ইহকালে সুখ সুখ
পরকালে স্বর্গ।
নজরুল ইসলাম হাবিবী
প্রকাশিত তথ্য মতে,
বিশ্বে ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৪০ কোটি। বাংলাদেশে প্রায় ৯০ লাখ, বছরে বাড়ছে আরও ১ লাখ রোগী। ডায়াবেটিস প্রতিরোধে এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে বিশ্বে ডায়াবেটিক রোগীর সংখ্যা আগামী ’৩০ সালের মধ্যে ৫৫ কোটি ছাড়িয়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
সুপরিকল্পিত ও সঠিক নির্দেশিত উপায় অবলম্বন করলে রামাদান মাসে একজন ডায়াবেটিসের রোগীর কোনো রকমের সমস্যা বা অসুস্থ হওয়ার কথা নয়।
আমি কিছুটা ডায়াবেটিস রোগী।
কিন্তু ভাগ্যের কথা হচ্ছে, নিয়মিত পানাহার, শরীরচর্চা ও মানসিক ও আধ্যাত্মিক পরিচর্যার কারণে আমাকে কখনো হসপিটালে যেতে হয়নি বলে মনে করি, এবং আমাকে কোনো ওষুধ গ্রহণ করতে হয়নি।
ডায়াবেটিসের লক্ষণ দেখা দিলে ডাক্তার আমাকে দুটি উপদেশ দেন।
এক, আমি যেন ওষুধ গ্রহণ করি, অথবা
দুই, আমি যেন ‘আমার’ দেখাশোনা করি-সবজি, ফল -ফ্রুট খাই, শরীর চর্চা করি। আমি দ্বিতীয়টি গ্রহণ করেছি।
দ্বিতীয়টি গ্রহণ করতে আমার কষ্ট হয়নি; কারণ, আমি এমনিতেই সব সময় মাঠে যাই, সাইকেল চালাই, ফুটবল খেলি, গান কবিতা করি, আমার ছেলে, আমার স্টুডেন্টদের সাথে দৌড়াদৌড়ি করি।
ফল মূল, শাক সব্জি খাই। আদা, রসুন, হলুদ, অলিভ নিয়মিত খেতে চেষ্টা করি। আমি কখনো কোন ফল বা শাক সব্জি নিয়ে দেশ কাল ভাবি না। অর্ধসিদ্ধ এমনকি কাঁচাও খেতে পারি। যা আমার পরিবারে অনেকের কাছে মোটেই খাবার নয়।
এই লক ডাউনের অবস্থাতেও কিছুক্ষণের জন্য আমি বাইরে চলে যাই ফুটবল নিয়ে। বাসাতেও আমি বসে থাকি না। সবসময় হাঁটাহাঁটি করি। যখন কিছু লিখি, পড়ি, হাঁটতে থাকি। খানাতে আমি ফানা নই। তবে খুব কমও খাই না।
কিন্তু খানাপিনাকে আমি পেটে শান্তিতে রাখি না।
আমার খানাপিনা আমার অশান্তির কারণ হয় না।
আমি নিজেই খানাপিনার শান্তি বিনষ্ট করি।
আমি ডাক্তার নই। ডাক্তারের ছাত্র। তবুও কথাটি এখানে বলার কারণ হচ্ছে, আমি এই সমস্ত কাজ করে অনেক অসুস্থতা থেকে, অনেক সমস্যা থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে পেরেছি বলে বিশ্বাস করি। সময় পেলে আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে কখনো আরেকটি প্রবন্ধ লিখব।
আমরা জানি, ঔষধে অসুখ সারলেও ঔষধ কিন্তু কিছু অসুখ সৃষ্টি করে যায়। তখন ঔষধ আর সেই অসুখ সারাতে পারে না। তাই আপনিও দেখুন আপনার ডায়াবেটিসকে অন্য ভাবে বা হাসি খুশির মধ্যে সামলাতে পারেন কিনা।
বলা বাহুল্য, আমি আমার কথাই বলছি।
আপনি নিশ্চয়ই আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলবেন।
এখন রামাদানের সময়।
তথ্যমতে, বিশ্বের প্রায় ১৫৭ কোটি মুসলিমের মধ্যে প্রতিবছর প্রায় ৫ কোটি ডায়াবেটিসের রোগী রামাদান মাসে রোজা পালন করেন। ১৩টি মুসলিম প্রধান দেশে জরিপ চালিয়ে দেখা গেছে, প্রায় ৮০ শতাংশ টাইপ ২ ডায়াবেটিসের রোগী নিয়মিত রোজা পালন করে থাকেন। আপাত দৃষ্টিতে একজন সুস্থ ও সুনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসের রোগীর রোজা পালন করতে কোনো বাধা নেই। ডাক্তারের নির্দেশ, আপনার মনের নির্দেশ, সামাজিক নির্দেশ, পারিবারিক নির্দেশ মেনে চললে মানুষ সহজে অসুস্থ হয় না, হলেও সেরে উঠতে পারে।
মনের নির্দেশ, সামাজিক নির্দেশ, পারিবারিক নির্দেশ বাক্যগুলির অর্থ আপনি জেনে নেবেন।
যাঁরা নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও দীর্ঘ ২০ রাকাত তারাবির নামাজ পড়ে থাকেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এটিই ব্যায়ামের বিকল্প, আলাদা করে ব্যায়ামের প্রয়োজন নেই। যারা
ঈশরাক, তাহাজ্জুদ ও চাশ্ত সহ অন্যান্য নফল নামাজ আদায় করেন তাদের জন্য তো সোনায় সোহাগা।
একেই বলে এক ঢিলে দুই পাখি—স্বাস্থ্য এবং সাওয়াব।
আল্লাহর ভাষায়:
“ফিদ্দুনিয়া হাসানা, ওয়া ফিল আখিরাতে হাসানা”।
ইহকালে সুখ সুখ
পরকালে স্বর্গ।
নজরুল ইসলাম হাবিবী
লন্ডন।
০২.০৫.২০২০







Discussion about this post