কলম টিভি ডেক্সঃ
রেলের ডিজি ধীরেন্দ্রনাথ মজুমদার সিআরবি রক্ষায় আন্দোলনরত চট্টগ্রামবাসীকে উদ্দেশ্য করে যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন তার জবাব দিতে চট্টলাবাসী সবসময় প্রস্তুত। রেলের ডিজি ধীরেন্দ্রনাথ মজুমদারের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের প্রতিবাদে আজ ১৪ আগস্ট শনিবার সকাল সাড়ে দশটায় সিআরবিতে লিফলেট বিতরণের পূর্বে বাংলাদেশ পরিবেশ সুরক্ষা আন্দোলন-বাপসা ও গণ-অধিকার ফোরামের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় বাংলাদেশ পরিবেশ সুরক্ষা আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক, পরিবেশবিদ, শিক্ষাবিদ, লেখক উত্তম কুমার আচার্যের সভাপতিত্বে বাপসা’র যুগ্ম সমন্বয়কারী
সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়ার পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে গণ-অধিকার ফোরামের মহাসচিব এম এ হাশেম রাজু উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।
প্রধান অতিথি বলেন, সিআরবি হলো চট্টগ্রাম মহানগরীর প্রাকৃতিক অক্সিজেন উৎপাদন কেন্দ্র। মহানগরীর একমাত্র মুক্তাঙ্গন। ১৯৩০ সনে এই অবিভক্ত বাংলার মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ, যা মাস্টারদা সূর্য সেনের নেতৃত্বে শুরু হয়েছিল তার পবিত্র স্মৃতিধন্য, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ আবদুর রবসহ ২ শতাধিক মুক্তিযোদ্ধার কবর ও স্মৃতিস্মারক, চট্টগ্রাম মহানগরীর সাংস্কৃতিক চর্চার প্রধান কেন্দ্র। এই এলাকায় বাণিজ্যিক স্থাপনা কোনো হাসপাতাল করতে দেওয়া হবে না। তিনি আরো বলেন, আল্লাহ প্রদত্ত প্রাকৃতিক সম্পদ সিআরবিকে রক্ষা করবার জন্য চট্টগ্রামবাসীকে নিয়ে প্রয়োজনে হরতাল অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবো।
সভাপতির বক্তব্যে উত্তম কুমার আচার্য বলেন, চট্টগ্রামবাসীকে কটাক্ষ করে রেলের ডিজি যে বক্তব্য দিয়েছেন তা অবিলম্বে প্রত্যাহার করে চট্টগ্রামবাসীর নিকট ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায় চট্টগ্রামবাসী তার দাঁতভাঙা জবাব দেবে। চট্টগ্রামের লাখো লাখো মানুষের অক্সিজেনের প্রাণকেন্দ্র কোনোভাবেই ধ্বংস হতে দিতে পারি না। আমরা চট্টগ্রামবাসীকে নিয়ে প্রয়োজনে রক্ত দেবো। সিআরবি যেভাবে আছে সেভাবেই থাকবে।
প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এসডিজি ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি ও ইকো ফ্রেন্ডস’র সাধারণ সম্পাদক নোমান উল্লাহ বাহার বলেন, চট্টগ্রামে ঢাকা সোহরাওয়ার্দী উদ্যাগ, চন্দ্রিমা উদ্যান, রমনা পার্ক, বোটামিক্যাল গার্ডেন,
বাহাদুর শাহ পার্ক অজ¯্র মুক্ত উদ্যান নাই। চট্টগ্রামের ফয়েজ লেক, সার্কিট হাউস প্রাঙ্গণ, জাম্বুরী পার্কসহ সকল মুক্ত প্রাঙ্গণ ইতিমধ্যে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে বেহাত করে দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামের আজ নানা খোলা জায়গা বিভিন্ন সংস্থা-অধিদপ্তরের হাতে চলে গেছে। ডিসি হিল আজ অবরুদ্ধ। নগরীতে আজ উন্মুক্ত খেলার মাঠ নেই বললেই চলে। নদী-পাহাড়ও চলে গেছে বিভিন্ন সংস্থার অধীনে। সুতরাং সিআরবিতে aকোনো হাসপাতাল বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রামবাসী মেনে নেবে না।
এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পরিবেশ সুরক্ষা আন্দোলন চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সভাপতি মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, গণঅধিকার ফোরামের সহকারী মহাসচিব মো. জানে আলম, বাপসা’র চট্টগ্রাম মহানগর শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক রূপম বড়–য়া, সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন প্রমুখ।







Discussion about this post