প্রকৃত বন্ধুত্ব বড়ই মধুর সম্পর্ক।মুলত এটি একটি শক্তি শালী বন্ধন।একে অপরের সাথে হাসি, কান্না, সুখ, দুঃখ বিনিময় ।সামাজিক মনোবিজ্ঞান এবং দর্শনে বন্ধুত্বের শিক্ষা দেয়া হলেও বন্ধুত্ব কঠিন ব্যস্ততাময় জীবনে অনেক সময় তা যেন যোজন যোজন দুর।
বন্ধুত্বের ভালবাসা হয়ত এমন হয়,
এখানে তোর দাদীর কবর ডালিম গাছের তলে,
তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে।
এতটুকু তারে ঘরে এনেছিনু সোনার মতন মুখ,
পুতুলের বিয়ে ভেঙে গেল বলে কেঁদে ভাসাইত বুক।
এই ধরনের প্রকাশে যে ভালবাসা তা যেন প্রকৃত বন্ধুত্বে
প্রকাশ পায়। এক গবেষণায় দেখা গেছে যে,যারা মানুষকে ভালবাসে গাড়ী,বাড়ি না থাকার পরও ভালবাসা, বন্ধুত্বের কারণে সেই মানুষগুলো জীবনে সুখী হয়।অনেকের মতে,প্রকৃত বন্ধুত্বে থাকবে স্নেহ, সহানুভূতি, সহমর্মিতা, সততা,পারস্পরিক বোঝাপড়া, সমবেদনা, একে অপরের উপর আস্থা,হীণমন্যতা পরিহার,নিজের অনুভূতি প্রকাশ সর্বোপরি স্বার্থপরতা থাকবে শুন্যের কৌঠায়।
নাসির উদ্দিন মুলত কোন বাদশা নয়,সে আমার স্কুল জীবনের বন্ধু।দেখা হয়েছে প্রায় ৩৪ বছর পর।মাঝে মাঝে কথা হত তবে ৩৪ বছর পর সরাসরি সাক্ষাৎ।
সে একজন স্বনামধন্য আয়কর উপদেষ্টা।
ভাবছি এখন থেকে সে হবে আমার ও আমার পরিবারের আয়কর উপদেষ্টা।জানা দরকার সেই বন্ধু যে,একে অন্যের সুখে-খুশিতে লাফিয়ে ওঠবে,একে অন্যের দুঃখে পাশে দাঁড়াবে, মন খুলে কথা বলবে, হেসে গড়াগড়ি খাবে,আর জীবনের জানা অজানা খানিকটা ঝাপসা স্মৃতি নিয়ে হাসাহাসি করবে,পাগলামি করবে।বন্ধুত্ব কোনো বয়স মানে না, ছোট-বড় সবাই বন্ধু হতে পারে। আমার চেয়ে বয়সে অনেক বড়,প্রকৃত ভালবাসায় তারা আজ অনেকে আমার বন্ধু।বন্ধুত্বের মধ্যে ‘ভালোবাসা’ থাকতে হবে যার কোন বিকল্প নেই।
আত্মার সঙ্গে আত্মার টান থাকতেই হবে যেমন রেল গাড়ির এক একটি বগির মত।বন্ধু হবে সেই,যে কথা কাউকে না বলতে পারলেও বন্ধুকে বলা যাবে।যেমন আমাদের পিতা মাতা আমাদের সব থেকে আপন এরপর ও অনেক বিষয় আমরা তাদের সাথে সুখ,দুঃখ চাওয়া,পাওয়ার কথা বলতে পারিনা,সাহস ও করি না কিন্তু যার সাথে অকপটে সব র্নিদ্বিধায় বলা যায়, আর সেটি হচ্ছে বন্ধুত্ব বা সেই হচ্ছে বন্ধু।
‘বন্ধু’, শব্দটি ছোট হলে ও এর ব্যাপ্তি সীমাহীন,গভীরতা অনেক। আমার বন্ধু মানে আমার আস্থা, মুলত আমার নির্ভরতা। বন্ধু মানে আমার ভালোবাসা, যেখানে থাকবে না কোনো স্বার্থ। বন্ধুত্বের কথা লেখা হয়েছে কবিতায় গল্পে, চিত্রকর্মে, কখনো স্মৃতি হয়ে জমা হয় স্থিরচিত্রে আবার কখনো গানে।
তাই প্রিয় বন্ধুকে নিয়ে কত গান-
যেমন-দেখা হবে বন্ধু কারণে আর অকারণে, দেখা হবে বন্ধু, চাপা কোনো অভিমানে, দেখা হবে বন্ধু সাময়িক বৈরীতায়,অস্থির অপারগতায়!
আপনার আমার জীবন চলার পথে বন্ধু প্রয়োজন হবে তাতে কোন সন্দেহ নেই।বন্ধু ছাড়া জীবন অসম্পূর্ণ হতে পারে।নশ্বর এই পৃথিবীর অনেক সম্পর্কের মাঝে বন্ধু ও বন্ধুত্বের সম্পর্ক অনেকের মতে সেরা।
১৯৭৫ সালে বিগেলো এবং লা গাপিয়া একটি গবেষণা করে করে দেখিয়েছেন ও বন্ধুত্বের যে বিষয়ের উপর সব চেয়ে গুরুত্ব দিয়েছিলেন তা হল বিশ্বাস, আনুগত্য, এবং প্রতিশ্রুতি, ক্রমবর্ধমান আকাঙ্ক্ষিত অনুরূপ মনো ভাব যা মূল্যবোধের উপর পুরো নির্ভর করবে।বের্ন্ডটের মতে,ভাল বন্ধুত্বের ফলাফল হচ্ছে সর্ব ক্ষেত্রে সামাজিক আচরণে সুন্দর মনোভাব,অধিক অন্তরঙ্গতা, অন্যান্য ইতিবাচক বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পাবে আবার কখনও কখনও অন্যান্য নেতিবাচক বৈশিষ্ট্যে প্রকাশ পেতে পারে।
বন্ধু’ আমার কাছে মুলত একটি অনুপ্রেরণা। তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে ব্যস্ততার কারনে আমরা অনেকেই ঘনিষ্ট বন্ধুদের সময় দিতে পারি না বা বন্ধুদের খোঁজও নিতে পারি না। সময় পেলেই ফেসবুক আর ইউটিউব।আমরা অনেকে বই ও পড়ি না,অনেকে ইউটিউবে বিভিন্ন ধরনের ভিডিও না দেখে ঘুমাতে যাই না বা না দেখলে সেই রাত্রে আমাদের অনেকের ঘুম হয়না।
তবে বন্ধু ছাড়া আমার নিকট সব কিছুকে মনে হয় নগন্য ও নিজেকে একা একা মনে হয়, তখন সবার আগে স্কুল,কলেজ জীবনের বন্ধুদের কথাই বেশি মনে পড়ে। বাস্তব জীবনের নিষ্ঠুর কষাঘাতে ও সময়ের সাথে সাথে ছোটবেলার বন্ধু অনেক ক্ষেত্রেই দূরে চলে গেলেও মনে পড়ে অতীতের স্মৃতি,পড়ে থাকে বন্ধুত্বের স্বাদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধু-সে যেন অন্যরকম স্বাদ। দিন বা রাত, বৃষ্টি বা রোদ বলবো বলবো করে বন্ধুকে যে কথা বলা হয়নি সে বন্ধু আসবে,আসছে বন্ধুর জন্য অন্য রকম এক অনুভুতি।
তবু ও বন্ধুই বন্ধু। জয় হোক বন্ধুত্বের।
লেখক- কবি, প্রাবন্ধিক ও গনমাধ্যমকর্মী।







Discussion about this post