পূণ্য ও শূন্য! ?
নজরুল ইসলাম হাবিবী
আমার জানা নেই যে, এমন কোন কুরআন ও হাদিস আছে, যেখানে বলা হয়েছে, এই ভুল বা সেই পাপের কারণে
“আল্লাহর আর্শ কেঁপে ওঠে”। শ্রোতার মন গলাতে, আরো বেশি হাদিয়ার মতলবে বা ফেসবুকে লাইক কমেন্টের মত্ততায় এখন হুজুর আপনি ‘আর্শ’ নিয়েও টান দিলেন? আহা,
উদাহরণ দেবার কত রাস্তা ছিল!
আপনি এমন এমন কথা বলেন, একে অপরের দোষ বের করেন, গালাগালি, দলাদলি করেন, আপনার জন্য আমার কষ্ট হয়। আপনারা দুইজন এক বেহেশতে থাকতে পারবেন বলে আমার মনে হয় না। বেহেশতে বসেও আপনারা একে অপরের বিরুদ্ধে ফতোয়া দেবেন ! এ জন্যই সম্ভবত বাগধারায় আছে, ‘স্বর্গের ষাঁড়’।
হে আল্লাহ! আমাকে তেমন বেহেশতে নিও না।
কথায় কথায় ‘আহলে বাইতের’ গুণগান যারা করেন তারা শিয়া হতে পারে বলে আশঙ্কা করি।
আহলে বাইত নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বংশধর। উনাদের সম্মান করে কথা বলা, উনাদের উপর দরুদ শরীফ পেশ করা আমাদের বিশ্বাসের অংশ। কিন্তু যখন দেখি পবিত্র সাহাবাদের বাদ দিয়ে, বুদ্ধি করে শুধুমাত্র ‘আহলে বাইতের’ কথা বলা হচ্ছে, সেখানেই আমার আপত্তি।
মাঝে মধ্যে ফেজবুকে কিছু ‘ভয়েস ক্লিপ’ দেখা যায়। বড়ই মধুর সুরে একজন মহিলা আপনাকে নসিহত করছে: “এই হলে সেই দোয়া পড়ুন, আহলে বাইতের আশ্রয় নিন, সকল মসিবতের আসান “,,,,,,! এ রকম একটি পোস্টদাতাকে আমি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলাম, উত্তর দেয়নি।
শিয়াদের মূল কথাই হল প্রথম দিকের তিন সাহাবাদের (র) গালাগালি করা। তার কারণ আপনারা জানেন।
লন্ডনে আমার অনেক শিয়াবন্ধু আছে। এদের নাম নব্বই ভাগ ‘আলী’ হয়ে থাকে। একজন ‘জাফর আলী’ আমার বাসায় আসত, কুরআন শিখত, যখন তার দাদী জানতে পারেন যে, আমি শিয়া নই তখন থেকে সে আর আসতে পারে না। অবশ্য, ফেজবুকে/ ফোনে কথা হয়। একদিন ফোন দিয়ে বলল, সে একজন মেয়েকে ভালবাসে, কিন্তু মেয়েটি ‘বাইন মাছের’ মত। এই ধরে, সেই চলে যায়। চোখের পানি, পাণীর ছানি কিছুতেই ‘ছুরা’ ভেজে না। কঠিন মন। আমি যেন একটি ‘বশীকরণ’ দোয়া শেখাই। আমি আউজু বিল্লাহ,,,,, দোয়াটি পাঠ করতে পাঠাব বলে ভাবছিলাম। পাঠাই নি, কারণ, সে জানে এ দোয়ার অর্থ।
শিয়ারা বিভিন্ন মাধ্যমে বিভিন্ন কথা এখানে সেখানে হযরত আলীর (র) নামে প্রচার করে দেদারচে।
আপনি দেখবেন, ফেজবুকে এমন কিছু কথা পোস্ট করা হয় যা অত্যন্ত মারাত্মক, ঈমান বিধ্বংসী।
“রোজার বা ঈমানের এই হাদিসটি দশ/বিশ জনের কাছে পৌঁছানো গেলে এক হজ্জের সাওয়াব”। আল হাদিস, হযরত আলী (র)।
হাদিসও আল্লাহর বাণী।
হাদিস নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী বা জীবন পদ্ধতির নাম। সাহাবীগণ উদ্ধৃতি দিতেন। তাঁরা নিজেদের থেকে কিছু হাদিসের নামে চালাতেন না।
হযরত আলী (র) হাদিসের রাবী হতে পারেন। অথবা কোন কিছু আলী (র) এর বাণী হতে পারে, হাদিস হতে পারে না। ইসলামী পরিভাষায় ‘হাদিস’ মানেই মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা, কাজ বা সম্মতি।
কাদিয়ানীরা মোটেই বসে নেই। তারা জালের সাথে সহীহ, সহীর সাথে জাল বা দুর্বল হাদিস মিশিয়ে প্রচার করে সুযোগ বুঝে।
আমাদের মসজিদে বর্তমানে কারা যেন কাদিয়ানীদের বই পুস্তক রেখে যায় গোপনে। তাদের মুসলিম টিভি চ্যানেল চব্বিশ ঘণ্টা ফ্রি। আমাদের ফতোয়া এদের জন্য নয়!
এখন রামাদান সামনে। এ রকম পোস্ট আপনি সব সময়ই পেতে থাকবেন। বলা হতে পারে, “রামাদানের সংবাদটি আগেভাগে কারো কাছে পৌঁছানো গেলে সত্তর বছরের গুনা মাফ”। আপনি লাফ মেরে বাপ বাপ করে ‘মারহাবা’, ‘সুবহানাল্লাহ’, ‘আমিন’ লিখতে থাকবেন?
একদা এক ভাই ফেসবুকে বলল, “আমার বাবা ইন্তেকাল করেছেন, দোয়া চাই” , কমেন্ট আসল “মারহাবা”, এবং “আমিন”!!
ফেজবুকের ভাই বোনদের বলব, যেসব কুরআন, হাদিস ও ইসলামের ইতিহাসের সাথে আপনি পরিচিত নন, তাতে লাইক কমেন্ট শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন। সাওয়াব হাতছাড়া হলেও ভুলের গুনা থেকে রক্ষা পাবেন।
কী দরকার পূণ্যের নামে শূন্য হওয়া?
**
ওমা তাওফিক্বী ইল্লা বিল্লাহ
22. 04. ’19
লন্ডন।






Discussion about this post