নিউজ ডেক্সঃ
প্রাণঘাতী করোনায় আক্রান্তদের সেবা দিতে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) থেকে চট্টগ্রাম ফিল্ড হাসপাতাল আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে।
সকাল থেকে রোগী দেখার মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামে ফিল্ড হাসপাতালটির কার্যক্রম শুরু হয়। এতে করে করোনো রোগীদের চিকিৎসায় আরেকটি প্ল্যাটফর্ম যুক্ত হল।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে করোনা শনাক্তের পরীক্ষাগার ফৌজদারহাটস্থ বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেসের (বিআইটিআইডি) কাছাকাছি ফকিরহাট পাক্কার মাথা এলাকায় বেসরকারি একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের ভবনে নির্মিত হয়েছে হাসপাতালটি। এই হাসপাতালের নামকরণ করা হয়েছে ‘চট্টগ্রাম ফিল্ড হাসপাতাল’ (সিএফএইচ)।
৪০টি বেড এবং ভেন্টিলেটর সুবিধা নিয়ে শুরু হওয়া এই হাসপাতালটির প্রধান উদ্যোক্তা ডা. বিদ্যুৎ বড়ুয়া। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া করোনা মোকাবেলায় নিজের দায়িত্ববোধ থেকে ফিল্ড হাসপাতাল নির্মাণে আগ্রহী হন তিনি। পরে তার এই উদ্যোগে সহযোগী হিসেবে পাশে এসে দাঁড়ায় নাভানা গ্রুপ।
প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় হাসপাতাল নির্মাণ করতে সময় লেগেছে ১৫ দিন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. বিদ্যুৎ বড়ুয়া বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে আনুষ্ঠানিকভাবে হাসপাতাল উদ্বোধনের ব্যবস্থা রাখা হয়নি। সকাল থেকে বেশ কয়েকজন রোগী এসেছে। তবে তারা বিভিন্ন রোগের উপসর্গ নিয়ে এসেছে। যেহেতু এটি শুধুমাত্র করোনা রোগের চিকিৎসা দেয়ার জন্য প্রস্তুত করা। তাই তাদের কাউন্সিলিং করে পাঠিয়ে দিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে ১৫ জন ডাক্তার আমাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। স্বাস্থ্যকর্মীসহ ৪০ থেকে ৫০ জন কর্মী এই হাসপাতালে নিয়মিত কাজ করবেন। রোস্টার অনুযায়ী ৩ থেকে ৪ জন ডাক্তার ডিউটিতে থাকবেন। পাশাপাশি নার্স-আয়া-ওয়ার্ডবয়রা রোস্টার অনুযায়ী সেবা দিবেন।
হাসপাতালটি জনগণের অনুদানে পরিচালিত উল্লেখ করে ডা. বিদ্যুৎ বড়ুয়া বলেন, হাসপাতালের সবকিছু বিনামূল্যে। রোগীর ওষুধ, থাকা, খাওয়া হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বহন করবে। কোনো টাকা খরচ হবে না। জরুরি প্রয়োজনের ব্যবহারের জন্য একটি অ্যাম্বুলেন্সও রাখা হয়েছে।
বিশেষায়িত এই হাসপাতাল নির্মাণে বিভিন্ন ব্যক্তির পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানও সহায়তা প্রদান করেছেন। হাসপাতালের উন্নয়ন কাজ দেখতে চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক, সিটি মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন সহ বেশ কয়েকজন হাসপাতালের স্থানটি পরিদর্শনে যান। বিশেষায়িত এই হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রম দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন তারা।







Discussion about this post