শিষ্টাচার এমন এক ধরনের আচরণ যা যে কোন সময় সমাজের ভদ্র ও মার্জিত আচরণকে প্রতিনিধিত্ব করে। এক কথা সামজের শান্তি নিশ্চিত করে। শিষ্টাচার যার আভিধানিক অর্থ হচ্ছে “ভদ্র ব্যবহার” বা “শালীনতা”। রাজনৈতিক শিষ্টাচার হচ্ছে রাজনৈতিক আচরণ যা হবে ভদ্র ও মার্জিত। একটি সমাজের পারস্পরিক সম্পর্ক শান্তি শৃঙ্খলা আর সুন্দরভাবে জীবন পরিচালনা ও সমাজিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে রাজনৈতিক মতবেদ থাকা স্বত্তে ও সে নিয়ম- কানুন বা প্রথা মেনে জীবনের প্রতিটি পথ চলা।
বর্তমানে রাজনৈতিক শিষ্টাচার বর্হিভূত আচরণে সব দলের নেতৃত্ব কলুষিত, ২৪ পরবর্তী সময়ে এই দেশের জনগন তা মোটেই আশা করেনি।
প্রতিহিংসা,আগামী সংসদে তারা ৩০০ আসনে একমাত্র প্রতিনিধিত্ব করবে এমন কথা বা মনোভাব, নিজকে বা নিজের দলকে সর্বেসর্বা মনে করা, প্রতিপক্ষকে নানা নামে,বেনামে কুৎসা রটনা করে ঘায়েল করা, নিত্যদিন কাজ হয়ে দাড়িয়েছে। অন্যকে অশোভন আচরন করা একে অপরের নামে কাদা ছাড়া ছুড়ি জনগন আশা করে না যা সাধারন মানুষের মধ্যে বিবাদ, বিভাজন ও সংঘাতময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করে যা কখনও জনগনের কল্যান বয়ে আনে না। বঙ্গবন্ধু ও জিয়াউর রহমানের জীবদ্দশা শিষ্টাচার বর্হিভূত আচরণ একে অপরকে হেয় করার কথা তেমন শুনা যায় না। আমি অন্তত শুনি নাই। আমাদের দেশে বা ভিন্ন দেশে ও রাজনীতিতে প্রতিপক্ষ থাকে একে অপরের সার্বিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করবে তাঅতি স্বাভাবিক তবে তা যেন হয় মার্জিত আর তখন তা দোষের হয় না। সমালোচনা কতটুকু করা যাবে তার ও একটা সীমা-পরিসীমা থাকবে যাদের এ ধরনের নুন্যতম জ্ঞান নেই তাদের কখনও রাজনীতি করার কোন অধিকার নেই। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে আমরা দেখেছি আমাদের দেশীয় রাজনীতিতে পালটাপালটি বক্তব্য, একে অপরের নিন্দা করা, চরিত্র হনন একটি স্বাভাবিক ঘটনা। বড় বড় দু,চারটি দলের রাজনৈতিক দলের বিভাজন এর মুল কারন। আমাদের দেশে রাজনীতি, গণতন্ত্র, মানবাধিকার দেশের স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর ও পরিপুষ্ট হয়নি। এই দেশের রাজনীতির, গনতন্ত্রের জন্য যা শুভ লক্ষণ নয় যার ফলে নানা অজুহাতে বিদেশী হস্তক্ষেপ নানাসময়ে পরিলক্ষিত হয় যার জন্য এই দেশের রাজনীতিবিদরা দায়ী।
এইদেশে জনগনের রাজনীতি হবে জনগনের জন্য। ৭১ স্বাধীনতা,৭১ গণহত্যা ২৪ গণহত্যা জনগন মনে রাখবে। এ দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, স্বৈরাচার বিদায়,সব গুলো দেশের সব জনগনের অত্মত্যাগ,প্রচেষ্টার ফসল।তারাই সিদ্ধান্ত নেয় তারা,ই একমাত্র সিদ্ধান্ত নিতে পারে এর জন্য একমাত্র উত্তম ব্যবস্থা হচ্ছে প্রতি গনতান্ত্রিক দেশে নির্বাচন।
প্রতিবারে নির্বাচন আসলে রাজনৈতিক শিষ্টাচার- গালে সবাই চপেটাঘাত করে যা নানান ধরনের রাজনৈতিক সমস্যা ও সামাজিক অশান্তি,হানাহানি,মারধর,খুন নানা বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।
উন্নত বিশ্বে দেখা যায়, তাদের রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ আমাদের চেয়ে অনেক উন্নত।
সেখানে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলে ও একে অপরের প্রতি সম্মানবোধ প্রশংসার দাবি রাখে।
আমাদের রাজনৈতিক শিষ্টাচার বলতে নেই। এখানে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ মানে সবচেয়ে বড়শত্রু। তার সাথে ছবি তোলা,কথা বলা তার বিপদে বা অসুস্থতা দেখতে যাওয়া যেন অপরাধ।
তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ভিত্তিহীন মামলা দেওয়া ,হয়রানি করা ব্যক্তিগত আক্রমন করা, চরিত্র হনন করা অনেকের মতে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ফায়দা লুটবার যেন হাতিয়ার। প্রতিটি রাজনৈতিক দল যদি ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন না করে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া মসৃণ, শান্তিপূর্ণ না হয়,নির্বাচন কমিশন থেকে শুরু করে সব বিভাগ স্বাধীনও স্বচ্ছ না হয় রাজনৈতিক দলগুলির অভ্যন্তরে গণতান্ত্রিক চর্চা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হয়, পরাজিত-বিজয়ীকে অভিনন্দন জানানোর মন মানসি- কতা তৈরী না হয় প্রতিটি দল যদি সকল হীনমন্যতা দুর করে প্রতিটি কর্মে, মননে নিজের দলের প্রত্যেককে তার আচরনে সুসংহত আর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা শীল না হয় তত দিন গনতান্ত্রিক ব্যবস্থা টেকসই হবে না,হতে পারে না।
দেশের প্রতিটি রাজনৈতিক নেতাদের আসল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত জনগনের কল্যান,দেশের উন্নয়ন এ দেশের প্রকৃত ইতিহাস ঐতিহ্য, সংগ্রামী ভুমিকা বর্হিবিশ্বে উপস্থাপন ।বর্তমানে আমাদের দেশে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে দূর্নীতি আর অন্যতম আলোচিত সমস্যা হচ্ছে রাজনৈতিক শিষ্টাচার।
আগামীতে রাজনৈতিক শিষ্টাচারকে যে কোন দলের নেতা কর্মী না মানে বা অবজ্ঞা করে তাহলে ভয়াবহ সংকটে পড়বে দেশ।
দূর্নীতি নিয়ে যদি বলা হয় তাহলে বলতে হবে ,দেশের পুরো প্রশাসনের উপর থেকে নীচ পর্যন্ত শতভাগ দূর্নীতি গ্রস্ত।
ইতিমধ্যে একটি রাজনৈতিক দল তাদের এক সমাবেশে বলেছে তারা নির্বাচিত হলে বিনা শুল্কে কোন গাড়ী নিবে না। প্লট বা কোন সুবিধা নিবে না।তারা নির্বাচনে প্রথমে যে নির্বাচনী হলফ নামা দিবে তাতে যে পরিমান অর্থ সম্পদের মালিক থাকবে তার চেয়ে এক টাকা ও বাড়বে না বরং মানুষের কল্যানে তার থেকে খরচ হবে।তারা অবশ্যই সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্যতা রাখে।
বাকি দল গুলো একটু এগিয়ে সবাই সমসুরে ঐ দল সহ বলুক আমরা বিগত সরকারের মত হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করবো না,এক টাকা ও পাচার করবো না। আমাদের সন্তানরা এই দেশে পড়বে প্রয়োজনে বিদেশ থেকে উচ্চতর প্রশিক্ষন নেবে,আমরা সবাই এদেশে চিকিৎসা নিবো,চিকিৎসা খাতকে আমরা সকলের জন্য আন্তজার্তিক মান সম্পন্ন করবো সে প্রতি শ্রুতি জনগন চায়।
দেশের বাইরে কোথাও বাড়ি, প্লট,প্লাট নিবো না। সুইস ব্যাংক সহ কোথা কোন টাকা রাখবো না,কাউকে কখন ও রাখতে দিবো না, বিগত সরকারের এমপি, মন্ত্রীদের মত শতভাগ দূর্নীতি গ্রস্ত হবো না,বিন্দুমাত্র আমরা কেউ কোন দূর্নীতি করবো না, কোন দলে কোন চাঁদাবাজ থাকবে না,শতভাগ নির্মুল করবো।
আমরা যে কোন দামী কোট, ট্রাই পরিধান করবো না, দ্বৈত নাগরিকত্ব নিবোনা না,নিজের দেশ ছেড়ে যে কোন সময় কোথাও যাবো না,অন্যায় করলে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী যে বিচার হয় তা মেনে নেব। আমাদের বিচার বিভাগকে স্বচ্ছও সকল প্রশ্নের উপরে স্থান দিবো নিরপেক্ষ ও স্বাধীন করবো।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মত যেন মৃত্যুর পর কোন রাজনীতিবিদের নামে, বেনামে যে কোন ব্যাংকে কোন ব্যাংক ব্যালেন্স না থাকে ,না থাকে কোন গাড়ী বাড়ি তার নিশ্চয়তা বিধান করবো।
এমন কোন বক্তব্য কোথাও রাখবো না যা শিষ্টাচার বর্হিভূত আর দৈনন্দিন জীবনে নিজের জীবনকে এমন ভাবে পরিচালনা করবো তা যেন হয় দেশের অতি এক জন সাধারণ মানুষের মত।
সর্বোপরি জনগনের কল্যানে জন সম্মুখে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবো। প্রতিটি রাজনৈতিক দল নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সদস্যদের নিকট হতে চাঁদা সংগ্রহ করবো। এই সব নিয়ে বিতর্কের উদ্ধে থাকবো ,সমাজ কল্যান মুলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলবো, দলের নেতা কর্মীদের স্বাধীন উদ্যোক্তা হতে সহযোগিতা করবো, সবাইকে যার যার দলের পক্ষ থেকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবো। সবাই মিলে সচিবালয়ের সচিব থেকে শুরু করে সরকারী বেসরকারী প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে শতভাগ দূর্নীতি মুক্ত করবো এই সব জনগনের নিকট প্রতিজ্ঞা ও বাস্তবায়ন করলে তখনই জুলাই-২৪ শহীদদের আত্মত্যাগ স্বার্থ কতা পাবে সেই নিশ্চয়তা ও আজ জনগন চায়। জুলাই পদযাত্রা বা ভিন্ন ভিন্ন দলের ভিন্ন ভিন্ন নামে আয়োজন জনগনের প্রকৃত চাহিদার পরিপন্থি বলে জন গন মনে করে।
বর্তমানে নতুন, পুরাতন যারা রাজনীতি করছে তাদের রাজনীতি করার মুল উদ্দেশ্য হচ্ছে ক্ষমতার লোভ, অর্থ উপার্জন, নিজ ব্যবসাকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে সম্প্রসারন নতুন নতুন ব্যবসা তৈরী করণ, হাজার হাজার কোটি টাকা আয়করণ, ইসলাম কে অপব্যবহার করে ধোঁকা দিয়ে মানুষকে বোকামো বানানো আর পারিবারিক সুত্রে রাজনীতিকে ইতিমধ্যে অনেকে ব্যবহার করেছে দূর্নীতি করেছে যদি ও তা পাপ,অন্যায় তবে সৎ পথে মানুষের কল্যানে রাজ পরিবারের কারোর দেশ ও মানুষের কল্যানে অবদান থাকে তা জন সম্মুখে উপস্থান করে জনমানুষের সমর্থন আদায় করা গনতন্ত্রি তিক ব্যবস্থায় দোষের কিছু কিছু নয়।
মনে রাখতে হবে, কোন অর্জন কোন গোষ্টির একক নয় কোন অর্জন একক কোন পরিবারের নয়, তার দলের নয়।৫২,৭১,২৪ সব অর্জন এই দেশের সব মানুষের। এই সব অর্জনকে কোন দল বা গোষ্টি যখন ই একক ভাবতে শুরু করেছে তার পতন হয়েছে না হলে আগামীতে হবে এটি নিশ্চিত। অতীতের মত বর্তমানে অনেক রাজনীতি বিদ,নেতা, কর্মী সমর্থক অন্যকে ঘায়েল করতে নানা ধরনের কটুক্তি অশালীন আচরন করছে তা অবশ্যই নিন্দনীয়।
সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সত্য তুলে ধরলে তা যুক্তি সহকারে মার্জিত ভাষায় উত্তর না দিয়ে অনেক দলের সমর্থক অশালীন আচরন করছে যা শিষ্টাচার বর্হিভূত।
কে চাঁদাবাজ,কে রাজাকার, কে গডফাদার তা জনগন ভালো জানে।এই ধরনের শিষ্টাচার বহির্ভুত আচরন যে
কোন দলের বা ব্যক্তির সুনাম, গ্রহনযোগ্যতা বাড়ায় তা মোটেই নয় বরং তা কমায়।বিগত নিপীড়ক সরকারের আচরণ ই তার প্রমান।বর্তমানে আমাদের দেশের মানুষ খুব সচেতন তারা সবই বুঝে এই ধরনের আচরণ দেশে
গনতন্ত্র,শান্তি, শৃঙ্খলা নষ্টের মুল কারন।
কাজেই আগামীতে প্রতিটি রাজনীতিবিদ, নেতা, কর্মী, সমর্থক তাদের আচরণ যেন হয় মার্জিত ও ভদ্র।
মনে রাখতে হবে জনগন, ই সকল ক্ষমতার উৎস।
লেখক –
মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম।
কবি,প্রাবন্ধিক ও সংগঠক।







Discussion about this post