শাহাদাত হোসেন পলাশ :
কলম একাডেমি লন্ডনের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক নজরুল ইসলাম হাবিবী ১৯৬৭ সালের ২ জানুয়ারি চট্টগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলার অন্তর্গত কেউটিয়া গ্রামে এক সভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁহার পিতার নাম আলহাজ্ব হাবিবুর রহমান, মাতার নাম আলহাজ্ব সায়েরা বেগম। তাঁরা ছয় ভাই, চার বোন। হাবিবী স্যার ভাই বোনদের মাঝে ৬ষ্ট। স্যারের ছদ্ম নাম – সাগর সাহারা।
শিক্ষাগত যোগ্যতা –
হাবিবী স্যার মাদ্রাসা শিক্ষা শেষ করে ভর্তি হন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে, পরবর্তীতে তিনি শেষ করেন বি,এ (অনার্স), এম এ ( ডবল), ডিপ্লোমা ইন মিডিয়া ( লন্ডন), ক্লাসিকাল এরাবিক ( অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি), ফিলোসফী ( অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি)। এতিমখানা থেকে অক্সফোর্ড; অনেকটা অবাক হবার মত বিষয়। অনেক ঘাত প্রতিঘাত সহ্য করে তিনি লেখা পড়া শেষ করে সাহিত্যের মাধ্যমে বিশ্বজয় করেন।
উপাধি – সাহিত্যের বাতিঘর
( Beacon of literature).
হাবিবী স্যারের এই উপাধির পিছনে অনেক কারণ আছে বলে আমি মনে করি। সাহিত্যের প্রতি তাঁর বহুমুখী প্রতিভা, বাংলা সাহিত্যের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁর অবদান লক্ষণীয়, তাঁর প্রতিভার আলো দিয়ে তিনি গ্রাম গঞ্জের অসংখ্য মানুষের মাঝে সাহিত্যের আলো জ্বালাতে সক্ষম হয়েছেন। বাংলা সাহিত্য তিনি নতুন স্টাইল ও নতুন শব্দ সংযোজন করেছেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হাবিবিকস্। যা সাহিত্যের জন্য ইতিহাস।
হাবিবী স্যার যেন এক সুরের পাখি। সাহিত্যের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁর অবদান লক্ষণীয়। রঙ্গিন ডানায় ভর করে পাখা মেলতে মেলতে এ দেশ হতে ও দেশ, পৃথিবীব্যাপি অবাধ বিচরণের কৌতুহল নিয়ে বেড়ে উঠতে শুরু হলো এই প্রিয়জনের জীবন। কলমের পতাকা নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরকালে এই মহান প্রতিভার সাথে আমার প্রথম সাক্ষাৎ হয়। তাঁর সাথে মেশার পর বুঝতে পারলাম তিনি একজন সাদা মনের মানুষ। সাহিত্য চর্চা করতে গিয়ে জীবনের করুণ ইতিহাসও যেন তাঁকে অনুসরণ করলো বহুবার বহুভাবে।
বর্তমানে তাঁর চব্বিশটি বই প্রকাশিত হয়েছে, আরো কয়েকটি বই প্রকাশের অপেক্ষায় আছে।
তিনি অনেকের বই সম্পাদনা করেছেন। ভূমিকা লিখেছেন।
এছাড়া দেশ ও দেশের বাহিরে অনেকেই হাবিবী স্যারকে নিয়ে অনেক বই প্রকাশ করেছেন। অনেকে হাবিবী স্যারের উল্লেখযোগ্য দিকগুলো তুলে ধরেছেন। জীবনী নিয়ে লিখেছেন।
বাংলা সাহিত্য এক বিরল ইতিহাস তিনি রচনা করেছেন। জীবিত অবস্থায় তিনি হয়ে উঠলেন সাহিত্য জগতের এক কিংবদন্তি!
তিনি বেশ কয়েকটি প্রাতিষ্ঠানিক সংগীতের সফল সুরকার ও গীতিকার। গানগুলি বাংলাদেশের বিভিন্ন স্কুলে নিয়মিত গীত হয়। শিল্পী না হয়েও, কোন ধরনের সাধনা না করেও তিনি গাইতেও পারেন।
এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বৌদ্ধ সংগীত। তিনি গীতার বেশ কিছু অংশের (কাব্যে) সফল অনুবাদক।
অসাম্প্রদায়িক চেতনার এই মহান ব্যক্তি অসংখ্য গান গজল কবিতা এবং প্রবন্ধ লিখেছেন। প্রতিদিন লিখে চলেছেন। তাঁর লেখা বিশ্বের বেশকিছু ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
লিখেছেন নাটকও। করেছেন নাটকে অভিনয়।
পরিচালক –
হাবিবী স্যার হচ্ছেন প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক আন্তর্জাতিক সাহিত্য ও সমাজ কল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান ‘কলম একাডেমি লন্ডন’।
বাংলাদেশ এবং লন্ডন থেকে রেজিস্ট্রেশন প্রাপ্ত চ্যারিটেবল সংগঠন ‘সারাহ- হাবিব ট্রাস্ট লন্ডন’ , ‘কলম টিভি লন্ডন’
‘কলম সাংবাদিক ইউনিট’।
তিনি সহ-সভাপতি ‘জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন ইন ইউকে’।
মহাসচিব ‘ওয়ার্ল্ড রেমিট্যান্স ডে’, বাস্তবায়ন কমিটি।
হাবিবী স্যার হলেন বিশ্ব লেখক অধিকার দিবস পালনের প্রস্তাবক।
‘বিশ্ব লেখক অধিকার’ দিবস (World Writer’s Right Day).
এই দিবসটি ১৮ সেপ্টেম্বর প্রতিবছর বিশ্বময় উদযাপিত হয়।
১৯ দফা –
হাবিবী স্যার ‘কলম একাডেমি লন্ডন’ এর মাধ্যমে ১৯ লক্ষ্য-উদ্দেশ্য এবং বিশ্বময় লেখকের স্বার্থ এবং অধিকার সংক্রান্ত ১৯ দফা দাবি বিশ্ব নেতাদের কাছে উত্থাপন করেছেন। তাঁর দাবী বিশ্বের লেখক-কবি সম্মানের সহিত গ্রহন করেছেন।
তিনি প্রথম ব্যক্তি যিনি নারী শিক্ষার অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনকে নোবেল পুরুস্কার দেওয়ার জন্য প্রস্তাব করেছেন।
শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর অবদান –
হাবিবী স্যার দেশে বিদেশে প্রতিষ্ঠা করেছেন মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল, হেফজখানা ও এতিমখানা।
দেশে-বিদেশে প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘কলম পল্লী স্কুল’, ‘কলম পল্লী পাঠাগার’- তাঁর আরেক স্মরণীয় অবদান।
প্রফেসর নজরুল ইসলাম হাবিবী কলেজ জীবন পার করে যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পা রাখেন তখন থেকেই তিনি লেখালেখি শুরু করেন। প্রকাশ করেন পত্র-পত্রিকা, দেয়ালিকা ও লিটল ম্যাগাজিন। যাত্রাপালা, নাটক, অভিনয়, গান, গজলেও তাঁর উপস্থিতি লক্ষণীয়।
সমাজ সেবক –
সমাজসেবা ও আত্মমানবতার কল্যাণে বিলিয়ে দেওয়া এই নজরুল ইসলাম হাবিবী স্যার ১৯৯৯ সালে পাড়ি জমালেন বিদেশের মাটিতে, সুদুর লন্ডনে। বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর, সভ্য ও ধনী দেশে।
সেখানে অল্প সময়ের মধ্যে কুড়িয়ে নিলেন মূল্যবান রত্নভান্ডার। করলেন নিজের যোগ্যতা, মেধা মননশীলতার ফসল উচ্চ পর্যায়ের ডিগ্রী অর্জন। হলেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। গড়ে তুললেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সুদুর লন্ডনের মত স্থানে শিক্ষকতা, সাহিত্য ও সমাজ সেবার মাধ্যমে তিনি হয়ে উঠলেন সকলের প্রিয়জন, প্রিয় মুখ।
দেশে-বিদেশে তিনি অনেকের বই সম্পাদনা করেছেন। ফ্রী প্রকাশের ব্যবস্থা করেছেন। অনেক বই প্রকাশের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
মানব সেবায় তাঁর অবদান –
বাংলাভাষাকে বিশ্বব্যাপি ছড়িয়ে দেওয়ার প্রয়াসে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তিনি এতিম অসহায় শিক্ষার্থীদের জন্য বেশ কিছু অনুদানের ব্যবস্থা করেছেন নিরবে নিভৃতে। তাঁর আর্থিক সহযোগিতায় পড়াশোনা করা অনেকেই বর্তমানে সুপ্রতিষ্ঠিত। সেই সদা হাস্যোজ্জল সাদা মনের মানুষটি হলেন প্রফেসর নজরুল ইসলাম হাবিবী।
তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টার দরুন যে যে সাহিত্য আন্দোলনের সূচনা হয়েছে, বিশ্ববাসীর কাছে তা আজ
চিরভাস্বর।
বর্তমানে তিনি স্বপরিবারে লন্ডনে অবস্থান করছেন। তাঁর দুই ছেলে দুই মেয়ে।
আমি তাঁর জন্য দোয়া করি। তিনি হাজার বছর বেঁচে থাকুক সাহিত্য এবং সমাজসেবার জন্য। তাঁর জীবনের শ্লোগান “অক্ষরে অমরতা”। এই শ্লোগান আজ বিশ্বময়। আমি এই শ্লোগানের পতাকাবাহী হতে পেরে আনন্দিত।
তাঁর বহুল জীবনের কথা সংক্ষেপে লেখা সম্ভব নয়। দুটি কথা লিখতে পেরে আমি আনন্দিত।
সাহিত্য এবং সমাজের জন্য আসুন আমরা হাবিবী স্যারের জন্য দোয়া করি।
উপদেষ্টা সদস্য,
কলম একাডেমি লন্ডন, সংযুক্ত আরব আমিরাত চ্যাপ্টার ।







Discussion about this post