মুহাম্মদ ফিরোজ কবিরঃ
অনলাইন জগতে বিচরণ করার সাথে সাথে আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে ব্যাঙের ছাতার মতো শতশত সাহিত্য সংগঠন। এগুলো বিভিন্ন চমকপ্রদ নামে আত্মপ্রকাশ করে।এরা রাতারাতি একজন কবি বা লেখককে যেমন কবি খেতাব দিয়ে দেয়, তেমনি লোভনীয় সনদ প্রদান করে, ফুলিয়ে ফাপিয়ে বেলুনের মতো করে দেয়।কয়দিন পর এ বেলুন সামান্য আঘাতে ফেটে যায়,তখন আর এসব কবি লেখক এমনকি সংগঠনকে বাটিচালান দিয়ে খুঁজে পাওয়া যায় না।আবার এসমস্ত সংগঠন ও সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতারা,যৌথ বই ও ম্যাগাজিন প্রকাশের নামে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেয়, সরলমনা কিছু নবীন, এমন কি প্রবীন লেখকদের কাছ থেকে। এজন্য এরা দেয় নানা রকম ভুয়া আশ্বাস। অর্থ কামানোর উদ্দেশ্যে দেয় বিশাল বড় সংবর্ধনা। এখানে আবার স্বনামধন্য কবি সাহিত্যিকদেরকে প্রধান মেহমান রাখা হয়, যাতে ধোঁকাটা দিতে আর কোনো বাধা না থাকে।
আমি এখানে এমন নাম সর্বস্ব সংগঠনের কথা বলবো না।
আমি এখানে বলবো, এমন একটা সংগঠন ও এর প্রতিষ্ঠাতার কথা , যে সংগঠন ও সংঘটক মানুষের জন্য কাঁদে মানবতার জন্য কাঁদে,কাঁদে পৃথিবীর জন্য।কথায় নয় কর্মে।
সে সংগঠনের কথাই বলছি, যে সংগঠনকে শুধুমাত্র সংগঠন বললে, এ সংগটনের প্রতি অবিচার করা হবে।আর যে এর প্রতিষ্ঠাতা ও সংগঠক, তাকে অন্যান্য শত সংগঠকের সাথে তুলনা করলে তার প্রতি অন্যায় করা হবে।
তাই আমি এ সংগঠনকে একটি নারিকেল গাছের সাথে তুলনা করবো, যার শিকড় চারপাশে বহুদূর বিস্তৃত, মাথা অনেক উচ্চে।যার আছে সুপেয় পানি, সুমিষ্ট খাবার, শীতল ছায়া।
আর যিনি এ গাছটি রোপণ করে দীর্ঘ এগারোটা বছর পরিচর্যা করে এসেছেন, এগাছটি একটি মানবহিতৈষী গাছে রুপান্তর করতে আপ্রাণ পরিশ্রম করে যাচ্ছেন, তার তুলনা করার মতো কিছু এখনো আমার ঠুনকো মানসপটে আসেনি,তাই তুলনা করতে পারলাম না। তাকে অতুলনীয় বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী বলেই ক্ষান্ত হলাম। যিনি মানবতার প্রতিষ্ঠান, ‘সারাহ হাবীব ট্রাষ্ট এর ধারক বাহক।
‘অক্ষরের অমরতা’শ্লোগানের পতাকাবাহী সংগঠন ‘কলম একাডেমি লন্ডন’এর সুযোগ্য প্রতিষ্ঠাতা, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র,বহু গ্রন্থ প্রণেতা কবি সাহিত্যিক,গল্ল ও প্রবন্ধকার, বাংলাদেশের অহংকার, ‘সাহিত্যের বাতিঘর ‘অধ্যাপক নজরুল ইসলাম হাবিবী। এটি হচ্ছে বিশ্ব মানবসেবা মূলক প্রতিষ্ঠান’সারাহ হাবিব ট্রষ্ট’ নামক প্রতিষ্ঠানের একটি অঙ্গ সংগঠন।
‘কলম একাডেমি লন্ডন’এর লক্ষ্য উদ্দেশ্য কি? কি ই বা এর এতো দিনের অর্জন? কেনো সারা বিশ্ব ব্যপি এ সংগঠন এতো সমাদৃত ও প্রিয়।আমি সেই কথাগুলো অত্যন্ত সংক্ষেপে তুলে ধরতে চেষ্টা করবো।
আমি আগেই বলেছি,এ বিশ্বখ্যাত সংগঠনের শ্লোগান হচ্ছে ‘অক্ষরের অমরতা’
তাই এটা স্পষ্ট যে,এ সংগঠনের লক্ষ্য হচ্ছে ‘অক্ষরের অমরতা’
আর এ সংগঠনটি বিভিন্ন ভাবে সমাজ ও সাহিত্য সেবার পাশাপাশি, লেখক ও কবিদের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় অধিকার চেয়ে সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে আসছে দীর্ঘ এগারটি বছর।
লেখক মন্ত্রণালয়, লেখক কোটা, লেখক ভাতা, লেখকের পরিবারের জন্য ফ্রী শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাসস্থানের দাবি জানিয়ে আসছে।
সারা পৃথিবীতে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে পরিচিত করিয়ে দেয়ার জন্য, এবং কবি লেখকদের সাথে একে অপরের সেতু বন্ধন সৃষ্টির লক্ষ্যে, সুদূর প্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সহ সারা পৃথিবীতে কমিটি গঠন ও যোগ্য তদারকি,এ সংগটনের একটি মৌলিক ও প্রধান কাজ।
অনলাইন ভিত্তিক ‘কলম টিভি’গঠন এবং নিয়মিত ‘কলমের টকশো, এলেমের টকশো’ নামে সমগ্র পৃথিবীর স্কলার ও গুণীদের নিয়ে সামাজিক ধর্মীয় ও সাহিত্যের বিভিন্ন খুঁটিনাটি বিষয় মুক্ত আলোচনা পর্যালোচনা, এ সংগটনের একটি মুক্ত মনের পরিচয় বহন করে।
এখানে একটি কথা না বললেই নয়,যে সংগঠনে কোনো ধর্মীয় কৌলিন্য নেই,নেই ধর্মীয় গোঁড়ামি, আছে সকল ধর্মের লোকের সমান সুযোগসুবিদা ও অংশগ্রহণ মূলক ব্যবস্থা।
তৃণমুল পর্যায় থেকে শুরু করে প্রতিটি লেখক কবিদের খোঁজ খবর, তাদের লেখার সঠিক মুল্যায়ন,উৎসাহ প্রদান, ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক যোগাযোগ রক্ষা করা,এ সংগঠন ও এর প্রতিষ্ঠাতার
দৈনন্দিন রুটিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।এতে পারষ্পরিক সম্পর্ক ভালোবাসা সহমর্মিতা,দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
‘কলম একাডেমি লন্ডন’এর সবচেয়ে সুখবর যেটা, সেটা হলো,বই প্রকাশ।
যারা লিখতে পারে, কিন্তু প্রকাশ করতে অসমর্থ, এমন লেখকদের খুঁজে খুঁজে বের করে, তাদের ভালো ও জনকল্যান মূলক লেখাগুলো সম্পুর্ন সংগঠনের খরচে একক বই আকারে প্রকাশ করে,মানুষের মাঝে ফ্রী বিতরণ করা ,এবং অন্যান্য সাহিত্য সংগঠন গুলোকে এ সংগঠনের অনুসরণ করতে অনুরোধ করে যাচ্ছেন। বিগত বছরগুলোতে এরকম অনেক বই, ধর্মীয় পুস্তক প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমানে এরকম বই প্রকাশের জন্য চলমান রয়েছে। খোদ আমার নিজের একটি কবিতার বই, এ বছর ‘সিরাতোয়াল মুস্তাকিম’শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছে,এবং আমার আরো কিছু বই প্রকাশ করার কথাও বলেছেন। যা আমার পক্ষে নিজ খরচে প্রকাশ করা আদৌ সম্ভব হতো না।
এতো বলেছি লেখক কবি সাহিত্যিকদের কল্যানে ‘কলম একাডেমি লন্ডন ‘ও নজরুল ইসলাম হাবিবীর কর্মকাণ্ডের সামান্য আলেখ্য।
এখন বলবো গরীব মিসকিন ও অসহায় মানুষের জন্য এ সংগঠনের পূর্বে কি অবদান ছিল, এবং পরবর্তীতে কি কি পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রথমেই যে কথাটা জিহ্বার আগায় এসে ঘুরপাক খাচ্ছে, সেটা হলো ইসলাম ও আধুনিক শিক্ষা প্রসারের ক্ষেত্রে মূল সংগঠন সারাহ-হাবিব ট্রাষ্টের বেনারে, নুরানি মাদ্রাসা, হাফেজী মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা। যা ইতিমধ্যে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম সহ কয়েকটি জেলায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে,পর্যায়ক্রমে সারাদেশের অবহেলিত অঞ্চলের এরকম প্রতিষ্ঠান আরো গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মসজিদ মন্দির, পেগোডা উন্নয়নে এ সংগঠনের অবদান চোখে পরার মতো।
অনেক নতুন মসজিদও গড়েছেন এ প্রতিষ্ঠান।
আমরা যদি অসহায় নিঃস্ব মানুষের কথা ভাবি, সেখানেও রয়েছে এ সংগঠনের সক্রিয় ভূমিকা যা সত্যিকারে অভূতপূর্ব।
অসহায় লেখকদের জন্য এ সংগঠন যেমন ভাবেন,তেমনি ভাবেন অসহায় মানুষের জন্য।
বিভিন্ন উৎসবে যেমন ঈদুল আযহা, ঈদুল ফেতরের আনন্দকে ভাগ করে নেয়ার জন্য এ সংগঠন দিয়েছে নগদ অর্থ, দিয়েছে ছাগল গরু ও নতুন পোশাকাদি। যার অংশ হিসেবে আমার জেলায় আমিও পেয়েছি। ভবিষ্যতে আরো বেশী বেশী গরীব অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আশা পোষণ করেছে,সংগঠন ও সংগঠনের কর্ণধার।
বিভিন্ন সময় কন্যাদায়গ্রস্ত পিতার পাশে দাঁড়িয়েছে এ সংগঠন।
সামনে এ সংগঠনের আরো সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা রয়েছে। যাতে বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে হতদরিদ্র মানুষের মাঝে সাহায্যের হাত প্রসারিত করে দিতে পারে।
এজন্য সংগঠনের জেলা এমনকি উপজেলা পর্যায়ের কমিটিকে আরো শক্তিশালী ও যুগোপযোগী করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
অতএব উক্ত সংগঠনের এগারতম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর স্লোগান হোক এটাই।
‘কলম একাডেমি লন্ডন’
এসো করি আলিঙ্গন,
সাহিত্য হোক মানব সেবায়
এসো বসি কলমের ছায়ায়।
লেখক ও শিক্ষক,
প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক, কলম একাডেমি লন্ডন, বরিশাল বিভাগ।







Discussion about this post