মা
নজরুল ইসলাম হাবিবী
(130 টি কবিতা দিয়ে 2001 সালে ‘মা’ নামে আমি একটি কবিতার বই প্রকাশ করেছিলাম। বইটির প্রচ্ছদ আমার প্রফাইলে আছে।
এই কবিতাটি রচনা করি ট্রেনে বসে। সে দিন, যে দিন আমি প্রথম অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে যাচ্ছিলাম।
প্রথম দিন আমার স্ত্রী, মেয়ে অক্ষর এবং ছেলে অন্বয় পাডিংটন ট্রেন স্টেশন পর্যন্ত গিয়েছিল আমার সম্মানার্থে আমাকে ট্রেনে তুলে দিতে।
তাদের সাথে স্বাভাবিক ভাবে কথাবার্তা বললেও আমি যেন খুঁজে ফিরছিলাম আমার মা কে। কারণ, আমাকে নিয়ে আমার মায়ের কষ্ট ছিল একটু বেশি। এর কারণ আমি আমার বিভিন্ন লেখায় বলেছি।
1986 সালের 30 জুন অকালে পরপারে পাড়ি জমিয়েছিল আমার মা । এই কবিতাটি সে সব বেদনারই ছান্দিক রূপ মাত্র।
এখানে ‘মাত্রা’ নিয়ে বেশি মাথা ঘামানো হয় নি।
******************************************************************************************
মা, তোমাকে মনে পড়ে
আজ যে বহুদিন
চলে গেছো মোদের ছেড়ে
ছিঁড়ে প্রাণের বীণ!
যাকে নিয়ে কষ্ট ছিল
তোমার জীবন ভর,
স্কুল ছেড়ে পালিয়েছিল
হারিয়েছিল ঘর,
কাঁদতে তুমি যে ছেলেটি
হয়নি বলে কিছু,
আটাশ বছর চোখের পানি
যার ছাড়েনি পিছু।
যার কপালে ‘অ’ জুটেনি
অক্সফোর্ডে আজ সে,
যাও দেখে মা, কোটি তারা
ব্যথার আকাশে!
এ আনন্দ কষ্ট জাগায়
চোখে আনে জল,
কার তরে মা এ সুখ আমার
ফুল সনদ উপল!
কার গলাতে সুখের মালা
পরিয়ে দেব আজ,
তুমি বিনে মধ্য দিনে
নেমেছে মা সাঁঝ !
ভাবছি কেবল তোমার কথা
উছলে হৃদয়-ভূমি,
এমন মধুর কষ্টক্ষণে
যাও তুমি মা চুমি!
আমি এখন লন্ডনে মা
সুখের নেই গো শেষ
তোমায় ছাড়া ঘুম আসেনা
যায় না বুকের ক্লেশ!
টাকা পয়সা গাড়ি বাড়ি
কাঁদে শুন্যে চায়
অক্সফোর্ড আমায় প্রশ্ন করে:
“তোমার মা কোথায়!”
বলি আমি: ” মা মোর বুকে,
চোখে এবং ধ্যানে,
কলমে, এলমে, রক্তে
অশ্রুমাখা গানে!”
আশা ছিল অক্সফোর্ডে মা
থাকবে আমার সাথে,
সনদ নিতে যেতাম আমি
চুমি পা ও হাতে।
তুমি আমায় করতে আদর
টেনে নিতে বুকে,
ভালবাসার আবেগে মা,
কাঁদতে তুমি সুখে!
ওসব আশা হয় নি পূরণ
তুমি গেলে চলে,
সুখের দিনে দুখ সাগরে
ভাসি চোখের জলে!







Discussion about this post