গুণী একজন বান্দাহ – নজরুল ইসলাম হাবিবি
চৌধুরী হাফিজ আহমদ
আমার সাথে তাহার পরিচয় লেখা লেখি থেকে মতবিনিময় থেকে সখ্যতা এর থেকে ঘনিস্টতা , আসলে ব্যবহার এমন এক আজব ব্যাপার যার আন্দাজ করা আমাদের পক্ষে কঠিন , এই ব্যবহারিক মাধুর্য দিয়ে ই মন জয় করেছেন তৎকালীন জাহেলদের রাসুলুল্লাহ সঃ । একেকটা লোক ছিল অন্ধকারের খনি সেখান থেকে আলোর ফোয়ারায় নিয়ে এসে উপাধি দিয়েছেন সাহাবী । সেই মধুর ব্যবহার মধুময় লেখনী যার তিনি হলেন জনাব অধ্যাপক নজ্রুল ইসলাম হাবিবি ভাই , থাকেন লন্ডনে কর্ম ও লন্ডনে , এখন প্রায় ৬০ এর কাছা কাছি বয়স – অত্যন্ত পরিশ্রমী এই ব্যক্তি কখনো অবসর নেই , এই বয়সে ও পরাশুনা করেন এমন কি তিনি বাসে চড়ে নিয়মিত ইউনিভার্সিটিতে যান তাও অক্সফোর্ডে , মাসটারস করেছেন , অনেক বইয়ের লেখক শত শত গজল লিখছেন এমন কি লিখছেন আঞ্চলিক ভাষায় ও অনেক গান , তিনি অনেকের সাথে ইনভেস্ট করেছেন তাহাদের স্বাবলম্বী করতে , সাহায্যে তিনি দিল দরিয়া , মেয়ে ছেলে স্ত্রি সহ তাহার পরিবার ও মাশাহ আল্লাহ বেশ সুনামি , যেহেতু পরিচয় আছে তাই অনেক সময় দাবী করি বায়না ধরে বলি এমন কি জোর করে বলি অনেক ব্যাপারে – যদিও জানি আমি তিনি একজন শিক্ষক তাহার কাছে আছে মহানুভবতা তাহার কাছে আছে সম্মান এবং মমতা , তাই কোন দিন কোন আবদার ফেলে দেন নাই , অকাতরে দানে রাজি হয়েছেন , দেশে যাব রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দেখতে আমার প্রোগ্রাম সাজানো অযতা সময় ক্ষেপনের সময় নাই , নিজের মনে হচ্ছে যেন আমি যাব তুফান বেগে ফিরব কি না জানিনা , তবু ২ দিন রাখলাম আমার ব্যক্তিগত ইয়াতিমদের দেখতে , আমার বা আমাদের অঙ্গনে প্রায় ৪১ টি ইয়াতিম খানার প্রজেক্ট এর সাথে যোগাযোগ , আমার বাবার প্রতিস্টা করা ও আছে এর মধ্যে অন্যতম , তাহাদের দোয়া নেয়া ই আমার কাজ । ভালই লাগে এই ছোট ছোট ইয়াতিম দের কাছে গেলে , তাহাদের মায়াভরা চেহারা তাহাদের কাছে টেনে নেয়া ভাইয়া বলে ডাক সব কিছুই আমার কাছে এক বিশাল প্রাপ্তি , আমি তাই সব সময় সচেতন থাকি তাহাদের কাছে গেলে হাদিয়া নিতে – বই ছাড়া ভাল হাদিয়া কি হতে পারে !! জনাব হাবিবি ভাইকে বললাম কয়েকশ বই দিতে – তিনি ও রাজি হয়ে বই পাঠালেন এই সেই বই আমি দিলাম ইয়াতিম দের বিলিয়ে – বাংলা এবং ইংরেজিতে তিনি লিখেছেন ‘ মুসলিম আদর্শ শিক্ষা ” বই পেয়ে সবাই খুশী এমন কি শিক্ষক মহোদয় চাইলেন আর কিছু তাহাদের জন্য কিন্তু পর্যাপ্ত নয় তাই দিতে পারিনি – অনেক ব্যয় বহুল তাই জনাব হাবিবি সাহেবকে আর দিতে বলতে লজ্জাবোধ করেছি তাই বলিনি । তিনি তাহার কাজে এত ব্যস্ত এবং জনপ্রিয় যে তাহাকে পেতে অপক্ষা করতে হয় , তিনি নিয়মিত স্তানীয় টিভি তে অংশ নিয়ে দর্শকদের শোনান গজল হামদ ও নাত । তিনি কলম নামে একটি সাহিত্য সংঘটনের প্রধান প্রান । সন্দেহ নাই তিনি গুনি একজন আল্লাহর বান্দাহ – উনার কাছে যে প্রতিভা রয়েছে তাহা থেকে সমাজ অনেক উপকৃত হচ্ছে , আমাদের কাজ হল উনাদের মত মহৎ শিক্ষাপ্রিয় দের থেকে শুধু নেওয়া – উনারা দিতে জানে বলেই আল্লাহ তাহাদের শিক্ষার মত মহৎ কাজে ব্যস্ত রাখছেন । জনাব হাবিবি সাহেব এত দিল দরিয়া আমি আগে বুঝতে পারিনি – তাহার ব্যাপারে খোজ নিয়ে জানলাম তিনি নিয়মিত চ্যরিটি করেন উনি এবং উনার স্ত্রী সারাহ হাবিবি নামে একটা ট্রাষ্ট চালান , আমি যতই জানছি উনার ব্যাপারে অবাক ই হচ্ছি চলতে পথে অনেক দেখি এবং দেখেছি কিন্তু জনাব হাবিবি সাহেবের এই চমৎকার জীবন যেন আমাদের সোনালী পথ দেখাচ্ছে , জন দরদী গরীব দরদী লেখক আবার ছাত্র এবং আবার শিক্ষক তিনি এই যেন এক মহা সাগরের বাস্তব রুপ । জনাব হাবিবি ভাই ও তাহার পরবার বর্গের জন্য দোয়া করছে ইয়াতিমরা এবং দোয়া রইল তাহার পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সবার জন্য -আশা করব জনাব হাবিবি ভাই আমৃত্যু এই সব মহৎ কাজে লেগেই থাকবেন ।
Discussion about this post