নগরীর পোর্ট কানেকটিং (পিসি) রোডের বড়পোল মোড়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী স্মারক “বজ্রকণ্ঠ” শীর্ষক ভাস্কর্য স্থাপন করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন । সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের উদ্যোগ ও দিক নির্দেশনায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) চারুকলা ইন্সটিটিউটের দুই শিক্ষক ও আট শিক্ষার্থীরএই ভাস্কর্যটি নির্মাণ করেছেন। ভাস্কর্য তৈরিতে মোট ব্যয় করা হয়েছে মোট ৮৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা। এর মধ্যে মূল ভাস্কর্য নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৪০ লাখ টাকা। আর ভাস্কর্যের চারপাশে বেদি, সৌন্দর্যবর্ধন ও আনুষঙ্গিক কাজের জন্য ৪৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা ব্যয় করা হয়েছে। সড়ক থেকে ৫ ফুট উঁচু বেদিসহ পুরো ভাস্কর্যের উচ্চতা ২৭ ফুট। এই পর্যন্ত দেশে নির্মিত বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের মধ্যে এটিই সর্ববৃহৎ বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
আজ ২৯ জুলাই বুধবার “বজ্রকণ্ঠ” ভাস্কর্যটি উদ্বোধন করেছেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্যে সিটি মেয়র বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বজ্রকণ্ঠের ভাষণের সেই চিরচেনা অভিব্যক্তিকে এই ‘বজ্রকণ্ঠ’ ভাস্কর্যে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। বাংলাদেশ আজ যখন শিক্ষা, সংস্কৃতি, অর্থনীতির উন্নতির সোনালী সময়ে এসেছে বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী। তাঁর দৃপ্ত কণ্ঠের বজ্রধ্বনি কাঁপিয়ে দিয়েছিল সা¤্রাজ্যবাদী পাকিস্তানী শক্তির ভীত এবং ঐক্যবদ্ধ করেছিল সমগ্র বাঙালি জাতিকে। ভাষণরত বঙ্গবন্ধুর শক্তিশালী সেই হাতটিই যেন সমগ্র বাঙালি জাতির ঐক্যবদ্ধতার প্রতীক। জাতির অতীত গৌরবময় পর্বকে নতুন প্রজন্মের সামনে মূর্ত করে তুলে ধরতেই ‘বজ্রকণ্ঠ’ শিরোনামের এই ভাস্কর্য প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে, যা প্রজন্মের পর প্রজন্মকে উদ্দীপ্ত করবে নিঃসন্দেহে।
ভাস্কর্যটির পরিকল্পনা ও পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছেন চসিক থিয়েটার ইন্সটিটিউট পরিচালক আহামেদ ইকবাল হায়দার,চবি চারুকলা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক শায়লা শারমীন ও চবি চারুকলা ইন্সটিটিউটের সহকারী অধ্যাপক আতিকুল ইসলাম। প্রায় ছয় মাস ধরে বঙ্গবন্ধুর এ ভাস্কর্যটি নির্মাণ করেন। এই নির্মাণকাজে চবির আরও ৮ শিক্ষার্থী শিল্পী অংশগ্রহণ করেছেন।
উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে টাইগার পাসস্থ চসিক কার্যালয়ের বিন্নাঘাস সংলগ্ন স্থানে মাটি দিয়ে মূল ভাস্কর্যের একটি আদল (অনুকৃতি) তৈরী করা হয়। মাটির তৈরী আদলটি প্রথমে জনসম্মুখে উন্মোচিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে মাটির আদল অনুসরণ করে মূল ভাস্কর্যটি নির্মাণ করা হয়েছে।
উদ্বোধনকালে কাউন্সিলর এইচ এম সোহেল, নাজমুল হক ডিউক, হাসান মুরাদ বিপ্লব, এরশাদ উল্লাহ, সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর আফরোজা কালাম, চসিক প্রধান প্রকৌশলী লে.কর্ণেল সোহেল আহমদ, মেয়রের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, সাবেক কাউন্সিলর লায়ন মোহাম্মদ হোসেনসহ মেয়রের একান্ত সহকারী রায়হান ইউসুফ, সাবেক কাউন্সিলর লায়ন মোহাম্মদ হোসেন, তত্ত¡াবধায়ক প্রকৌশলী সুদীপ বসাক, ঝুলন কান্তি দাশ, নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাদাত মোহাম্মদ তৈয়ব, হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল আলম পিপিএম, সহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার জাহান, প্রকৌশলী রেজাউল বারী, মেসার্স জে বি ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ জাবেদ আলম, রাজনীতিক বেলাল আহমদ, এনামুল হক মুনীরি, আবু সুফিয়ান, এস . এম মামুনুর রশিদ, সুমন দেবনাথ, আনিসুর রহমান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
Discussion about this post