পশ্চিম গুজরায় ইউপি নির্বাচন ঘিরে বিএনপির ৭০টি ফরম বিতরণ
রাউজান প্রতিনিধি :
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে সামনে রেখে উৎসবমুখর, স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনী পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার ১১ নম্বর পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নে মতবিনিময় সভা করেছে ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে আয়োজিত এ সভায় ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে আগ্রহীদের মধ্যে প্রাথমিক তালিকা প্রণয়নের লক্ষ্যে মোট ৭০টি আবেদন ফরম বিতরণ করা হয়।
সভায় প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনী পরিবেশের পাশাপাশি পারস্পরিক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও সাংগঠনিক ঐক্যের চিত্র ফুটে ওঠে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা একে অপরের সঙ্গে হাসিমুখে ছবি তোলেন এবং নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় অংশ নিলেও ব্যক্তিগত বিরোধ বা প্রতিহিংসায় না জড়িয়ে পরস্পরের সহযোগী হিসেবে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। দলীয়ভাবে যাঁকে চূড়ান্ত সমর্থন দেওয়া হবে, তাঁর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয়ও জানান তাঁরা।
পশ্চিম গুজরা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মোহাম্মদ এনাম উল্লাহর সভাপতিত্বে এবং চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদেরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কয়েক শ নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। সভায় প্রথমবারের মতো উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নারীর উপস্থিতি ছিল বিশেষভাবে লক্ষণীয়।
সভায় পশ্চিম গুজরা ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব কাজী সরোয়ার খান মনজু আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আবেদন ফরম পূরণ ও জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান, প্রাথমিক তালিকা প্রণয়ন এবং দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি ফরম পূরণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিকভাবে উল্লেখ করা এবং সাংগঠনিক নির্দেশনা অনুসরণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। পাশাপাশি সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা, পারস্পরিক সহযোগিতা নিশ্চিত করা এবং দলীয় শৃঙ্খলার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় বক্তব্য দেন পশ্চিম গুজরা ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব কাজী সরোয়ার খান মনজু, প্রবীণ বিএনপি নেতা হারুন উর রশিদ সিকদার ও সলিমুল্লাহ খান, পশ্চিম গুজরা ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি আমীর আলী, বিএনপি নেতা আবদুর রশিদ ঘরি, রাউজান উপজেলা যুবদলের নেতা ইয়াকুব বাদশা, রাউজান উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার শাহ, আজম আলী, পশ্চিম গুজরা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সৈয়দ শহীদুল ইসলাম, বিএনপি নেতা মোহাম্মদ লোকমান হোসেন মেম্বার, জাহানারা বেগম মেম্বার, মোহাম্মদ ওসমান, আমিন ফারুকী, আবদুল মান্নান মাস্টার, মোহাম্মদ নুরুন্নবী, মোহাম্মদ ইলিয়াস, মোহাম্মদ মুবিন, লোকমান হোসেন, নুরুল আকতার, মোহাম্মদ মনছুর, মোহাম্মদ ইস্কান্দার, আতিকুল্লাহ, জাহাঙ্গীর আলম, আমজাদ হোসেন, নেছার উদ্দীন, মাহবুবুল আলম, হোসেন সওদাগর, আবদুল মালেক, জাফর, সেলিম উদ্দিন তালুকদার, জিয়াউদ্দিন বাবলু, আজগর হোসাইন, করিম উল্লাহ, মোহাম্মদ এনামুল হক, মোহাম্মদ করিম, রবিউল হাসান, নজরুল ইসলাম, মোহাম্মদ শাহাবুল আলম, ফিরোজ আহমদ, মোহাম্মদ শহীদ, আবু মনছুর, বিপ্লব বিশ্বাস, মিলন বিশ্বাস, মোহাম্মদ নেজাম, মোহাম্মদ ফারুক, মোকতার হোসেন, নাছিমা আকতার, জোসনা আকতার, আলতাফ হোসেন, ইসমাইল হোসেন, ইয়াছমিন আকতার, মোহাম্মদ তৈয়ব ও মোহাম্মদ রাশেদসহ স্থানীয় বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতারা।
সভায় পশ্চিম গুজরা ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক এনাম উল্লাহ সভাপতির বক্তব্যে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৃণমূল পর্যায়ে গণতান্ত্রিক চর্চা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনে একাধিক আগ্রহী প্রার্থী থাকা স্বাভাবিক। তবে প্রতিযোগিতাকে কোনোভাবেই ব্যক্তিগত বিরোধ কিংবা প্রতিহিংসায় রূপ দেওয়া যাবে না। দলীয় সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
তাঁরা আরও বলেন, সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে যোগ্য, জনসম্পৃক্ত ও জনবান্ধব ব্যক্তিদের অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। প্রাথমিক তালিকা প্রণয়নের জন্য আবেদন ফরম বিতরণের এ উদ্যোগ সম্ভাব্য প্রার্থীদের আগ্রহ যাচাই এবং তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারে ভূমিকা রাখবে।
সভায় আবেদন ফরম সংগ্রহকারী সম্ভাব্য প্রার্থীরা একসঙ্গে ছবি তুলে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্প্রীতির বার্তা দেন। তাঁরা প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, প্রতিযোগিতা থাকলেও পশ্চিম গুজরায় কোনো প্রতিহিংসা থাকবে না। দলীয়ভাবে চূড়ান্ত সমর্থন যিনি পাবেন, তাঁর পক্ষে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন।
উল্লেখ্য, প্রাথমিক তালিকা প্রণয়নের উদ্দেশ্যে বিতরণ করা ৭০টি আবেদন ফরমের মাধ্যমে পশ্চিম গুজরা ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে আগ্রহীদের প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগের মধ্য দিয়ে আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে তৃণমূল পর্যায়ে অংশগ্রহণমূলক, সৌহার্দ্যপূর্ণ ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ গড়ে তোলার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা।






Discussion about this post