রাউজানে বিএনপিকে সুসংগঠিত করতে ১৩ ইউনিয়নে আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল হুদা, সদস্যসচিব ফিরোজ আহমদ।
নিউজ ডেস্ক : চট্টগ্রামের রাউজানে বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী ও তৃণমূল পর্যায়ে নেতৃত্ব সুসংহত করতে উপজেলা বিএনপির ৩১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি এবং ১৩টি ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক করা হয়েছে আলহাজ্ব নুরুল হুদা চেয়ারম্যানকে এবং সদস্যসচিব করা হয়েছে ফিরোজ আহমদকে। বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী এসব কমিটি ঘোষণা করেন।
শনিবার (১০ অক্টোবর) রাউজানের গহিরাস্থ বাসভবনে উপজেলা বিএনপির বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ্ব নুরুল হুদা চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে সভা সঞ্চালনা করেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফিরোজ আহমদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী এমপি বলেন, সাংগঠনিক শক্তির কোনো বিকল্প নেই। শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তুলতে হলে যোগ্য নেতৃত্ব, তৃণমূলের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং নেতাকর্মীদের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কর্মসূচি বাস্তবায়ন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় বিএনপিকে তৃণমূল থেকে আরও সুসংগঠিত করতে হবে। সময়ের প্রয়োজনেই উপজেলা বিএনপি ও ১৩টি ইউনিয়নে নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এসব কমিটির নেতাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল করে দলকে শক্তিশালী করতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যোগ্যতা, সততা, জনসম্পৃক্ততা ও গ্রহণযোগ্যতাই হবে প্রার্থী বাছাইয়ের প্রধান মাপকাঠি। কোনো ধরনের তদবির, স্বজনপ্রীতি কিংবা ব্যক্তিগত প্রভাবের ভিত্তিতে চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হবে না। যাঁরা জনগণের আস্থা অর্জন করেছেন, মানুষের পাশে থাকেন এবং জনসেবায় আন্তরিক, তাঁদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। ইউপি সদস্যরা সরাসরি জনগণের প্রতিনিধি। তাই তাঁদের প্রার্থী বাছাইয়ে যথাযথ যাচাই-বাছাই নিশ্চিত করতে হবে। প্রার্থীদের তালিকা হতে হবে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য। কোনো অনৈতিক তদবিরের কাছে নতি স্বীকার করা যাবে না।
আসন্ন দুর্গাপূজা প্রসঙ্গে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী এমপি বলেন, রাউজানে দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে হবে। পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নির্বিঘ্নে ধর্মীয় উৎসব পালন এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। রাউজানে দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বরদাশত করা হবে না।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ হালিম।
বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য আবু জাফর চৌধুরী, সাবেক শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ মাস্টার, এইচ এম ইকবাল চৌধুরী, ফয়জুল ইসলাম চৌধুরী টিপু চেয়ারম্যান এবং রাউজান পৌরসভা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মনজুরুল হক মঞ্জু, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সহ সভাপতি সাবের সুলতান কাজল।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাউজান উপজেলা বিএনপি নেতা নুরুল আলম, হাফেজ হাশেম, হারুন উর রশিদ, অ্যাডভোকেট এম হাশেম, এনাম উল্লাহ, কাজী সরোয়ার খান মনজু, আইয়ুব খান জনি, দিদারুল আলম ওয়াহিদী, মোহাম্মদ মনজু, জাহাঙ্গীর মিয়াজী, মহিন উদ্দিন জীবন, শামসুল হক বাবু, আবদুল মান্নান, মোহাম্মদ মুবিন, শফিউল আলম, মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, অ্যাডভোকেট মফিজ উদ্দিন ইমন, কামাল মিয়া, নজরুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর আলম ও ফোরকান উদ্দিন প্রমুখ।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন রাউজান উপজেলা যুবদলের সভাপতি এম শাহজাহান শাহিল, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আজম ছোটন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক একরাম মিয়া এবং রাউজান উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি লিটন মহাপজন লিটুসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
সভায় রাউজানে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার, তৃণমূলের নেতৃত্ব সুসংহত, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যোগ্য ও জনবান্ধব প্রার্থী বাছাই এবং দুর্গাপূজায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।






Discussion about this post