নিজস্ব প্রতিবেদক : কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী হারবাং বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে থামছেই না গাছ নিধন, পাহাড় কাটা ও সংরক্ষিত বনভূমি দখলের মহোৎসব। স্থানীয়দের অভিযোগ, বন বিভাগের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে প্রতিনিয়ত এসব চললেও নেয়া হচ্ছে না কোনো কার্যকর ব্যবস্থা। ফলে ধ্বংসের মুখে পড়েছে সংরক্ষিত এই বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য।
মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অভয়ারণ্যের উত্তর হারবাং নলবনিয়া এলাকায় বিপুল পরিমাণ গাছ কেটে সাবাড় করা হয়েছে। কাটা গাছের গুঁড়ি বা টুকরো চারিদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দিনের আলো ও রাতের আঁধারে একটি সংঘবদ্ধ চক্র নিয়মিত গাছ কেটে পাচার করছে। পাশেই বৃন্দাবনখীল এলাকায় একটি মাদ্রাসার পেছনে বেপরোয়াভাবে পাহাড় কেটে সমতল করা হচ্ছে। যা বর্ষায় মারাত্মক ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি করছে।
অন্যদিকে, নাপিতের চিতা এলাকায় অভয়ারণ্যের ভেতরেই উঠছে নতুন নতুন স্থাপনা। আর পশ্চিম বৃন্দাবনখীল এলাকায় সাবেক এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে অভয়ারণ্যের প্রায় দুই একর বনভূমি ১৩ লাখ টাকায় এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয়রা জানান, নিয়মিত টহল থাকলেও অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই। এমনকি সামান্য টাকার বিনিময়ে মামলা থেকে মূল অভিযুক্তদের নাম বাদ দেয়ারও অভিযোগ রয়েছে চকরিয়ার হারবাং বনবিট কর্মকর্তা কবির হোসেনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) চকরিয়া শাখার সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন আলো বলেন, “দ্রুত এসব অপকর্ম বন্ধ না হলে এ অঞ্চলের পরিবেশ ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল চরম হুমকির মুখে পড়বে।”
অভিযোগের বিষয়ে বনবিট কর্মকর্তা কবির হোসেন জানান, বিষয়গুলো তদন্ত করে কয়েকজনের বিরুদ্ধে বন মামলা দেয়া হয়েছে। জমি বিক্রির স্থানটিতে গিয়ে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) নুর জাহান বেগম জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখে সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।






Discussion about this post