মোফাচ্ছেল হক শাহেদ:
প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা যেমনটা বাড়ছে,তদ্রূপ রাস্তাঘাটে যানবাহনের সংখ্যাও।
বাড়ছে অভিভাবকদের দুশ্চিন্তাও।
“ঘুরছে চাকা- কাঁপছে বুক,
ধমক ধাক্কা- ধুক্-ধুক্।
শব্দ গান- জব্দ কান,
তব্দা মনে- আনচান।
ভুতুড়ে বালক- হাতুড়ে চালক,
চতুরে বেদম- মাতালে অধম।
পথের পথিক- প্রাত্যহিক,
থেঁতলে জখম- নিচ্ছে দম।”
চট্টগ্রাম-রাউজান থানার গহিরা অদুদিয়া সড়কের পূর্ব ও পশ্চিম পার্শ্বে অবস্থিত অনেকগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
তন্মধ্যে “১৪২নং উত্তর ফতেহনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়”,“ফতেহনগর-নোয়াজিষপুর অদুদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়”,“ফতেহনগর অদুদিয়া ফাযিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা”।মাত্র কয়েক মিটার ব্যবধানে এ ৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।প্রতিষ্ঠানদ্বয়ের শিক্ষকমণ্ডলী ও শিক্ষার্থী ছাড়াও রয়েছে মাদ্রাসা সংলগ্ন দৃষ্টিনন্দন মসজিদের পাঁচ ওয়াক্ত মুসল্লী,এতিমখানা ও হেফজখানার শিক্ষার্থীরা।
ব্যস্ততম এ সড়কে টোয়েন্টিফোর আওয়ার বাস-ট্রাক,কার-মাইক্র,মোটরসাইকেল,সিএনজি অটোরিকশাসহ অসংখ্য যান চলাচল করে থাকে;কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মুখে বর্তমানে নেই কোন গতিরোধক হাম্প বা স্পিড ব্রেকার,নেই কোন ট্রাফিক সাইন,নেই কোন জেব্রা ক্রসিং।হাজারেরও অধিক শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন রাস্তা পারাপার হতে হয়।একটু অসতর্ক হলে ঘটে যাচ্ছে মারাত্মক দুর্ঘটনা।
তাদের মধ্যে অনেকেই আপনার/আমার ছেলে-মেয়ে অথবা ভাই-বোন।
স্থানীয় দোকানদার জানান,গতিরোধক কোন ব্যবস্থা না থাকায় ইতোমধ্যে অগণিত পথচারী,শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ছোটখাটো এক্সিডেন্টের শিকার হতে হয়েছে,গত ১৩ সেপ্টেম্বর ১৪২নং উত্তর ফতেনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোস্তফা জামান,স্কুল থেকে বের হওয়ার পথে সিএনজি ধাক্কায় দূর্ঘটনার শিকার হন;মাথায় রক্তক্ষরণের যন্ত্রণা নিয়ে বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম শহরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।
অমনোযোগী ড্রাইভিংয়ের কারণে ঘটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সামনে গাড়ির গতিসীমা সম্পর্কে ড্রাইভারদের সচেতন করাও স্কুল/মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে পড়ে। গাড়ির নির্দিষ্ট গতিসীমা উল্লেখ করে দুয়েকটা সাইনবোর্ড, 🪧🔇📚🚻⬅️ হলুদ ও কালো রঙের রাবার হাম্প ইত্যাদি বসালে গাড়ি চালকগণ কিছুটা সতর্কতার সহিত গাড়ি চালাবে, তাতে শিক্ষার্থী ও পথচারীরা বড় কোনো দুর্ঘটনার কবল থেকে রক্ষা পাবে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন,অদক্ষ চালক দিয়ে গাড়ি চালানোই সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ।
লক্ষ্য করছি সাম্প্রতিক সময়ে সড়ক দুর্ঘটনায় অনেক শিক্ষার্থীকে প্রাণ হারাতে হচ্ছে। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অভিভাবকদের অসহায়ত্ব আর অস্থিরতা বাড়ছেই। বেপরোয়া গাড়ি চালাতে গিয়ে যাতে জীবনহানি না হয়, সেদিকে অবশ্যই ড্রাইভারদের খেয়াল রাখতে হবে। আবার কিছু পথচারীও মাঝেমধ্যে দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দেন,নিজেরা অসতর্ক ভাবে রাস্তায় চলাফেরা করবে আর দোষারোপ করবে গাড়ি চালকদের।সুতরাং গাড়ি চালকদের পাশাপাশি পথচারীদেরও সচেতন হওয়াটা জরুরি।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলোর তরফ থেকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে দুর্ঘটনার কবলে প্রাণহানির সম্ভাবনা রয়েছে। অভিভাবক ও এলাকাবাসীর দাবি অন্তত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মুখে ছেলেমেয়েদের নিরাপত্তার স্বার্থে রাবার হাম্প/ স্পিড ব্রেকার এবং জেব্রা ক্রসিং বসানো হউক।শিক্ষার্থীরা যাতে নিরাপদে রাস্তা পারাপার এবং স্কুল-মাদ্রাসায় যাতায়াত করতে পারে।এক্সিডেন্টে যাতে কোন মায়ের কোল খালি না হয় সেক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ তড়িৎগতিতে যথাবিহিত ব্যবস্থা নেবেন বলে অভিভাবকেরা আশা করছে।।







Discussion about this post