হায় মোহরম
আয় মহরম!
নজরুল ইসলাম হাবিবী
মোহররম এই আল্লার মাস চার শ্রেষ্ঠ’র এক
এক রোজা এক সালের গুনা মুছে এনে দেয় নেক।
এই মাসে শত জড়িয়ে আছে খোদার অপার আশা,
মুসলমানের প্রিয় মাস এই অন্তহীন ভালবাসা ।
এই মাসে আসে মোহররমের বেদনা বিধূর দিন,
বিশ্ব জুড়ে আজিও ওঠে মাতমের সঙ্গীন!
চাঁদের বুকের কালো দাগ সেই হোসেনের বেদনা ঘাত,
সে বেদনা সাকী ঝর্ণার আঁখি, দুনিয়ার জলপ্রপাত!
প্রথম দিনের শিশুর কান্না, শেষের দিনের লাশ
হোসেনের লাগি’ বুক চাপড়ায় তুলে সে হায় হুতাশ।
বিধবারা ভুলে স্বামীর কষ্ট, এতিম পিতার শোক,
দ্যুলোকে ভূলোকে ‘হোসেন! হোসেন’! তমাবৃত দিবালোক!
আকাশে বাতাসে রোনাজারি ওঠে কিয়ামত- কারবালায়
রিদওয়ান কাঁদে জান্নাতে শোকে, হূর পরী তড়পায়!
সীমার কাঁদে, কাঁদে খঞ্জর, কাঁদে কারবালাবাসী,
কাঁদে মোর মন ভুবন গগন ইস্রাফিলের বাঁশি !
হায় কারবালা! একী দিলে জ্বালা দুনিয়ার ইতিহাসে,
যুগ যুগান্তর ভূধর খেচর আঁখিজলে নিতি ভাসে!
ওরে মুসলিম! আর কত কাঁদা? আর কত আঁখিজল?
কত কারবালা? সীমার? ফোরাত? মতভেদ আর দল?
দল পায়ে দলে আয় দলে দলে কুরআনের একতায়,
নব্য এজিদের টুটি টুটে চল আল্লার গান গাই।
ভুলো দল মত, তোল একামত, এজিদী অনলে থু,
“ওয়াতাচিমু বিহাবলিল্লাহে জামিয়াও ওলা তাফার্রাকু”।
দেশে দেশে আছে এজিদ সীমার নাস্তিক মরদুদ,
চাই আবাবিল শকুন আর চিল ছিঁড়ে খেতে নমরুদ।
হে স্রষ্টা, জীবন দ্রষ্টা, নাহি চাহি লহু আর,
চাই না খোদা আর শির জুদা, হোসেনের হাহাকার!
তুমি শান্তি, শান্তি ইসলাম, বিশ্বে শান্তি চাই
দুনিয়ার বনী আদমেরে কর পরম বন্ধু ভাই।






Discussion about this post