গাজী রাসেল হাসান, হাটহাজারী, চট্টগ্রাম।
হালদার পোনা, দেশের সোনা। দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মাছের প্রজনন কেন্দ্র হালদা নদীর মাছের ডিম। করোনাভাইরাসের চলমান এই সংকটকালের ভেতরই সুখবর হলো আজ সকালে ডিম ছেড়েছে হালদার মা মাছ। সকাল ৭.৩০ মিনিট থেকে ডিম সংগ্রহ শুরু করেছেন ডিম সংগ্রহকারীরা।
সংগৃহিত ডিম কুয়ায় ফুটানোর পর রেনু হয়। রেনুগুলো পুকুর,বড় বড় জলাশয়, দীঘিতে ছাড়ার পর ধীরে ধীরে বড় হয়। একটা হালদার পোনা ছয়মাসে এক কেজি পর্যন্ত হয়। এটা আল্লাহ তায়ালা প্রদত্ত নেয়ামত।
এর আগে গতকাল জানা যায়- হালদা নদীর কাগতিয়ার মুখ থেকে গড়দুয়ারা নয়াহাট পর্যন্ত ডিম সংগ্রহকারীরা প্রতি জালে ১০০-১৫০ গ্রাম পর্যন্ত ডিম পাচ্ছিলেন, ওগুলো ছিলো নমুনা ডিম।
আজ শুক্রবার (২২ মে) সকালেই দলে দলে মা-মাছ ডিম ছাড়তে শুরু করে। ডিম ছাড়ার জন্য নদীর তলদেশ থেকে ভেসে উঠে ওরা।
১৯ মে থেকে ভারি বর্ষণে আশায় বুক বাঁধে হালদা পাড়ের ডিম সংগ্রহকারীরা। ২১ মে নমুনা ডিম ছাড়ে মা মাছ। শুক্রবার (২২ মে) সকাল ৭টায় মা মাছ ডিম ছাড়া শুরু করে। মে মাসের শুরুতে হালদায় মা মাছের আগাগোনা বেড়েছে। ডিম সংগ্রহকরীরা ৭ মে থেকে ভারি বর্ষণের অপেক্ষায় থাকলেও ডিম ছাড়েনি মা মাছ। প্রতিবছর এপ্রিল- মে মাসে অমাবস্যা, পূর্নিমার জো’তে ডিম ছাড়ে মা মাছ।
সরেজমিনে দেখা যায়, আজিমের ঘোনা অংকুরি ঘোনা, রামদাস মুন্সির হাট, মাদার্শা সাত্তারঘাট, মাছুয়া ঘোনা, কাগতিয়া, গড়দুয়ারা এলাকায় হাজারো ডিম সংগ্রহকরী সারি সারি নৌকায় ডিম সংগ্রহ করছে। পুরো হালদাজুড়ে উৎসবের আমেজ। ডিম সংগ্রহকারীদের চোখেমুখে আনন্দের ঝিলিক।
হালদা পাড়ের বাসিন্দা ছাত্রনেতা তারিকুল কালাম তুহিন বলেন, প্রতি বছর ডিম সংগ্রহকে কেন্দ্র করে উৎসব লেগে যায়। ছোটকাল থেকে দেখে আসছি এই চিত্র। সরকারী প্রস্তুতির কারণে আশা করি এবার ভালো ডিম সংগ্রহ করতে পারবে সংগ্রহকারীরা।
ডিম সংগ্রহকারীরা জানান, সকাল থেকে এ পর্যন্ত ডিম সংগ্রহ সন্তোষজনক। অন্য যে কোনও বছরের তুলনায় ভালো। এবছর লকডাউনে সব ধরণের কলকারখানা বন্ধ থাকায় দূষণ কমে গেছে। ফলে সর্বোচ্চ ডিম সংগ্রহের আশা করছেন তারা।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, মা মাছের ডিম সংগ্রহের পর রেণু ফোটানোর জন্য উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে হাটহাজারী উপজেলার শাহমাদারি, গড়দুয়ারা ও রাউজান অংশের মুবারকখীল ও পশ্চিম গহিরায় মোট ৫টি সরকারি হ্যাচারি ও ১৬৭টি কুয়া প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয়রা আরও শতাধিক কুয়া প্রস্তত করেছে। স্থানীয় প্রশাসন ডিম সংগ্রহ ও রেণু ফোটানো, বিক্রিসহ সব বিষয়ে সহায়তা করছেন।
হালদা রিভার রিচার্স ল্যাবটরির সমন্বয়ক এসএম মনজুরুল কিবরিয়া বলেন- আমরা নিয়মিত তদারকি করছি। এখনও ডিম সংগ্রহ চলছে। তাই কি পরিমাণ ডিম সংগ্রহ হবে তা বলা যাচ্ছেনা। তবে লকডাউনে কলকারখানা বন্ধ থাকায় দূষণ অনেকটা কমে গেছে। ফলে এবার ২০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ডিম সংগ্রহের আশা করি।
Discussion about this post