নিজস্ব প্রতিনিধি, মান্দা (নওগাঁ) : নওগাঁর মান্দায় ১৪নং বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের পারশিমলা গ্রামের উত্তরপাড়ার মাত্র ৫০০ মিটার কাঁচা রাস্তার দুরবস্থার কারণে বছরের পর বছর চরম দুর্ভোগে পোহাচ্ছে স্থানীয় এলাকাবাসী ।
সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তাটি হাঁটুসমান কাদা-পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে প্রায় ২৫০টি পরিবার কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং কয়েক হাজার মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হান্নান শাহানার বাড়ি থেকে ঈদগাহ মাঠ হয়ে মসজিদ পর্যন্ত প্রায় ৫০০ মিটার কাঁচা রাস্তা বৃষ্টির কারণে সম্পূর্ণ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিকল্প কোনো সড়ক না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিদিন হাঁটুসমান কাদা মাড়িয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বছরের অন্তত তিন থেকে চার মাস এ দুর্ভোগ স্থায়ী হয়। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে রাস্তাটি কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থী, কৃষক, চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। অনেক সময় প্রয়োজনীয় কাজেও বাড়ির বাইরে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
গ্রামবাসী জানান, রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে অ্যাম্বুলেন্স, ভ্যান কিংবা রিকশা কোনো কিছুই প্রবেশ করতে পারে না। মোটরসাইকেল ও সাইকেল চলাচলও প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। কেউ অসুস্থ হলে তাঁকে কাঁধে করে কর্দমাক্ত রাস্তা পার করে মূল সড়কে নিয়ে যেতে হয়। এতে জরুরি চিকিৎসাসেবা পেতেও বিলম্ব ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আনোয়ার শাহানা ও মো. রায়হান শাহানাসহ কয়েকজন বলেন, “আমাদের দুর্ভোগের কথা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। বৃষ্টি হলেই আমরা যেন বিচ্ছিন্ন হয়ে যাই। হাটবাজারে যেতে কষ্ট হয়, কৃষিপণ্য সময়মতো বিক্রি করা যায় না। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তা সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।
এ বিষয়ে ১৪নং বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম গোলাম আজম বলেন “রাস্তাটির সমস্যা দীর্ঘদিনের। স্থানীয়দের ভোগান্তির বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পেলে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মান্দা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ইঞ্জিনিয়ার আরিফুল ইসলাম বলেন, “২০২৫-২৬ অর্থবছরের বরাদ্দ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। আগামী অর্থবছরের বরাদ্দ পাওয়া গেলে রাস্তাটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এ সড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাঁদের মতে, সামান্য একটি রাস্তা সংস্কার করা হলে কয়েক হাজার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান হবে এবং বর্ষা মৌসুমে যোগাযোগ ব্যবস্থাও স্বাভাবিক থাকবে।







Discussion about this post