আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের জন্য।
যিনি আমাদেরকে সুন্দর একটি জীবন ব্যবস্থা দিয়েছেন, এবং গুরুত্বপূর্ণ দিবস সমূহ দিয়েছেন যাতে করে আমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারি। মুক্তির পথ অর্জন করতে পারি।
সালাত এবং সালাম নবীর উপর এবং তাঁর সাহাবা ও পরিবারবর্গের উপর।
গত সপ্তাহে আমরা রামাদানের প্রস্তুতি এবং কতিপয় মানবিক প্রশ্নের উপর আলোকপাত করেছি।
সাউম ইসলামের তৃতীয় স্তম্ভ। স্তম্ভ বিহীন যেমন ঘর হয়না। তেমনি সিয়াম সাধনা ছাড়াও আপনি আপনাকে মুসলমান বলে দাবি করতে পারেন না।
‘রোজা’ ফারসি শব্দ। তাই আমরা সাউম বা ‘সিয়াম’ বলবো ।
সাউম ফরজ হয় দ্বিতীয় হিজরির শাবান মাসে। এ সম্পর্কে পবিত্র কোরআনের সুরা বাকারার ১৮৩ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, “হে মুমিনগণ! তোমাদের প্রতি সিয়াম ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিলো তোমাদের পূর্ববর্তীদের প্রতি, যাতে তোমরা আল্লাহ ভীরু হতে পারো, পরহেজগার হতে পারো”। এ আয়াত থেকে আমরা বুঝতে পারি, রোজার বিধান দেওয়া হয়েছে তাকওয়া অর্জনের জন্য।
সম্পূর্ণ কোরআন শরীফে আট প্রকার ব্যাকরণগত পরিবর্তনের মাধ্যমে ‘তাকওয়া’ শব্দটি ২৫৪ বার ব্যবহৃত হয়েছে। মূল শব্দ ওয়াকি।
ওয়াও ক্বাফ ইয়া। ‘মুত্তাকী’ শব্দটি আমাদের পরিচিত। আমরা যখন কোন ভাল মানুষ দেখি, নামাজি মানুষ দেখি, তখন বলি লোকটি মুত্তাকি বা ফরহেজগার।
‘মুত্তাকী’ শব্দটি সরাসরি এসেছে ৪৯ বার।
কোরআনের সূরা বাকারায় শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। সেখানে কোরআন শরীফ থেকে হেদায়াত প্রাপ্তির জন্য ক্যাটাগরি ঠিক করে দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ যার ছয় প্রকার কর্মকাণ্ড থাকবে কোরআন তাকে হেদায়েত করবে বলে আল্লাহ ঘোষণা দিয়েছেন।
১.অদৃশ্যে বিশ্বাস স্থাপন। ২.সালাত প্রতিষ্ঠা করণ।৩.আল্লাহ প্রদত্ত সম্পত্তি থেকে দান করা। ৪.শেষ নাবীর প্রতি যা নাযিল হয়েছে তার উপর বিশ্বাস স্থাপন করা। ৫.তার আগে যে সমস্ত কিতাব এবং সহিফা নাযিল হয়েছে তার উপর বিশ্বাস স্থাপন করা। ৬.এবং আখেরাতের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা। এ কথাগুলি বলার পর পাঁচ নাম্বার আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেছেনঃ যারা এ সমস্ত কথা মেনে চলবে, আমল করবে, তারাই সফল, তারাই বিজয়ী।
মুত্তাকী হওয়ার জন্য ছয় প্রকার গুণাবলী বর্ণনার পর আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেছেনঃ এ কোরআন সাধারন মানুষের জন্যও হেদায়েতের আলোকবর্তিকা।
বিষয়গুলোকে পৃথক পৃথক করে যদি আমরা আলোচনা করি আমরা কয়েক সপ্তাহ আলোচনা করতে পারব। অবশ্য বিগত কয়েক মাস আগে আমি এই বিষয়ের উপর আলোচনা করেছিলাম।
বিষয়গুলিকে যদি আমরা পর্যবেক্ষণ করি তখন আমরা দেখব, ইসলামের, সমাজের, মানবতার মৌলিক সব কথা এখানে বলা হয়েছে। এই গুণাবলী যদি আমরা অর্জন করতে পারি তখন আমরা নিজেকে ভালো মুসলমান দাবী করতে পারব। আজকে আমার এটিই আলোচনার বিষয়। আমি বলতে চাই, এই সত্য ও সুন্দর বিষয়গুলি প্রতিষ্ঠার জন্য কোরআন নাজিল হয়েছে।
এই সাওমের মাসের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো, আল্লাহ্ তাআলা এ মাসটিকে স্বীয় ওহি সহিফা ও আসমানি কিতাব নাজিল করার জন্য মনোনীত করেছেন। অধিকাংশ কিতাব এ মাসেই নাজিল হয়েছে।
হাদিসে বর্ণিত, হজরত ইব্রাহিম (আ.)–এর সহিফা রামাদানের ১ তারিখে, তাওরাত রামাদানের ৬ তারিখে, জাবুর রামাদানের ১২ তারিখে, ইঞ্জিল রামাদানের ১৮ তারিখে এবং পবিত্র কোরআন কদরের রাত্রিতে নাজিল হয়েছে। আল্লাহ বলেন “নিশ্চয়ই আমি এই কোরআনকে কদরের রাত্রিতে নাজিল করেছি”।
রামাদান মাসের সিয়াম পালনকে ফরজ ঘোষণা করে আল্লাহ্ তাআলা সুরা বাকারার ১৮৫ নম্বর আয়াতে বলেন, “রামাদান মাস -যাতে কোরআন নাজিল করা হয়েছে, আর এ কোরআন মানবজাতির জন্য পথের দিশা, সৎপথের সুস্পষ্ট নিদর্শন, হক বাতিলের পার্থক্যকারী। অতএব, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ মাসটি পাবে সে এতে রোজা রাখবে, যদি সে অসুস্থ হয়ে পড়ে কিংবা সফরে থাকে, সে পরবর্তী সময়ে গুনে গুনে সেই পরিমাণ দিন পূরণ করে দেবে। (এ সুযোগ দিয়ে) আল্লাহ্ তোমাদের জন্য ( দিনের এবং জীবনের কাজকর্মকে) সহজ করতে চান, তোমাদের জন্য কঠিন করতে চান না, যাতে তোমরা গণনা পূরণ করো, আল্লাহ তা’আলা তোমাদের (কোরআনের মাধ্যমে) যে পথ দেখিয়েছেন তার জন্য তোমরা তাঁর মাহাত্ম্য বর্ণনা করো এবং তাঁর কৃতজ্ঞতা স্বীকার করো”।
এই মাসে কোরআন সহ অনেকগুলি গ্রন্থ নাযিল হয়েছে, -যা আমরা জেনেছি। এ থেকেও এই মাসের গুরুত্ব অনুধাবন করা যায়। এই মাস হেদায়েতের মাস। এই মাস হেদায়াত পাবার মাস। মানুষকে হেদায়েত দেখাবার মাস।
আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেন, কোরআন নাজিল হয়েছে সত্য মিথ্যা পার্থক্য করার জন্য। সত্যকে প্রতিষ্ঠার জন্য। জান্নাতের কথা বলার জন্য। ঈমান নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য। সত্য সুন্দর কথা বলার জন্য। মুক্তির কথা বলার জন্য। তাগুত শয়তান থেকে বেঁচে থাকার জন্য।
পৃথিবীতে সুন্দরের বাগান করার জন্য। পৃথিবীতে সহজ সরল জীবন যাপন করার জন্য। ভালো কাজের ফুল দিয়ে রাস্তা বানাবার জন্য । রাস্তা থেকে অমানবিককাঁটা পরিষ্কার করার জন্য, মিথ্যাচার, অনাচার ও ব্যভিচারকে দূর করার জন্য। ধনী-দরিদ্র্যের বেড়াজাল ভেঙ্গে আমি রিফাত শরীফকে এক কাতারে আনার জন্য এই মহান গ্রন্থ আল কোরআন আসমান থেকে নাযিল হয়েছে। ধর্ম বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে সাম্যের সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য কোরআন পৃথিবীতে অবতীর্ণ হয়েছে। পৃথিবীর যত অন্যায়ের মেঘমালা দূর করে সোনালী সুখের সূর্য উদয় করার জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদেরকে কোরআন দিয়েছেন।
কোরআনকে জানার জন্য প্রাণ দিয়েছেন। বুঝার জন্য মগজ দিয়েছেন। আমল করার জন্য শক্তি দিয়েছেন। দেখার জন্য দিয়েছেন দুটি চোখ।
আসুন আমরা এই পবিত্র রামাদান মাসে অর্থসহ কোরআন পাঠ করি। কোরআনের মতে আমাদের জীবন পরিচালনা করি। আমাদের সমাজকে পরিচালনা করি।
বুখারি শরিফে বর্ণিত হাদিসে হজরত আবু হোরায়রা (রা.) বলেন, হজরত মুহাম্মদ (স.) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা রাখবে, তার অতীতের গুনাহসমূহ মাফ করে দেওয়া হবে। হজরত আবদুল্লাহ্ ইবনে ওমর (রা.) বর্ণনা করেন রাসুলে পাক (সা.) ই
Discussion about this post