী শিশুদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। এটি নিসন্দেহে একটি সুসংবাদ, এতে হয়ত নতুন নতুন রোগ সম্পর্কে শিশুদের ধারণা জন্মাবে। আর তাতে তারাই আগামীতে ভাইরাস জনিত দূর্যোগের ঘনঘটা সামাল দিতে সক্ষম হবে।
কিন্তু বর্তমানের এই করোনা ভাইরাস যেমন হয়ে উঠেছে অপ্রতিরোধ্য,তেমনি এখনো মৃত্যু মিছিলও থামানো যাচ্ছেনা।এদিকে গৃহবন্দী শিশুদেরওএই দুর্দিনে সামাল দিতে বড়ই কষ্টকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।
তবে এই করোনা কালীন সময়ে বড় স্বস্তি এসেছে প্রকৃতিতে।প্রকৃতি এখন অনেকটা সুস্থ ও শান্ত হয়ে উঠেছে। বায়ুমন্ডলও অনেকটা দুষণ মুক্ত হয়ে স্বস্তি ফিরে পাচ্ছে।
যা বলছিলাম,এই ভাইরাস আক্রান্ত পরিবেশে শিশুদের যত্ন ও সুরক্ষা নিয়েও অভিভাবকদের বিশেষ ভাবে সচেতন থাকতে হবে।
শিশুরা মুক্ত মনে উড়ন্ত পাখির মত ডানা মেলে উড়তে, ঘুরতে,খেলতে না পারলে স্বাভাবিক পরিস্থিতিতেও তাদের দম আটকে আসে। তার উপর এই গৃহবন্দী অবস্থায় তাদের মানসিক চাপ যেভাবে প্রভাব বিস্তার লাভ করছে তাতে শিশুদের মনোজগত দুর্বল হয়ে পড়ছে।
মরণঘাতী “করোনা ভাইরাস”বিশ্বের সমস্ত কোলাহল যেমন থামিয়ে দিয়েছে, তেমনি শিশুরাও গৃহবন্দী হয়ে যাওয়ায় তাদের মাঝেও এক ধরনের মানসিক বিপর্যয় নেমে এসেছে। যদিও ইন্টারনেট যুগের সুবাদে শিশুরা মোবাইল, টিভি, ল্যাপটপ, গেইম মেশিন(টেপ)এইসব ব্যবহারে আগের থেকেই পরিচিতি ছিল তাই তাকেই কাজে লাগিয়ে শিশুরা এখন কিছুটা এই বন্দী দশাকে আটকে রাখতে সক্ষম হচ্ছে।,তার পরও তারা খোলা আকাশের নীচে খেলাধুলা, হৈ হুল্লোড়, নিয়মিত স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসায় না যেতে পারায় এবং বন্ধু বান্ধবও সঙ্গী সাথীদের থেকে দূরে থাকায় তারা খাচায় বন্দী পাখির মত ডানা ঝাপটিয়ে দিন কাটাচ্ছে। তাদের এই চঞ্চল মনের অস্থিরতা কাটাতে প্রতিটা অভিভাবক এখন হিমশিম খাচ্ছে। তবে অতি আনন্দের বিষয় হচ্ছে এই লকডাউনে সুন্দর একটা মেইল বন্ধন তৈরী হচ্ছে, আর সেটা হলো পিতা মাতাকে সন্তানেরা full time কাছে পাচ্ছে। যা শিশুদের কাছে এই মূহুর্তে পরম পাওয়া। যা থেকে এই যান্ত্রিকও আধুনিকায়নের যুগে বিশ্বের শিশুরা এতোদিন বঞ্চিত হয়ে আসছিল।
আমাদের শিশুরা যেখানে পৃথিবীর ভবিষৎ, সেখানে শত দূর্যোগের মাঝেও আগে তাদেরই সুরক্ষার কথা ভাবতে হবে।
বিজ্ঞানের বদৌলতে বর্তমান প্রজন্মের শিশুরা যদি ও অনেককিছু জানতে বা উপলব্ধি করতে সক্ষম হচ্ছে, তবুও তাদের মনোবল চাঙ্গা রাখতে এই দুর্দিনে আমাদের নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করা এবং তাদের হাতে বা চোখের সামনে আনন্দের খোরাক যোগায় এমন কিছু পরিবেশনার ব্যবস্থা রেখে তাদের এই পরিস্থিতিকে সামাল দিতে হবে।
Discussion about this post