মনের পরিধি বিস্তৃত করতে চাই,হতে চাই খাঁটি মানুষ।
— মোঃ কামরুল ইসলাম।
মানবজীবনে ভ্রমনের গুরুত্ব অপরিসীম।ভ্রমণের সূচনা রুহের জগৎ থেকে,দ্বিতীয়ত আলমে দুনিয়া তথা দুনিয়ার এই জীবন।তৃতীয়ত আলমে বারজাখ-অন্তর্বর্তী কালীন জীবন,যা মৃত্যুর পর থেকে কিয়ামত পর্যন্ত বিস্তৃত। এরপর আখিরাত ও পরকালের অনন্ত জীবন।মানব জীবনে ইসলামের পঞ্চ স্তম্ভ হজ্ব ও ওমরাহ অর্থ হচ্ছে মুলত ভ্রমণ।
জম্মের পর যখন খানিকটা বুঝতে শিখেছি সে থেকে সকল হীনমন্যতা পরিহার করে মানুষকে ভালবেসে, মানুষকে সম্মান করে যে কোন ভ্রমনকে শিক্ষণীয় ও শখ হিসাবে গ্রহন করেছি।
অন্যদিকে নিজের ব্যর্থতা,অযোগ্যতাকে আড়াল করতে অন্যকে মিথ্যে দোষারোপ করিনি,যারা করে তাঁরা হীন মন্য,মুর্খ এমনকি তাঁরা কখনও সামনে এগুতে পারে না শুধু ঘেউ ঘেউ করে যা অতি স্বাভাবিক।
পৃথিবীতে কেউ কাউকে কিছুই দেয় না নিজের যোগ্যতা দক্ষতা তা আদায় করতে হয় এটি নিয়ম। যাকে বলা হয় অমোঘ বিধান।
সে যাই হোক,নতুন নতুন মানুষকে জানা,বিশ্বময় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে যা নাগালের মধ্যে দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা,প্রকৃতি, ভোরের লাল টকটকে সুর্য,ভিন্ন ভিন্ন জায়গার মানুষের আচার,আচরণ,জীবনবোধ,মানব প্রেম এ কথায় সৃষ্টির লীলারহস্য দেখা আমার ছোট বেলা হতে ইচ্ছে বা শখ যা মনে হয় দোষের কিছু নয়।
আমি জানি যে কোন সৃষ্টি রহস্য,ঐতিহাসিক নিদর্শন মানুষকে হাতছানি দিয়ে ডাকে প্রতিটি মুহূর্তে। আমি দেখেছি কবিতা কখনো আমাকে কাঁদায় না তবে আমাকে কাঁদায় প্রতিটি মানুষ ও তাঁর কষ্ট।
কাঁদায় মানুষের ভালবাসা। আমি তাই ঘর হতে দু,পা ফেলে দেখতে চেয়েছি একটি ধানের শিষের উপর হয়ত একটি শিশির বিন্দু।
মনে পড়ে,পর্যটক ইবনে বতুতার সেই কথা,যে বলেছিল ভ্রমণ স্রষ্টার সৃষ্টিরহস্য জানায়,ভ্রমণ আমাদের আত্ম- বিশ্বাস বাড়ায় তাই প্রত্যেক মানুষেরই সাধ্যানুসারে কাছে কিংবা দূরে ভ্রমণের মাধ্যমে স্রষ্টার বৈচিত্র্যময় সৃষ্টিকে দেখে অন্তরকে বিকশিত করা উচিত।
মহান আল্লাহর বিশাল সৃষ্টি দর্শন, উপার্জন, জ্ঞান আহরণ,রোগ নিরাময় এবং আত্মশুদ্ধির জন্য ভ্রমণ করার নির্দেশ রয়েছে ইসলামে। কেউ যদি সওয়াবের নিয়তে ভ্রমণ করে, পুরো ভ্রমণেই তার সওয়াব অর্জন হবে।
জ্ঞানার্জনের জন্য স্বামী-স্ত্রী স্বপরিবারে বা দলবদ্ধভাবে ভ্রমণে,পর্যটনে যাওয়ায় কল্যাণ ও পুণ্য নিহিত রয়েছে। পৃথিবীজুড়ে রয়েছে আল্লাহর কুদরতের নানা কীর্তি। এসব দেখে মানুষ চিন্তা ও গবেষণা করবে।
দৃঢ় করবে ঈমান ও আমল।অন্যদিকে কোনো খারাপ উদ্দেশ্যে সফর করার অনুমতি ইসলাম প্রদান করেনি।তাই বলা যেতে পারে ভ্রমণ একটি আনন্দময় ইবাদত ও জ্ঞান-প্রজ্ঞা, অভিজ্ঞতার এক অনন্য উৎস।
ভ্রমণের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো পূর্ববর্তীদের কীর্তি ও পরিণতি সম্বন্ধে জানা ও শিক্ষা গ্রহণ করা।
এ সম্পর্কে পবিত্র কোরআন মহান আল্লাহ বলেন,
‘তারা কি পৃথিবীতে ভ্রমণ করে না এবং তাদের পূর্ববর্তীদের কী পরিণাম হয়েছিল তা কি দেখে না? যারা মুত্তাকি তাদের জন্য পরলোকই শ্রেয়;তোমরা কি বোঝো না –
[ সুরা-১২ ইউসুফ, আয়াত: ১০৯]
অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন,এরা কি পৃথিবীতে ভ্রমণ করে না? করলে দেখত এদের পূর্ববর্তীদের পরিণাম কী হয়েছিল। পৃথিবীতে তারা ছিল এদের অপেক্ষা শক্তিতে ও কীর্তিতে প্রবলতর। অতঃপর আল্লাহ তাদিগকে শাস্তি দিয়েছিলেন তাদের অপরাধের জন্য এবং আল্লাহর শাস্তি হতে তাদিগকে রক্ষা করার কেউ ছিল না।’ –
৯০ এর দশক হতে নিজকে রাঙ্গাতে ও জীবনবোধকে চাঙ্গা করতে ঘুরে বেড়িয়েছি সেই দুর থেকে দুরান্তে।ঐ সময় ভালবেসে সাধারনত ফুল দেয়া,নেয়া হতো ।আজ সেই তরতাজা বাগানের সদ্য ফোটা সেই গোলাপও নেই এখন সবই কৃত্রিম যাতে কোন গন্ধ নেই বা যা কোন বাগানে বা কারও ঘরের আঙ্গিনায় এখন আর ফোটে না।
৯০ এর দশক হতে যখন লিখছি বা লিখার চেষ্টা করছি তখন ভালবাসা ও সম্মাননার স্বীকৃতি স্বরূপ বর্তমান সময়ে যে সনদ ও ক্রেষ্ট দেয়া হয় তার প্রচলনও তেমন ছিল না।
পত্রিকায় লেখা বা কবিতা প্রকাশ হয়েছে কিনা তার জন্য্য কয়েক সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হতো,তখন অন- লাইন নিউজ পোর্টাল ছিল না, ছিল না গুগুলের চমক।
অন্যদিকে ক্রেষ্ট,বিভিন্ন সম্মাননা বা সনদ এই জীবনে অনেক প্রাপ্তি থাকলে ও যখন কেউ অন্যের সম্মাননা ক্রেষ্ট নিয়ে কথা বলে তখন নিজকে প্রশ্ন করতে ইচ্ছে করে কেন এমন হবে এর থেকে পরিত্রানের উপায় কি হতে পারে।
২০০৪ সাল হতে -২০০৬ সাল,সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্রতিষ্ঠা ও এর উৎকর্ষ সাধন ও পরবর্তীতে এই জোয়ারে নিজকে প্রচার বা কখনও এ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে আত্ম প্রচার,নিজের পরিচিতি বাড়াতে পদক্ষেপ নিই নি,কে লাইক বা পছন্দ করল
বা মন্তব্য করলো তার গুরুত্ব অনুধাবন করিনি বা এখন ও প্রয়োজন মনে করছি না।বর্তমানে যা অন্য সকলে অহরহ করছে।লিখছি মনের তাগিদে।
নিজকে কখনও প্রকাশ করেনি এমনকি এই জীবনে প্রাপ্ত কয়েকটি সম্মাননা আমার হয়ে আমার অন্য প্রিয়জন সংগ্রহ করেছে সেটি আমার অহমবোধ ছিল না,তা ছাড়া উপরোক্ত এই সব বিষয়ে আমি কখনও জানতাম না বা ঐ সব বিষয়ে কখনও কাউকে বিন্দুমাত্র বিনিময় করে নি।
এই কথা বলার অর্থ এই নয়,আমাকে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে আমি নিজকে সব সময় বিতর্ক হতে দুরে রাখার চেষ্টা করেছি।
জানা গেছে,প্রতিটি সংগঠন পদক বা সম্মাননা প্রদানের ক্ষেত্রে সম্মাননা গ্রহীতার নিকট হতে সহযোগিতা স্বরূপ যে উপঢৌকন গ্রহন করে তা হতে পদক বা সম্মাননা বিতরণ করে এমন কি যারা এই সব গ্রহন করে তাঁরা নিজকে কবি, লেখক,সমাজকর্মী ভাবে।
মাঝে মাঝে ছাপাখানা দু একটি কবিতা,লেখা ছাপালে তা কত আদার সোহাগ করে নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করে নিজকে মহান কবি,লেখক ভাবে তাদের মধ্যে অনেকে আজ বুঝতে পারছে ঐসব ঠিক নয় বা নিজের অপরাধ মুছতে নিজকে আজ মহান কবি ভেবে এমনকি অন্যদের ক্ষেত্রে অবজ্ঞা করা তাদের মোঠেই উচিত নয়। তাই সঠিক পর্যবেক্ষণ,পর্যালোচনা করে পদক,সম্মাননা
দেয়া উচিত বলে অনেকে মনে করেন।
অন্যদিকে অনেকের মতে, লেখকের টাকা আছে যার ফলে তাঁর কয়েকটি বই বের হলো তাতে বইয়ের ফেরিওয়ালা হওয়া যায় প্রকৃত লেখক হওয়া যায় না।কলম একাডেমি লন্ডন কেন্দ্রীয় কমিটি কর্তৃক যে কেন্দ্রীয় কবি সমাবেশ -২২ (খুলনা) অনুষ্ঠিত হয়ে গেল তাতে পরিকল্পনা,বাস্তবায়ন সঞ্চালনায় খানিকটা ক্রটি নজরে পড়লেও তা বাদে বাংলাদেশে স্মরণ কালের স্মরণীয় কবি সমাবেশ সম্পন্ন হয়েছে তাতে কোন সন্দেহ নেই।যারা ভুল ক্রটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে না দেখে অসাংগঠনিক আচরণ করে তাঁরা কখনও কবি বা ভাল সংগঠক হতে পারে না।
জানা গেছে,কলম একাডেমি লন্ডন এমন একটি সংগঠন যে সংগঠন একমাত্র যোগ্যতা বিচার করে কেন্দ্রীয় কবি সমাবেশে কবিদের সম্মাননা প্রদান করেছে ও আগামীতে সমাজ উন্নয়নে ভুমিকা রাখতে উৎসাহী হতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
জনমত রয়েছে, বর্তমানে যারা বা বিভিন্ন সংগঠন বিভিন্ন বিখ্যাত ব্যক্তির নামে বা অবদানের জন্য যে সম্মাননা প্রদান করে বা বিভিন্ন সাহিত্যগ্রুপ বা সংগঠন হতে দিনের বা সপ্তাহের বা মাসের শ্রেষ্ট কবি বা কবিতা নির্বাচন করে তাঁরা আদৌ কবিতা সম্পর্কে জ্ঞান রাখে কি না তা নিয়ে আজ বিতর্ক তৈরী হয়েছে।
মোট কথা এখন কবিতার দুঃসময় চলছে।
কলম একাডেমি লন্ডন সেই ক্ষেত্রে ভিন্নতা দেখিয়েছে।বাংলা ভাষার প্রচার,প্রসারে কাজ করা,ভাষাকে বিশ্ব ময় করা এই সংগঠনের মুল লক্ষ্য।
কলম একাডেমি লন্ডনের সেই মহাআয়োজনে যোগ দিতে চট্টগ্রাম থেকে খুলনা পদ্মার বুক চিরে আমরা কয়েকজন ঘুরে এলাম স্বনামধন্য –
…………………সেই খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়।
জানা গেছে,খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের অন্যতম একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়।এটি দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খুলনাতে অবস্থিত।
১৯৯১ সালের ২৫ নভেম্বর ৪টি পাঠ্য বিষয়ের ৮০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে এর কার্যক্রম শুরু।
ছাত্র রাজনীতি মুক্ত বাংলাদেশের একমাত্র সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এটি। দৃষ্টি নন্দন ক্যাম্পাস আমরা ঘুরে ঘুরে দেখলাম।চট্টগ্রাম হতে দেখতে গিয়ে ভোগান্তির আরেক অন্যতম নাম মনে পড়বে দৌলতদিয়া ফেরী ঘাট যা সবাইকে পার হতেই হবে।
……ভোগান্তি ছাড়া এই ঘাট পার হওয়া খুবই দুষ্কর।’
ঘন্টার পর ঘন্টা মহাসড়কে অপেক্ষা যেন মহা সড়কই সব যাত্রীর বাড়িঘর কেননা এখানে যাত্রীদের কেটে যায় দিনের পর দিন-
তবুও দৃষ্টিনন্দন স্থান আপনাকে সব ভুলিয়ে আনন্দ দিবে আর আনন্দ অনেক গুন বাড়িয়ে দেবে পাশে যদি পাশে থাকে ভালবাসার কোন মানুষ বা ভালবাসার অন্য মানুষজন।
লেখক-
মোঃ কামরুল ইসলাম
কবি ও প্রাবন্ধিক।







Discussion about this post