প্রফেসর নজরুল ইসলাম হাবিবী
(প্রতিষ্ঠাতা পরিচালকের বক্তব্য)
বাংলাদেশ এবং ইউকে সরকার অনুমোদিত (দুই জাহানের সংগঠন) ‘সারাহ-হাবিব ট্রাস্ট লন্ডন’-এর অঙ্গসংস্থা, “অক্ষরে অমরতা” শ্লোগানের পতাকাবাহী, আন্তর্জাতিক সাহিত্য ও সমাজকল্যাণমূলক বিশ্বের অন্বিত সমাদৃত সংগঠন, ‘কলম একাডেমি লন্ডন’ খুলনা বিভাগ একটি বই প্রকাশ করবে জেনে আমি আনন্দিত। খুলনা বিভাগ বইটির নাম রেখেছে “সাহিত্যের বাতিঘর”। আমার সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতি স্বরূপ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের লেখকগণ আমাকে এ উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন। যার জীবনবাতি প্রায় নিভু নিভু, ক’দিন পর যে হবে মাটি আর পোকার খাবার, তার জন্য ‘বাতিঘর’ উপাধি কতটুকু গুরুত্ব বহন করে তা দেখার বিষয়।
মূলত আমি সাহিত্যিক নই।
সাহিত্যের ‘স’ নিয়ে পৃথিবীতে কিছু কথা বলতে চেষ্টা করছি। সমাজ, সংস্কৃতি, সভ্যতার সন্ধানে গিয়ে বিশ্বময় শব্দসেতু নির্মাণের কথা বলছি। সাহিত্যের মাধ্যমে সমাজ, সমাজের মাধ্যমে আমাদের হারানো মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখছি। মানুষকে জাতি-ধর্ম এবং শ্রেণীবিন্যাসের উপরে থাকার কথা বলছি। আমি ‘বৌদ্ধ সংগীত’ এবং ‘সূর্যসেন সংগীত’ এর রচয়িতা। আমি হিন্দু এবং বৌদ্ধ মন্দিরে শতবার বক্তব্য রেখেছি। বহুবার সংবর্ধিত হয়েছি। এই আমার জীবন-দর্শনের পরিপূর্ণ দলিল।
আমি অর্থ দিয়ে, সমর্থন দিয়ে নতুন লেখক, গ্রামীণ লেখক বা তরুণ লেখকদের উৎসাহিত করছি। বই-পুস্তক লিখে ফ্রি বিতরণ করছি।
জাতি বা মতবাদের বিতর্কে না গিয়ে পৃথিবীর কোন একটি কোণায় একটু হাসির কথা বলছি। গরীব, এতিম, অসহায় এবং অসুস্থ মানুষের জন্য কাজ করছি। দেশ- জাতি নির্বিশেষে এতিমখানা প্রতিষ্ঠা করছি। মসজিদ, মাদ্রাসা ও হেফজখানা প্রতিষ্ঠা করছি। মানুষের সুখ-দুখের খবর রাখার চেষ্টা করছি। ‘শেয়ার এন্ড কেয়ার’ এর আওতায় শিক্ষাবৃত্তি সহ দুর্যোগপূর্ণ মুহূর্তে আমরা এগিয়ে আসি। বাংলাদেশের অনেক জেলা-উপজেলায় আমাদের উপহারসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। ভারতেও আমরা আমাদের উপহার সামগ্রী পাঠিয়েছি। আমরা ‘পল্লী পাঠাগার’ প্রতিষ্ঠা করছি। গ্রাম- গঞ্জের প্রবাদ-প্রবচন সংগ্রহ করছি। ‘লেখক মন্ত্রণালয়’ প্রতিষ্ঠার দাবি আদায়ে দেশে বিদেশে কাজ করছি। এর মাধ্যমে লেখকভাতা, শিক্ষা, চিকিৎসা, ভাতাসহ লেখক পরিবারের জন্য চাকরিতে কোটার দাবি জানিয়েছি। বিষয়টিকে বিশ্বে স্থায়ীরূপ দেবার জন্য ১৮ সেপ্টেম্বরকে ‘লেখক অধিকার দিবস’ পালনের ঘোষণা দিয়েছি ২০২০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ‘কলম সাহিত্য সংসদ লন্ডন’ এর দশম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে।
কলম শুধু স্বপ্নের কথা বলেনা। কলম বাস্তবতায় বিশ্বাসী।
বাংলাভাষা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভাষার একটি। এই ভাষাকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার জন্য রাতদিন পরিশ্রম করছি। জীবনের সবকিছু ঢেলে দিয়েছি। আপাতত এই আমার পরিচয়। তাই যদি হয়,” সাহিত্যের বাতিঘর” উপাধিটি কিছুদিনের জন্য আমি মাথা পেতে বরণ করে নিতে পারি। আর যেদিন আমাকে দিয়ে আমার সাহিত্য, আমার দেশ, আমার পতাকার অবমাননা হবে, তখন আপনারা আমার পদবী তুলে নেবেন, এই অঙ্গীকার রেখে গেলাম আমার মৃত্যুর পরের জন্যও। এই বইয়ের মাধ্যমে, আমার এই বাণীর মাধ্যমে আমি বিশ্বজুড়ে সকল কলম সৈনিকদের প্রতি শুভেচ্ছা, সম্মান ও কৃতজ্ঞতা জানাই। আমার এই উপাধিতে, আমার এই আনন্দে আপনাদের অধিকার আছে।
শ্রদ্ধা জানাই তাঁদের প্রতি যাঁদের ত্যাগ- তিতিক্ষা ও রক্তের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি বাংলাভাষায় কথা বলার অধিকার, একটি স্বাধীন ভূখণ্ড এবং একটি লাল-সবুজের পতাকা।
‘খুলনা’ এক আধ্যাত্মিক জগতের নাম। বাংলাদেশ তথা এশিয়ায় পরিচিত সম্মানিত নাম। কলমের খুলনা বিভাগীয় কমিটি হওয়ার পর থেকে সদস্যবৃন্দ সংগঠনে এক নতুন জোয়ার এনে দিয়েছেন।
এখানে বিশেষ করে বিভাগীয় সভাপতি এসএম আইয়ুব আলী এবং সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান রানার কথা স্বীকার করতে হয়। তাঁরা খুলনার প্রতিটি জেলাতে শক্তিশালী কমিটি গঠন করার পাশাপাশি সারা বাংলাদেশে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন।
আমি স্বীকার করি, সবার লেখাই উন্নতমানের। সব লেখকই আমার কাছে সফল লেখক হিসেবে সম্মানিত।
ধন্যবাদ জানাই বইয়ের প্রকাশক এবং সম্পাদকবৃন্দকে যাঁরা বইটি নিখুঁত ভাবে প্রকাশের জন্য রাতদিন পরিশ্রম করেছেন।
আশা করি, সকলের সহযোগীতায় ভবিষ্যতে এ রকম আরো প্রকাশনা আমরা সমাজকে উপহার দিতে পারবো। আমি বইটির বহুল প্রচার, বিপণন ও পঠন প্রত্যাশা করি।
আসুন, শব্দের নামে সমাজের জন্য কিছু করি। দল ও মতের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের সেবা করি। দেশের জন্য লিখি। বঞ্চিত মানুষের কথা বলি।
দুই দুনিয়ার সফল মানুষ হই।
লাভ করি “অক্ষরে অমরতা”।
সফল হই দুই জাহানে।
বইটি আমার পরিবারের জন্য রেখে যাবো। আমার ছেলেমেয়ের হাতে দিয়ে যাবো। সাহিত্যসেবা করতে গিয়ে আমি আমার পরিবার পরিজনকে বিভিন্ন ভাবে বঞ্চিত করেছি। তারা অন্তত দেখুক, পৃথিবীর কোন এক কোণায় মানুষ আমাকে সম্মান করেন, আমাকে ভালোবাসেন, কলমকে ভালোবাসেন।
আমার জীবন এবং সংগঠনকে আপনাদের সামনে তুলে ধরাতে গিয়ে লেখাটি একটু লম্বা হয়ে গেল। এর জন্য আমি ক্ষমা প্রার্থী।
আপনাদের জন্য অবিরাম অভিরাম শুভেচ্ছা এবং শ্রদ্ধা নিবেদন করি।
আপনাদের শব্দস্বজন
প্রফেসর নজরুল ইসলাম হাবিবী
প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক
‘কলম একাডেমি লন্ডন’ ও
‘সারাহ-হাবিব ট্রাস্ট লন্ডন’।
২৫.০২.২০২১,লন্ডন ।







Discussion about this post