কলম টিভি ডেস্ক : শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, আমাদের কোন সংগঠন নাই, নিজস্ব লোক নাই, আমাদের কোন ভায়াসনেস নাই। কাজেই আমরা সকল ক্ষেত্রে সকলের অংশীদারত্ব নিশ্চিত করবো। আমাদের সে সদিচ্ছা আছে। আমরা সেটা করতে সর্বোচ্চ সচেষ্ট করবো।
শনিবার ১৯ অক্টোবর চট্টগ্রাম চেম্বারের কনফারেন্স হলে চট্টগ্রামের বিভিন্ন দপ্তর, এসোসিয়েশন, ব্যবসায়ী ও শ্রমিক প্রতিনিধিবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভায় উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব এ এইচ এম সফিকুজ্জামান পুরো অনুষ্ঠান সমন্বয় করেন।
সভায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শ্রম অসন্তোষ, দ্রব্যমূলের উর্ধ্বগতি, আমদানি রপ্তানি বাণিজ্য, চেম্বার প্রতিনিধি সমন্বয়ে বাজার তদারকি, টাস্কফোর্স, ব্যবসায়িক সংস্কার, উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম হ্রাস, চাঁদাবাজ মুক্ত ও ব্যবসায় বান্ধব পরিবেশ প্রভৃতি বিষয় তুলে ধরেন।
উপদেষ্টা বলেন, চট্টগ্রাম চেম্বার ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানসহ দেশের সব প্রতিষ্ঠান বিগত সময়ে দখল অপদখল হয়ে গেছে। এসব জায়গাগুলোতে পার্টিসিপেশন নিশ্চিত করা সম্ভব হয় নাই। এ জায়গাগুলো অতিমাত্রায় রাজনীতিকরণ করা হয়েছে। পারিবারিকভাবে শোষণ করা হয়েছে। যদি এরকম জায়গাগুলোতে আপনারা যারা প্রকৃত ব্যবসায়ী তারা প্রতিনিধিত্ব করতে পারতেন, শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্ব করতে পারতেন, তাহলে আমি বিশ^াস করি এর অর্ধেক সমস্যার সমাধান হয়তো আপনারাই করে ফেলতে পারতেন।
উপদেষ্টা বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠানে নির্বাচনের ক্ষেত্রে আগের কাউন্সিলের রয়ে গেছে। যেটা আপনারাও বলছেন, আগের সদস্যরা থাকা অবস্থায় যদি নির্বাচন হয়, তাহল্ েআশানুরুপ ফল পাওয়া যাবে না। আমার স্পোর্টস ফেডারেশনগুলোতেও একই অবস্থা। আগের কাউন্সিলররা আছে, এই মুহুর্তে নির্বাচন দিলে কাংখিত ফল আমরা আশা করতে পারছি না। সে জায়গা থেকে সেগুলো কিভাবে সমাধান করা যায়, প্রকৃত প্রতিনিধিদের কিভাবে সদস্য করা যায়, কাউন্সিলর করা যায়, সে বিষয়ে প্রশাসক আছেন, তাকে সহযোগিতা করবেন।
উপদেষ্টা আসিফ বলেন, আজ এখানে শ্রম মন্ত্রণালয়ের সচিব মহোদয় আপনাদের বলা বিষয়গুলো ভাল বুঝতে পেরেছেন, দীর্ঘদিন বাণিজ্য মন্ত্রণালযে এসব বিষয়ে তিনি কাজ করেছেন। আমি আমার জায়গা থেকে নোট নিয়েছি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সাথে অবশ্যই কথা বলবো যাতে সমস্যগুলো সমাধান করা যায়।
জনাব আসিফ বলেন, আপনাদের প্রায় সবগুলো দাবি আমরা নোট করেছি বিশেষ করে বাণিজ্য, শিল্প, অর্থ নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সবার সাথে আমি কথা বলবো। মন্ত্রণালয়ের সচিব মহোদয় বিষয়গুলো ভাল বুঝেন, কথা বলে কিভাবে দ্রæত সমাধান করা যায় সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেবেন। তবে আন্ত:মন্ত্রণালয়ের বিষয়গুলো একটু সময়সাপেক্ষ, কাগজ চালাচালি বা আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় মাঝে মধ্যে আটকে যেতে হয়, আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।
উপদেষ্টা বলেন, আপনারা একটা জিনিস সবসময় খেয়াল করবেন, বিগত সরকারের সময় আপনারাই বলছেন দখল অপদখল করার কারনে এ ধরনের প্রতিষ্টানগুলোতে প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হয় নাই। ভবিষ্যতে একই প্রেকটিস আবার ফিরে না আসে, আপনারা এটা নিশ্চিত করবেন। যদি একই প্রেকটিস ফির্ েআসে, তাহলে ক্ষোভের তৈরি হয়। আমরা বাংলাদেশে এ ধরনের পরিস্থিতি আর কখনো চাই না। পতিত ফ্যাসিবাদী সরকার ও তার দোসরদের বাদ দিয়ে বাকি সবাইকে নিয়ে চলতে পারেন, তাহলে ভবিষ্যত বাংলাদেশে এ ধরণের পরিস্থিতি আর উদ্ভব হবে না। আপনারা আপনাদের কমিউনিটিকে ব্যবসায়িক পরিবেশ, শ্রমিক নেতৃবৃন্দের জন্য শ্রম পরিবেশ নিশ্চিত করবেন। এবং এক্ষেত্রে আমরা যতদিন আছি আমাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
পরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, বিপিএলকে সামনে রেখে আগামী দু’মাসের মধ্যে চট্টগ্রাম ঢাকা ও সিলেট স্টেডিয়াম সংস্কার করার জন্য ইতোমধ্যে ৩১ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক সংস্কার কাজ করা হবে। বিপিএলটা আমরা সুন্দরভাকে করতে চাই। ভাল এক্সপেরিয়েন্স দর্শকদের দিতে চাই। যে সংস্কারগুলো না করলেই নয় সেগুলো আমরা ৩টি স্টেডিয়ামেই করবো। তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা অলিম্পিক থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্টে ইনফুট দিয়ে থাকনে, ডিজাইন করে থাকেন, তিনি এবার সরাসরি আমাদের পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা কাজ করছি। প্রাথমিক কাজ হচ্ছে স্টেডিযয়াম সংস্কার, সেটা আমরা করবো। চট্টগ্রামের দুটো স্টেডিয়ামেরই স্স্কংার প্রয়োজন। আমি ইতোমধ্যে সে বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছি।
উপদেষ্টা বলেন, বিসিবিতে যখন প্রেসব্রিফিং করি, তখন বলেছি আন্দোলন করা, সভা সমাবেশ করা সবার সাংবিধানিক অধিকার। এটাকে কেউ যদি মিসপ্রিন্ট করে , মিসপ্রিন্টিং করে বক্তব্য দেয়, সেটার দায় আমার না। আন্দোলন করা সাংবিধানিক অধিকার, আমরাও আন্দোলন করেছি, অভ্যুত্থান করেছি, তারপরে এ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছে।
সাকিব আল হাসানের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেন, আামি একটা বিবৃতির মাধ্যমে আমার পেজ থেকে স্পষ্ট করেছি, উদ্ভুদ পরিস্থিতিতে ক্রীড়াঙ্গনে যেকোন প্রকার অনাকাংখিত ঘটনা যাতে না ঘটে, এবং খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই আপাতত দেশে না আসার পরামর্শ আমি বিসিবিকে দিয়েছি। বিসিবি সে অনুযায়ী কথা বলেছে। নিরাপত্তা কিন্তু এটা না যে, নিরাপদে দেশে এনে খেলানো বরং নিরাপত্তা এটাও যে, দেশে আসলে যদি তার নিরাপত্তার কোন বিঘœ ঘটার আশংকা থাকে সেটাকেও আগে থেকে এভয়েড করা। উভয় দিক থেকে নিরপাত্তার বিষয়টা ভাবতে হবে।
অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) ও চট্টগ্রাম চেম্বার প্রশাসক মুহাম্মদ আনোয়ার পাশা এর সভাপতিত্বে সভায় বিভাগীয় কমিশনার মো. তোফায়েল ইসলাম, চট্টগ্রাম কাস্টমস কমিশনার জাকির হোসেন, বন্দর সদস্য হাবিবুর রহমান, চেম্বার সাবেক সভাপতি আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী, এরশাদ উল্লাহ, এস এম সাইফুল আলম, সৈয়দ মো. তানভীর, আমজাদ হোসেন, শ্রমিক নেতা এ এম নাজিম উদ্দিন, আবিদা মোস্তফা, প্রাইম মুভার এসোসিয়েশন সভাপতি, ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, গার্মেন্টস শ্রমিক নেতৃবৃন্দ, বক্তৃতা করেন।







Discussion about this post