“অক্ষরে:অমরতা” স্লোগানের পতাকাবাহী, আন্তর্জাতিক সাহিত্য ও সমাজ কল্যাণমূলক সংগঠন, ‘কলম সাহিত্য সংসদ লন্ডন’এর দশম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সারা বিশ্বের সামনে, বিশ্ববাঙালির সামনে গতকাল ০৩.১০.২০২০ আনুষ্ঠানিকভাবে টিভিতে আমি দুটি দাবি পেশ করেছিলাম।
আমরা জানি বাংলাদেশে বিভিন্ন বিষয়ে মন্ত্রণালয় আছে, যাতে করে সরকার তাদের দেখাশোনা করতে পারে।
কিন্তু যারা সভ্যতা বিনির্মাণে লেখালেখি করে, জাতির কথা, পতাকার কথা বলে তাদের জন্য আলাদা কোন মন্ত্রণালয় নেই। লেখকগণ যেন
সংসদে, সংবিধানে তাদের কথা উঠে না, কেউ তাদের দুঃখ, কষ্ট নিয়ে কথা বলে না।
‘কলম সাহিত্য সংসদ লন্ডন’ একটি আন্তর্জাতিক সাহিত্য ও সমাজকল্যাণমূলক সংগঠন।
সংগঠন মনে করে, একটি “লেখকমন্ত্রণালয়” আমাদের বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজন।
এখানে লেখকের কথা, পল্লী সাহিত্যের কথা আলোচিত হবে। অসহায় -গরীব লেখকদের বই প্রকাশের ব্যবস্থা করা হবে।
এই মন্ত্রণালয় গ্রাম-গঞ্জের প্রবাদ-প্রবচন, আউল বাউলদের কথা, কাহিনি সংগ্রহ করবে এবং প্রকাশ করবে।
আমরা যারা বাংলাভাষাকে ভালবাসি, আমাদের বিশ্বাস করতে হবে, আমাদের অসংখ্য সাহিত্য প্রবাদ-প্রবচন পথে ঘাটে পড়ে আছে যা সংগ্রহ করা, রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব।
লেখকরা সাহিত্য নির্মাণ করে। সমাজ সভ্যতা নির্মাণ করে। যাদের উপর পড়াশোনা করে আজ আমরা মানুষ হয়েছি, মানবসভ্যতাকে, পিতা-মাতাকে, জাতিকে, জাতীয় পতাকাকে চিনতে শিখেছি, সেই লেখকেরা বড়ই অবহেলিত, নির্যাতিত, নিষ্পেষিত, ক্ষুধার্ত।
‘কলম সাহিত্য সংসদ লন্ডন’ আশা করে, তাদের জন্য ভাতা প্রদানের দায়িত্ব সরকার বহন করবে।
“লেখকভাতার” নামে সরকার তার পরিবার-পরিজন, অসহায় লেখক, গরীব ও গ্রামের লেখকদের দায়িত্ব বহন করতে পারে।; এবং
সৃষ্টি করে লেখকদের ছেলেমেয়েদেরকে চাকরির ব্যবস্থা করা দরকার বলে কলম সাহিত্য সংসদ লন্ডন মনে করে।
বিষয়টি আপনার জন্য কঠিন নয়।
আপনি একটি মন্ত্রাণালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করুন। আপনি ইতিহাস হয়ে থাকবেন।
লেখকরা আপনাকে নিয়ে লিখবে। বাংলা সাহিত্যে নতুন করে আপনাকে চিরঞ্জীব করে রাখবে। আমরা কথা দিতে পারি, আমরা ইউরোপ, আমেরিকা তথা বিশ্ব থেকে উক্ত মন্ত্রণালয় ফান্ডিং করব।
আশা করি আপনি এবিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবেন। দেশের স্বার্থে পল্লিসাহিত্য রক্ষায়, একটি লেখক মন্ত্রণালয় গঠন করবেন।
“লেখক কোটা” চালু করবেন। “লেখক ভাতা” চালুর মাধ্যমে পৃথিবীতে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন, যা বিশ্বের কোনখানে নেই।
আপনার জন্য শুভ প্রত্যাশা।
প্রফেসর নজরুল ইসলাম হাবিবী।
(লেখাটি বাংলাদেশ হাই কমিশন ইন ইউকে এবং বাংলাদেশের তথ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে)।
Discussion about this post