মোঃ কামরুল ইসলামঃ
আপনার এক টুকরো নির্মল হাসি আপনাকে সঠিক পথে হাঁটতে শিখাবে।আপনার সেই হাসি অন্যতম সেরা সৌন্দর্য। কারন হাসি হলো মানুুুুষের একটি অনুভূতি। আনন্দ বহিঃপ্রকাশের মাধ্যম।হাসি মানবজীবনের সকল রোগের কার্যকরী ঔষধ।
তবে তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে বিজ্ঞান মানুষকে ভাবতে শেখায়,ভাবতে বাধ্য করে তারপর ও আপনার প্রিয় জনের সাথে আপনার যে কোন সময়ের ভালবাসার কথা আপনার মনে পড়লে নিজের অজান্তে সেই ভালবাসা আপনাকে হাসাতে অনুপ্রেরণা জোগায়।আপনি হাসুন, হাসতে থাকুন,অন্যকে হাসান। পৃথিবীতে মনে হয়,মন খুলে যে হাসে সে বিনা মুল্যে হাসে আর তার হাসির জন্য সে কারও নিকট কখনও টাকা দাবি করে না।এটি ছাড়া পৃথিবীতে কোন কিছু বিনামুল্যে হয় আমি অন্তত তা বিশ্বাস করি না।
অনেকের মতে,বর্তমানে কবি লেখক সাংবাদিক বুদ্ধি- জীবি সহ সবাই স্বার্থ আদায়ে, তোষামোদীতে ব্যস্ত। মুলত বিষয়টি পুরো স্বার্থ নির্ভর।তবে পদার্থ বিজ্ঞান ও আইনের ছাত্র হয়ে হলফ নামা সাক্ষর করে আমি বলতে পারি,আমি সকল নোংরামিকে ঘৃনা করি।মানুষকে ভালবাসি,আমি মানুষকে ভালবাসতে চাই।
তাই মাঝে মাঝে লিখতে চেষ্টা করি নিজের বিবেকের তাড়নায়,কাউকে খুশী করতে নয়,নিজের আত্মপ্রচার ও নয়।কে গ্রহন করল বা কে করল না তা ভাববার সময় হয়নি আমার এখনও। আজকের এই সমাজ ব্যবস্থায় সবাই নিজকে বিভিন্ন ভাবে প্রচার করতে ব্যস্ত।সবাই স্বার্থের পেছনে ঘুরপাক খায়।ভাল মন্দ যাছাই করে না।আজ এক জনের ফেইস বুক স্টেট্যাস দেখে অনেকক্ষণ হেসেছি ,সে লিখেছে ” মাথা ন্যাংটা করেছি বন্ধুরা হাই তুলো ” তার সব বন্ধুরা কয়েক হাজার বার হাই তুলেছে,মন্তব্য করেছে কয়েক শত।সেই ও একই ভাবে সব সময় হাই তুলো তাই তার ক্ষেত্রে সবাই এক কাতারে সামিল হয়েছে।কিন্তু শিক্ষনীয় মানব কল্যান মুলক,জনসচেতনতা মুলক কোন লেখক, কোন কবি কোন জনগুরুত্বপুর্ণ কিছু লিখণী তা পড়ার ও তা থেকে শিক্ষা নেওয়ার সময় আমাদের কারও হয় না।তাই বলতে হয়,বর্তমান এই তথ্য প্রযুক্তির আধুনিকায়ন আমাদের সব কিছু সহজ করে দিলে ও আমাদের সৃজন শীলতা,প্রকৃত জ্ঞান চর্চা,বই পড়া, মানবতাবোধ সব কিছুকে নষ্ট করে দিয়েছে।৯০ এর দশকে বা তার পুর্বে যারা সাহিত্য চর্চা করতো তাদের মাঝে যে নিষ্ঠা,কর্তব্য পরায়নতা ভালবাসা,দায়িত্বোবোধ ছিল তা আজ আর নেই। (ইন লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাহি রাজেউন) ৯০ এর দশকে আমি ভারতের কলকাতা উজিরপুর বাজারে গিয়ে ঐ সময়ে যারা, কবি সাহিত্যিক কাঁধে ব্যাগ ঝুলাতো আমি ও শখ করে একটি ব্যাগ কিনে পরবর্তীতে দেশে এসে কাঁধে ঝুলিয়ে একটি লেখা প্রকাশের জন্য কতবার পত্রিকা আসা,যাওয়া করেছি দিনের পর দিন পত্রিকা কেনা এর পর হঠাৎ একদিন দেখা গেল আমার লেখা পত্রিকা ছাপা হয়েছে সে কি আনন্দ।
আজ পত্রিকায় প্রকাশিত লেখা,সাহিত্যচর্চা সব যেন হাতের মুঠো একটি ডিভাইস নির্ভর।আজ কেউ পড়ে না তবে সবাই লেখক সবাই কবি।আমরা সবাই রাজার রাজা,রাজার এই রাজত্বে।
ওখন তো পড়তে হয় না একজনকে জিজ্ঞেস করলে সে নাকি বলে দেয়। সে নাকি বাবার বাবা।নাম না হয় বললাম না। ভয় করে হয়ত তাই। তবে সে ই প্রকৃত লেখক কবি,যে বাবার অবর্তমানে বা বাবাকে ছাড়া পথ চলতে পারে,যে কোন বিষয়ে লেখার,কথা বলার যোগ্যতা রাখে তাকে কারও সাহায্য নিতে হয় না। মনে পড়ে,শিল্পী আব্বাস উদ্দিনের অনুরোধে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ক্ষণিকে লিখলেন,
“ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ”
মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় ও আনন্দের উৎসব ঈদ-উল-ফিতর নিয়ে বাঙালি কবি কাজী নজরুল ইসলামের কালজয়ী সেই গান।শিল্পী আব্বাস উদ্দিনের অনুরোধে ১৯৩১ সালে কবি নজরুল এই গান রচনা ও সুরারোপ করেন।যার প্রকাশকাল ফেব্রুয়ারী ১৯৩২ সাল।বিজ্ঞজনের মতে,তাঁরাই কবি।
তাই বর্তমান সামগ্রিক হালচাল দেখে বিজ্ঞজন অনেকে হাসে,আমি ও হাসি শুধু তাই নয় আমি সব সময় হাসার চেষ্টা করি কারন জেনেছি আমার প্রতিটি হাসি আপনাকে,আমাকে পৃথিবীতে বেশিদিন বাঁচতে সহয়তা করবে।কেননা সকল হিংসা,হীণমন্যতা দুর করে মানব কল্যানে নিজকে জাগ্রত করে যদি আমি,আপনি হাসতে পারি বা আপনারা হাসতে পারেন,হাসাতে পারেনতখন সেই হাসির কারণে আপনি,আপনার জীবনকে শুধু নয় আপনার পরিবেশকে সুন্দর করতে পারেন।
আমার মতে হাসি হচ্ছে, এক ধরনের মুখের বহিঃপ্রকাশ যা মুখের নমনীয় পেশীকে দু’পাশে প্রসারিত করার মাধ্যমে অন্যের হৃদয়কে ভেঙ্গে টুকরা,টুকরা করার অভিনব অর্জিত ফলাফল।
আপনার মুখমণ্ডল ছাড়া ও চোখের মধ্যেও আপনার হাসির বহিঃপ্রকাশ ফুটে উঠতে পারে।
কিছু বিষয় মনে পড়লে আপনি হাসবেন,হাসতে বাধ্য।এই যে তালেবানদের আফগান বিজয় আবার তাদের মন মাতানো সেই নৃত্য।ভারতের তথাকথিত অমিত বাবুর নাম মনে পড়লে না হাসার কোন কারন নেই। আমরা জানি বাংলাদেশ বিভিন্ন সামাজিক সূচকে ভারতের চেয়ে এগিয়ে। ৫ লক্ষাধিক ভারতীয় বাংলাদেশে চাকরি করে,শ্রমের বিনিময়ে তারা বাংলাদেশের কোটি কোটি টাকা আয় করে,রেমিট্যান্স হিসাবে তারা নিজ দেশে পাঠায়।বর্তমানে বিশাল অর্থনৈতিক,বানিজ্যিক ঘাটতি কোন অবস্থাতে খানিকটা হলে সমতা আনা যাচ্ছে না।যা আমাদের অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
অনেকের মতে,অমিত নামের সেই দেশের সেই উল্লুকা পাটান তার জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তিনিই আবার মনে করেন তাঁর দল ভারতকে স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছে।তবে ২০২০ সালের ‘গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স’ অনুযায়ী যে ১০৭টি দেশের ক্ষুধা বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য- উপাত্ত পাওয়া যায়, সেখানে ২৭.২ স্কোর নিয়ে ভারতের অবস্থান ৯৪ তম।
বাংলাদেশের অবস্হান ৭৫ তম ভারতের বেশ খানিক ওপরে। তারপর ও আমরা চাই বাংলাদেশের সব মানুষের মুখে হাসি থাকবে,থাকবেনা ক্ষুদা,দারিদ্র।
পারমাণবিক অস্ত্রের শক্তিধর সেই দেশে ১৯ কোটি লোক প্রতিদিন ক্ষুধা নিয়ে ঘুমাতে যায় (ইন্ডিয়া টুডে, ১৯ অক্টোবর ২০২০)।
ঐ দেশে আমি সহ বাংলাদেশের কোন লোক চিকিৎসা সেবা বা ব্যবসায়িক কারন ছাড়া স্হায়ী ভাবে বসবাস করতে যাবে তা আমার বিশ্বাস হয় না।
আমরা জানি,বিশ্বাস, আস্থা, ভরসা, সাম্য ছাড়া বন্ধুত্ব হয় না।এই করোনা কালে চীন বাংলাদেশের বিভিন্ন অর্থনৈতিক উন্নতি ও অগ্রগতিতে সামনের সারিতে। যে যা বলুক তার ব্যাপক সহায়তা এই দেশের মানুষকে আশ্বস্থ করেছে। চীনের ব্যাপক সহায়তার বিষয়টি পাশ্বর্বতী দেশের জন্য উদ্বেগের বিষয় হওয়া স্বাভাবিক। চুক্তি করে টাকা নিয়ে এখনও ২ কোটি ৩০ লক্ষ টিকা দেয় নি। সেই বন্ধুর কথা ভাবলে সেই প্রকৃত বন্ধু কিনা তার কথা মনে পড়লে বন্ধুর জন্য আপনার কষ্ট হবে আর বন্ধুর কথা মনে করে আপনি হয়ত হাসবেন তা
আমি নিশ্চিত। সেই তথা কথিত বাবু আবার বললেন বাংলাদেশের মানুষ খেতে পায় না।তার কথার জবাবে বাংলাদেশ পররাষ্ট্র্র মন্ত্রকের মাননীয় মন্ত্রী বললেন,পাশ্ববর্তী দেশের ৫০% মানুষদের শৌচাগার নেই।
বাংলাদেশের ৯০% মানুষ ভাল শৌচাগার ব্যবহার করে। কেউ হাসুক না না হাসুক আমি হেসেছি অনেক্ষণ।
বিবিসির এক রিপোর্ট অনুযায়ী পৃথিবীতে খোলা আকাশের নিচে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেয় প্রায় ১০০ কোটি মানুষ তম্মধ্যে ৬০ কোটি মানুষ ভারতের এই ছাড়া ও পৃথিবীর হত দরিদ্র মানুষের সংখ্যা প্রায় ৭৪ কোটি।তবে তার বেশির ভাগ লোক আফ্রিকাতে নয়,পাশ্ববর্তী দেশ ভারতে বাস করে।
আমাদের মনে রাখতে হবে,অন্যকে অপমান করার আগে নিজের অবস্হান সম্পর্কে আমাদের ওয়াকিব হাল হতে হবে। এই সব কথা মনে পড়লে আপনি হাসবেন সেই হাসি কখন ও কেউ থামাতে পারবেনা।কারন আগে বলেছি হাসতে কাউকে টাকা দিতে হয় না।
তাই হাসতে হাসতে বলি, “মুখ মে শেখ ফরিদ,বগল মে ইট ” তার সাথে বন্ধুত্ব নয়,বন্ধুত্ব তা সাথে যার গুণে সবাই হাসবে, যে হাসবে মানবতা, যে হাসাবে পৃথিবী।
লেখক- মোঃ কামরুল ইসলাম।
(কবি, প্রাবন্ধিক ও গনমাধ্যমকর্মী)







Discussion about this post