কলম টিভি ডেক্সঃ পরিবেশবাদী সংগঠন ‘বাংলাদেশ পরিবেশ উন্নয়ন সোসাইটি (বাপউস)’র আয়োজনে ‘চট্টগ্রামের স্বার্থে সিআরবি রক্ষায় নাগরিক মতামত’ শীর্ষক ওয়েবিনার গত ৩০ জুলাই ২০২১ শুক্রবার রাত নয়টায় অনুষ্ঠিত হয়।
বাপউস’র প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এ কে এম আবু ইউসুফের সভাপতিত্বে ও সঞ্চালনায় ওয়েবিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব ও সাবেক ব্যাংকার দুলাল কান্তি বড়ুয়া। মুখ্য আলোচক ছিলেন সিএইচআরসি’র সভাপতি সোহেল মো. ফখরুদ-দীন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন সিপিপি চট্টগ্রাম বিভাগের সভাপতি মো. ঈশা খান, ক্লিন বাংলাদেশ-এর সভাপতি ও দৈনিক দেশবার্তার সম্পাদক লায়ন মো. আবু ছালেহ, বাপউস’র সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. জামাল উদ্দীন, চসিক কর্মকর্তা পরিবেশকর্মী লায়ন মো. আবু তাহের,অধ্যাপক জিতেন্দ্র লাল বড়ুয়া, ওবায়দুল হক মনি, মশিউর রহমান, রিয়াদুল ইসলাম, অনুতোষ দত্ত বাবু প্রমুখ।ওয়েবিনারে বক্তারা বলেন, শুধুমাত্র প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণেই নয়, ঐতিহাসিক কারণেও সিআরবি একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। কেবল প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামো বা প্রতœতাত্ত্বিক ঐতিহাসিকতা ছাড়াও সিআরবির বাস্তুতন্ত্রের গুরুত্বও অপরিসীম। শুধু তাই নয় যান্ত্রিক ও কোলাহলপূর্ণ এই শহরে মানুষের প্রাকৃতিক পরিবেশে নিশ্বাস ফেলার মতো জায়গার অনেক অভাব রয়েছে। শতবর্ষী বৃক্ষঘেরা পাহাড়, টিলা ও উপত্যকাঘেরা সিআরবি এলাকাটি তাই জনসমাগমের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। গত কয়েক বছর ধরে পহেলা বৈশাখসহ নানা সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের আয়োজন হয় সিআরবি শিরীষ তলায়। ছায়াঘেরা পরিবেশ নগরবাসীর প্রাতঃ ও বৈকালিক ভ্রমণ এবং বিনোদনের কেন্দ্রও এই স্থানটি। তাই এলাকাটিকে নগরীর ফুসফুস বলা হয়ে থাকে। চট্টগ্রাম নগরীর সবুজ প্রকৃতি খ্যাত পূর্ব রেলের সদর দপ্তর সিআরবি এলাকায় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে একটি হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত এই এলাকায় হাসপাতাল নির্মাণের বিষয়টি পরিবেশবাদী, প্রকৃতিপ্রেমী তথা চট্টগ্রামের আপামর জনসাধারণ অত্যন্ত ব্যথিত, উদ্বিগ্ন ও ক্ষুব্ধ। কেননা কোলাহলমুক্ত এ জায়গাটিতে হাসপাতাল হলে এটি একটি বাণিজ্যিক এলাকায় পরিণত হবে। এখানকার ছোট-বড় বৃক্ষসমূহ কাটা পড়বে, আশেপাশে তৈরি হবে মেডিকেল বর্জ্যের স্তূপ, গড়ে উঠবে দোকানপাট। যার কারণে প্রাকৃতিক পরিবেশ বিনষ্ট হবে এবং নৈসর্গিক এলাকাটি তার সৌন্দর্য হারাবে। সকালে ও বিকালে হাঁটতে আসা প্রকৃতিপ্রেমী নাগরিকগণও স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়বে। যা নগরবাসী কখনো মেনে নেবে না। কেননা এটা একটা আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত। এই বিষয়ে বর্তমানে ক্ষোভে ফুসে উঠেছে চট্টগ্রামের সর্বস্তরের জনগণ। আর সিআরবি রক্ষায় চট্টগ্রামসহ দেশের পরিবেশ সচেতন ও নগরে পাবলিক অঞ্চল সুরক্ষার দাবিতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে উঠেছে। সবাই হাসপাতাল চায়, তবে সিআরবিকে রক্ষা করে অন্য কোথাও। তাই সার্বিক বিষয় বিবেচনায় এখানে হাসপাতাল করার সিদ্ধান্ত নিতান্তই অবিবেচক।
বক্তারা আরো বলেন, একটি বাণিজ্যিক হাসপাতাল নির্মাণ, যা সাধারণ জনগোষ্ঠীর উপকারে আসবে না। প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট করে বাণিজ্যিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা মানে হলো কোনো বিশেষ গোষ্ঠীকে ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ করে দেয়া। চট্টগ্রামে রেলওয়ের অনেক পরিত্যক্ত জায়গা রয়েছে। অনেক জমি অবৈধ দখলদারদের দখলে। এইসব জমি উদ্ধার করে সেখানে বাণিজ্যিক হাসপাতাল গড়ে তোলা হোক এবং জনস্বার্থে এই প্রকল্পটি সেখানে সরিয়ে নেওয়া হোক। এছাড়াও আমরা নগরীর ফুসফুসখ্যাত ঐতিহাসিক সিআরবি ও শতবর্ষী বৃক্ষ রক্ষায় হাসপাতাল নির্মানের বিরোধিতা করছি। আশা করছি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের বোধোদয় হবে এবং তাঁরা সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবেন।







Discussion about this post