পৃথিবীতে জানা, অজানা অনেক কিছু লুকিয়ে থাকে তার নাম হচ্ছে সম্পর্ক।জীবনে বেঁচে থাকার গুরুত্বপুর্ন একটি অংশ। এখানে মিশে থাকে কত মায়া, মমতা আন্তরিকতা,হৃদয়ের অপ্রকাশিত অদ্ভুদ টান। বর্তমানে সেইটান আগের মত আর টানে না।
প্রতিটি সম্পর্কে বিশেষ করে ভাই- বোনের সম্পর্কে আন্তরিকতার অভাব সুস্পষ্ট। আজ সততা ঘুণে ধরেছে ভালোবাসা,স্বচ্ছতা সম্পূর্ন না ফেরার দেশে।
একই মা,বাবা।সে,ই মা, বাবার আদরে-ভালোবাসা যারা বড় হয় একটি পবিত্র-দুনিয়ার সবচেয়ে আপন, নিঃস্বার্থ শক্তিশালী দৃঢ় মানসিক বন্ধনে বেড়ে উঠে তারা,ই নিজ স্বার্থে সেই সর্বোচ্চ বন্ধনকে অস্বীকার করে তার অপর নাম হচ্ছে অনেকের মতে,ভাই -বোন।একজন ভাই-বোন সম্পর্ক হওয়া উচিত নির্মল,পবিত্র, নিঃস্বার্থ।
শৈশব থেকে কবরের যাওয়া পর্যন্ত হওয়া উচিত একে অপরের সুখ দুখের সঙ্গী। ভাই-বোন পৃথিবীতে সবচেয়ে আপন। সুখ, দুঃখের সাথী।তাদের মধ্যে একে অপরের সাথে সম্পর্কে থাকবে শুধু বিনয়, ভদ্রতা নম্রতা ও সেবা সহযোগিতার নিঃস্বার্থ মনোভাব।দুর্ভাগ্যক্রমে,সে সম্পর্ক আজ নেই। সম্পত্তি সহ নানা পারিবারিক কারনে তাহা আজ হুমকির সম্মুখীন। নবী করিম (সাঃ) বলেছেন তোমাদের মধ্যে সেই উত্তম যে তার পরিবারের কাছে উত্তম। আমি আমার পরিবারের কাছে উত্তম ব্যক্তি।
(সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ৩৮৯৫)।
পৃথিবীতে সেই মুমিন যে নিজের জন্য যা পছন্দ করে, অন্যের জন্য তাই পছন্দ করে।
রাসুলুল্লাহ (সাঃ)বলেন,তোমাদের কেউ ততক্ষণ প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য তাই পছন্দ করে, যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে।’
(সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৩)।
বর্তমান সমাজে দেখা যাচ্ছে,কোন ভাই-বোন এমনকি ভাই -ভাই পরস্পরের কোন দুঃখের অংশীদার হয়না।এমনকি খোঁজ খবর ও নেয় না। এমনকি সমাজিকতা ও রক্ষা করে না। পৃথিবীতে ভাই-বোন পরস্পরের শুধু আপনজন নয় বরং তারা পরস্পরের ভালো বন্ধু হওয়া উচিত।তারা একে অপরকে সুপরামর্শ দিবে,কেউ কার ও সম্পত্তি বা অর্থ আত্মসাৎ করবে না একের বিপদে অন্য এগিয়ে আসবে।নির্মম সত্য ও বাস্তবতা স্বার্থ ছাড়া এখন কোন ভাই -বোন এক পা ও হাঁটছে না,হাঁটে না। পারিবারিক জীবনে একজন অন্যায় করলে অন্য ভাই বোন তার স্বার্থে চুপ করে থাকে যা মুনাফেকের লক্ষণ। ভাই-বোনের কেউ যদি কোন কখনো অন্যায় করে থাকে তখন তার প্রতিবাদ করা উচিত ও তা প্রতিহত করা উচিত। হযরত আনাস (রাঃ)হতে জানা যায়,রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেন,অত্যচারীর হাত ধরে তাকে বিরত রাখবে।
(সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৪৪৪)
সম্পত্তি সহ নানা পারিবারিক কারনে ভাই বোনের সম্পর্ক আজ হুমকির সম্মুখীন।
ভাই বোনের সম্পর্ক নষ্ট করা উচিত নয়। এমনকি কোন সম্পর্ক নষ্ট করা উচিত নয়।কাল কেয়ামতের ময়দানে
খারাপ সম্পর্কের কারনে সবার সাথে দেখা হলেও ভাই বোনের সাথে দেখা হবে না।ভাবতে তা কষ্ট লাগার মত।
দুনিয়াতে যদি ভাই – বোনের সম্পর্ক ভালো থাকে তবে আখেরাতে তাদের মিলিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। যদি কোন ভাইয়ের প্রতি বোনের দুনিয়া থাকা অবস্থায় তার অন্তরে নানা ধরনের যৌক্তিক কষ্ট থাকে এমনকি তার বোনের অসম্মতিতে বা বোনকে না জানিয়ে বোনের সাথে প্রতারনা করা হয় তখন মহান আল্লাহ তাকে তার সাথে আখারাতে মিলিয়ে দিবেননা এখানে উল্লেখ থাকে যদি ভাই – বোন স্বইচ্ছায় জেনে বুঝে কোন কিছু যেমন জায়গা জমি, সম্পদ,অর্থ, কিছুর বিনিময়ে বা বিনিময় ছাড়া দিয়ে থাকে তখন তাতে কোন সমস্যা নেই কেননা সব কিছুর সর্বক্ষেত্রে সাক্ষী মহান আল্লাহ।
পবিত্র কোরানের সূরা আবাসা- ৩৭ নং আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন,সেদিন তাদের প্রত্যেকের এমন এক চিন্তা থাকবে যা তাকে অন্যদের ব্যাপারে উদাসীন করে তুলবে। সেই কিয়ামতের কঠিন পরিস্থিতি, সবাই তার নিজের জীবিত থাকা অবস্থায় তার নিজের কর্মকান্ডের জবাবদিহি ও বিচারের ভয়ে এতটাই ব্যস্ত থাকবে সেই নিজেকে ছাড়া অন্য কাউকে নিয়ে ভাবার সময়ই পাবে না।যা এই ইহলোকিক জীবনে আমরা মোটেই ভাবি না।আমরা যদি তা বিন্দুমাত্র মনে রাখতাম তাহলে এই দুনিয়ায় আমরা কারও জন্য পথ চেয়ে বসে থাকতাম না।কাউকে ঠকিয়ে,প্রলোভন দেখিয়ে ক্ষমতা, অর্থ,নারী দেহ ভোগ করে নানান কথায় আমরা অন্যের সর্বনাশ করতাম না।
মুলত আমি, আমরা যা করছি তা ক্ষণস্থায়ী অর্থহীন লোক দেখানো বা অন্যকে ঠকানো বা আমাকে মানুষ বাহ! বাহ! ” দিক বা আমার রূপের প্রশংসা করুক বা আমাকে দাড়িয়ে সম্মান করুক বা আমার পুজা করুক বা আমার কথা শুনুক আসলে সবই একই বৃত্তে ঘুরপাক খায়।মুলত এই সব,ই অর্থহীন এমন কি এর জন্য আরো কঠিন শাস্তি আখেরাতে তাকে দেয়া হবে।
মহানআল্লাহ পবিত্র কোরানে বলেন,যারা ঈমান এনেছে এবং যাদের সন্তান- সন্ততিরা ঈমানে তাদের অনুসরণ করেছে, আমি তাদের সন্তানকে তাদের সঙ্গে মিলিয়ে দেব এবং তাদের আমল হতে কিছু ই কমাব না।
প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ কৃতকর্মের জন্য দায় বদ্ধ।সূরা(আত্ তূর: ২১)। রাসূলে পাক (সাঃ) বলেন, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআ’লা মুমিনদের একত্রিত করবেন এবং বলবেন,’কোথায় তারা, যারা আমার সন্তুষ্টির জন্য একে অপরকে ভালোবাসত ? আজ আমি তাদেরকে আমার ছায়ায় আশ্রয় দেব,যেদিন আমারছায়া ছাড়া আর কোন ছায়া থাকবে না।’”(সহীহ মুসলিম, হাদীস: ২৫৬৬) অন্য এক হাদীসে রাসূলে পাক্(সাঃ) বলেন,মানুষ সে ব্যক্তির সাথেই থাকবে, যাকে সে ভালোবাসত।” ( সহীহ বুখারী- ৬১৭১)
কাজেই বন্ধু নির্বাচনে,ভালোবাসার ক্ষেত্রে আত্মীয়তার বন্ধন, সতত এই সব নির্বাচনে সর্বত্র চলাফেরা করণে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। আমরা আগেই জেনেছি সৎ সঙ্গে স্বর্গ বাস অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ তবে এইটা পরিস্কার যে, যেখানে ভাই, বোনেরা দুনিয়াতে একে অপরের সাথে খারাপ ব্যবহার করেছে বা একে অপরের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করেছে,সেখানে হয়ত তাদের জন্য দেখা করা কঠিন হতে পারে,অনেকের মতে হবে না তা নিশ্চিত।সব কিছু মহান আল্লাহ,ই ভালো জানেন।
অন্যদিকে যারা শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এই দুনিয়াতে একে অপরকে ভালোবাসতেন, কারও হক কখনও নষ্ট করেননি, এমনকি কোন ভাই তার বোনের বা ভাই, ভাইয়ের বিন্দু মাত্র হক নষ্ট করেন নি তারা অবশ্যই সেই কেয়ামতের দিন মিলিত হতে পারবেন।
আসুন,আমরা সবাই মানুষকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ভালোবাসি, ক্ষমতা,অর্থ, ভোগ বিলাসের জন্য তা যেন কখনও না হয়।আসুন,কোরান ও হাদিসের আলোকে আমরা সবাই কল্যানকর জীবন গড়ে তুলি এক কথায় নিজে সৎ থাকি অন্যকে সৎ হতে সতত সহযোগিতা করি।ভাই-বোনের স্বর্গীয় সম্পর্ককে অটুট রাখি।
লেখক- মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম।
কবি,প্রাবন্ধিক ও মানবাধিকারকর্মী।







Discussion about this post