মোঃ কামরুল ইসলামঃ
সংস্কৃতি হচ্ছে মানব চরিত্রের এক একটি প্রতিচ্ছবি। সংস্কৃতি চর্চা ও মানবতাবোধকে জাগ্রত করার জন্য নাটক, সিনেমা একটি শক্তিশালী মাধ্যম হলেও বিজ্ঞজন, সমাজ চিন্তক অনেকে ভাবছেন তা আজ আর প্রয়োজন নেই। নাটক, সিনেমা মানুষকে আধুনিকতার নামে অপ-সংস্কৃতি সহ নানা রকম অপকর্মের কৌশল শিক্ষা দিচ্ছে। নাটক, সিনেমার বর্তমান নায়ক নায়িকাদের জীবনযাপন বেহাল্লাপনা মদ্য সেবন, বেশ্যাপনা, দরকষাকষি, হৈচৈ যা সাধরন মানুষকে হতাশ করছে। যে দেশের মানুষ দুমুঠো খেতে পায়না, বেকারত্বের অভিশাপ মানুষকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করে সে দেশে অসামাজিক কর্মকান্ড করে নিজের রূপ, দৈহিক সৌন্দর্য দেখিয়ে অবৈধ উপার্জনের টাকা দিয়ে কোটি কোটি টাকার কয়েকটি গাড়ি ব্যবহার, যুব সমাজকে রুপের ঝালে আটকে, সামান্য মধু সেবন করিয়ে, মাতাল করে তার অসহায় বাবা মার নিকট টাকা দাবি বা প্রতারনা বর্তমান সমাজকে শতভাগ অশুদ্ধ করছে।
আর এই ধরনের অপকর্মে সমাজের বিত্তশালী, প্রসাশনের সবচেয়ে বড় বাবুরা, শিল্পপতি, যারা নিজেরা রাতের আঁধারে মধু আহরন করে আড়ালে লুকিয়ে থাকে প্রথমে তাদেরকে চিহৃিত করতে হবে, পুরো ব্যবস্হা ভেঙ্গে দিতে হবে কেননা সমাজের সর্বস্তরে শুদ্ধ না হলে সব হবে মুলত সাধারন মানুষের সাথে আরেক ভিন্ন মাত্রার নাটক।
লক্ষ্য করলে সহজে অনুমেয়, বর্তমান সমাজ ব্যবস্হায় নাটক, সিনেমার অবাস্তব গল্প, তার চিত্রায়ন বিশেষ করে যারা অভিনয় শিল্পী যারা এক সময় মানুষের নিকট আদর্শ ছিল তা আজ হাস্যকর বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। বর্তমানে নাটক, সিনেমায় বাস্তব সম্মত দৃশ্য না দেখিয়ে, সমাজের বিভিন্ন অসঙ্গতি তুলে না ধরে মানুষকে সচেতন না করে নাটক, সিনেমা যা হয় তা আজ কল্পনা করা ও কষ্টকর।
এই সিনেমা মুলত গ্রীক শব্দ ‘kinema’ থেকে নেয়া হয়েছে। মুলত বিষয়টি ছিল সিনেম্যাটিকস্। Kinematics শব্দটির আভিধানিক অর্থ হচ্ছে, a branch of dynamics that deals aspects of motion apart from considerations of mass and force.
অনেকের মনে থাকবে, ম্যারাডোনার ঈশ্চরের হাতের সেই গোলটির কথা। আমি সরাসরি টিভির পর্দায় তা তখন দেখেছি। ছোট্ট ছোট্ট পাস, সেখান থেকে এক এক করে অনেক কে পাস কাটিয়ে জালে বল পৌঁছানো, গ্যালারী ভর্তি মানুষের বা পৃথিবীর যে যেখান থেকে বা যারা দেখেছেন তাদের দম বন্ধ করা উত্তেজনা এবং তা শেষ হয় মুলত জালে বল জড়ানোর মাধ্যমে । এই পুরো ঘটনাটার মধ্যে কোন গল্প ছিল না কিন্তু মানসিক ভাল লাগার বিষয়টি ছিল। নাটক, সিনেমা আজ তাও নেই। অনেকের মতে, নাটক, সিনেমা দুই ধরনের হতে পারে। প্রথম ধরনটি এই রকমই হতে পারে যেমন-যারা ভাবতে চায় বা বিষয়ের গভীরে পৌঁছতে চায়,জীবন ও জীবনের প্রবহমান ঘটনা থেকে শিখতে চায়।
২য় ধরনটি শুধু আনন্দ নেয়া, কিছুক্ষণ হাসি, হৈ চৈ বা বন্ধুবান্ধব নিয়ে সময় কাটানো। আজ সমাজ পরিবর্তনের নামে কেউ কেউ হাস্যকর অদ্ভুদ অবাস্তব গল্পের সাথে কুরুচিপুর্ন নাচ, গান, টনটনে প্রেম-প্রীতি, অস্বাভাবিক হাস্যকর শারীরিক গঠনের নায়ক, নায়িকা, কিছু মন্দ গালাগাল, কিছু অনৈতিক কর্মকান্ডের দৃশ্য মদ জুয়া, নেশা বেশ্যাবৃত্তির কথোপকথন যা সহজে যুব সমাজকে ধ্বংস করার নামান্তর মাত্র।
তবে নামে মাত্র দু একটি ছবি নির্মান হয় জীবনবোধ বা উপলব্ধি থেকে। শঙ্খনীল কারাগার, সবুজ সাথী আমি কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় পড়া অবস্হা দেখেছি। আজ সেই সিনেমা হল নেই, নেই আগেরকার নাটক বা সিনেমা। ঐ সময়ে মনে হয়েছে একটি নাটক বা সিনেমায় মানুষকে ১ ঘন্টা বা দেড় ঘন্টা বা আড়াই ঘন্টা বা তিন ঘন্টার জন্য অন্য জগৎ-এর সন্ধান দেয় তবে সেই জগৎ ঐ সময়ের চেয়ে বর্তমানে মারাত্মক ভয়ানক অবাস্তব হাস্যকর। মোটকথা কোন নাটক বা সিনেমা আজ জীবনঘনিষ্ট নয়।
বর্তমানে নাটক, সিনেমার নায়ক, নায়িকাদের জীবন, দর্শন, চালচলন, মাদক সেবন, চোরাচালান, দেহ ব্যবসা, প্রতারনা, সব মিলে সংস্কৃতির জন্য, মানুষ, মানবতার জন্য অপমান জনক।
এক সময় যাদের দেখে বা দেখতে মাইলের পর মাইল মানুষ হেঁটে গ্রাম শহর মানুষ পাড়ি জমাতো, তাদের জীবন যাপন কে অনুসরন করে নারী, পুরুষ, যুব সমাজ নিজকে সেই ভাবে অন্যের নিকট উপস্হাপন করতো সেই মানুষরা আজ তাদের ঘৃনা ভরে প্রত্যাখান করে। তাহলে এই নাটক এই সিনেমা মানুষের মুল্যবোধ জাগ্রত করতে, মানুষকে সুশিক্ষা দিতে, মানুষ মানুষের জন্য এই মন্ত্রে দীক্ষিত করতে কোন ভুমিকা রাখছে বলে সমাজ চিন্তক, বিজ্ঞজন মনে করছে না।
তাহলে সেই নাটক, সিনেমার কি আদৌ প্রয়োজন আছে? তবে আমি একজন গনমাধ্যম কর্মী হিসাবে নাটক, সিনেমার বিপক্ষে নয়।পুরো হযবরল ব্যবস্হার বিরুদ্ধে আমার অবস্হান। তাই আমাদের মনে রাখতে হবে রূপ, দৈহিক সৌন্দর্য, যৌবন, অর্থ চিরস্থায়ী নয়। কেননা মানুষের প্রকৃত মানবতাবোধ, মানবপ্রেম, ভাল কর্ম মানুষকে ইহকাল ও পরকালে সম্মানিত করে।
তাই কবি গুরু স্মরণে কবি গুরুর ভাষায়-
“আমি তোমারি বিরহে রহিব বিলীন, তোমাতে করিব বাস–
দীর্ঘ দিবস, দীর্ঘ রজনী, দীর্ঘ বরষ-মাস ।
যদি আর-কারে ভালোবাস, যদি আর ফিরে নাহি আস,
তবে তুমি যাহা চাও তাই যেন পাও, আমি যত দুখ পাই গো
আমারো পরাণ যাহা চায়, তুমি তাই, তুমি তাই গো”।
লেখক- কবি, প্রাবন্ধিক ও গনমাধ্যমকর্মী।







Discussion about this post