কাব্যানুবাদ: পন্দে নামা আত্তার
(তৃতীয় কিস্তি)
নজরুল ইসলাম হাবিবী
মূল :
আঁকে লুতফ খেশ রা এজহার কর্দ
বা খলিলশ নারে রা গুলজার কর্দ।।
অনুবাদ:
সত্ত্বা সে প্রকাশে যে দয়া মেহেরবানি
করেছিল ইব্রাহীমের অগ্নিকুণ্ড পানি।
শব্দার্থ:
লুতফ- দয়া, মেহেরবানি।
শব্দটি আরবি। এখান থেকেই আমরা বলি লুতফুর রহমান।
স্ত্রী বাচকে লুতফা।
খেশ- আপন, নিজ।
তাই প্রবাদে আছে, আগে খেশ, পরে দরবেশ। এবং চাচা আপন প্রাণ বাঁচা।
এজহার- প্রকাশ করা।
শব্দটি আরবি। এখান থেকেই নামাজের সময় ‘জোহর’। দ্বিপ্রহরের নামাজ বলেই এ নাম।
বা – সহিত, জন্য ।
খলিল- অন্তরঙ্গ বন্ধু, প্রিয়জন।
শব্দটি আরবি।
নার- আগুন। শব্দটি আরবি।
গোলজার–ফুলের বাগান। গুল- ফুল। যেমন, গুল নাহার।
***
মূল :
আঁ খোদাওয়ান্দে কে হাঙ্গামে ছাহার
কর্দে কওমে লুত রা জের ও জবর।।
অনুবাদ:
চরম শক্তি খোদার রাতের ভেতর
করেছিল লুত জাতিকে জের ও জবর।
শব্দার্থ :
আন বা আঁ –সে, তিনি।
হাঙ্গাম- সময়, ওয়াক্ত।
ছাহার- রাতের শেষ প্রহর। শব্দটি আরবি।
এখান থেকেই আমরা রোজার দিনে শেষ রাতের খাবারকে সেহরী বলি।
লুত – লুত (আ)।
জের জবর- ওলটপালট।
আমাদের মক্তবের শিক্ষার্থীরা শব্দ দুটি চেনে।
আরবি বর্ণের উপরে চিহ্নটি থাকলে জবর, আর নিচে থাকলে বলি জের।
ওয়াও- এবং। শব্দটি আরবি।
***
মূল :
ছোয়ে উ খছমেকে তীর আন্দাখতাহ
পশ্ শায়ে কা-রস কেফায়ত ছা’খতা।।
অনুবাদ:
খোদার দিকে তীর ছুঁড়ে যেই দোশমন
মশা কেড়ে নিল সে অরির জীবন।
শব্দার্থ:
সোয়ে- দিকে।
উ- তার।
খচম- শত্রু।
কসম- শপথ।
তীর- তীর।
আন্দাখতা-নিক্ষেপ করা হয়েছিল।
পশ্ শা- মশা।
কারশ-তার কাজ।
কেফায়ত- যথেষ্ট করা।
শব্দটি আরবি।
আমরা কাফি শব্দটি ব্যবহার করে থাকি।
কুরআনে আছে : ওয়া ক্বাফা বিল্লাহে শাহীদা”।
সাখতা- বানিয়ে দেয়া।
**
নজরুল ইসলাম হাবিবী লন্ডন
3. 4. ’19
লন্ডন।





Discussion about this post