শুধু ব্যক্তি বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারকে হত্যার উদ্দেশ্যেই ১৫ আগষ্ট সংঘঠিত করেনি, বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও স্বাধীনতাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ড সংঘঠিত হয়েছিল। স্বাধীনতার পরাজিত শত্রু, পাকিস্তানী দোসর ও রাজাকার-আলবদরদের সরাসরি নেতৃত্বেই ইতিহাসের এই বর্বরোচিত ঘৃণ্যতম হত্যাকান্ড সংঘঠিত হয়েছিল। আর এই কলঙ্কজনক হত্যাকান্ডেই সরাসরি জড়িত ছিল জিয়া। জিয়া যেমন ৭৫ সালের ঘৃণ্যতম হত্যাকান্ডে সরাসরি জড়িত ছিল তেমনি জিয়াপুত্রও ২১ আগষ্টের গ্রেনেড হামলায় জড়িত।
মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড চট্টগ্রাম মহানগরের উদ্যোগে আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষাবিদ ড. সেকান্দর চৌধুরী একথা বলেন।
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড চট্টগ্রাম মহানগরের উদ্যোগে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভা ২৯ আগষ্ট শনিবার বিকাল ৫টায় ধনিয়ালাপাড়াস্থ এড. শহীদুল হুদা চৌধুরী মিলনায়তনে সংগঠনের সভাপতি আবৃত্তি শিল্পী মসরুর হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানববিদ্যা বিভাগের সাবেক ডিন ও চবির মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রতিষ্ঠা আন্দোলনের শিক্ষক নেতা প্রফেসর ড. সেকান্দর চৌধুরী। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. সেকান্দর চৌধুরী বলেন, যারা এদেশের স্বাধীনতা চাইনি এবং বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতা হিসেবে মেনে নিতে চাইনি তারাই বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা করে। বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডে বিশ্বাসঘাতক খন্দকার মোস্তাক যেমন সরাসরি জড়িত ছিল ঠিক তেমনি জিয়াও সরাসরি জড়িত ছিল। পরবর্তীতে জিয়া ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের পুরষ্কৃত করে তার প্রমাণ তিনি নিজেই করেছেন।
বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডে মরনোত্তর জিয়ার বিচার এখন সময়ের দাবি। বিশেষ অতিথি ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড কেন্দ্রীয় সভাপতি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মেহেদি হাসান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: হারিছ, বীর মুক্তিযোদ্ধা এস.এম লিয়াকত হোসেন, শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান রফিক উদ্দিন বাবলু, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মো: হেলাল উদ্দিন আহমেদ, দিদারুল আলম, মো: আশরাফ উল্লাহ, মো: রবিউল ইসলাম, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক স.ম জিয়াউর রহমান।
বিশিষ্ট আবৃত্তি শিল্পী ও উপস্থাপক জামশেদ রাসেলের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন নগর ছাত্রলীগ নেতা মো: আরমান, এস.এম সোলাইমান (সবুজ) স্থানীয় যুবলীগ নেতা মো: শেখ ফরিদ, মো: ফয়সাল, মো: রাসেল, মো: জনি, সাংস্কৃতিক সংগঠক মাসুমা কামাল আঁখি, বিপ্লব বিজয়, মো: গোলাম রহমান, আবৃত্তি শিল্পী নাসরিন তমা, আফিয়া আঞ্জুম বৃষ্টি।
আলোচনা সভা শেষে বঙ্গবন্ধু সহ ১৫ আগষ্ট নিহত এবং ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলায় নিহত সকল শহীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
Discussion about this post