গনতান্ত্রিক সমাজ গঠনে,সুন্দর রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সুষ্ট নির্বাচনের কোন বিকল্প নেই। রাষ্ট্রের মালিক জনগন।জনগন নির্বাচনের মাধ্যমে তার এলাকার যোগ্য প্রতিনিধি নির্বাচন করে। যোগ্য প্রতিনিধি যাছাই করা আর তাকে নির্বাচিত করার সঠিক পদ্ধতি হচ্ছে নির্বাচন। সব গনতান্ত্রিক দেশে বা ঐ দেশের ভোটাধিকার প্রাপ্ত সকল নাগরিক ভোট দিয়ে তাদের জনপ্রতিনিধি যাছাই বাছাই করার এটি একটি নির্ভূল পদ্ধতি।সে প্রতিনিধি জনগনের কথা ইচ্ছা,অনিচ্ছিার বাস্তবায়নে সংসদে কথা বলবে,বিল আকারে তা পাস করবে এমনকি তার বাস্তবায়ন করবে তাতে জনগনের সকল ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটবে এটি জন প্রত্যাশা।
এর জন্য নির্বাচন সবচেয়ে সঠিক গনতান্ত্রিক একটি পদ্ধতি।রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রবার্ট ডাহল এর মতে,একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক স্বাধীনতা এবং ভোটের আগে ন্যায্য প্রক্রিয়া ,ভোটদানকারী যোগ্য ভোটারদের সুষ্ঠু গণনা, নির্বাচনী জালিয়াতি দমন এবং সকল পক্ষের দ্বারা নির্বাচনের ফলাফল গ্রহণ।
এক কথায়, সুষ্ঠ ও অবাধ নির্বাচনের জন্য করণীয় সব নির্ধারন ও তার সঠিক বাস্তবায়ন।
নির্বাচন যদি দেশের সকল জনগনের দাবি হয়,এমনকি সকলের মতামতে কোন অন্তবর্তী কালীন সরকারের অধীনে হয়,গনতান্ত্রিক সেই সময়ে গনতন্ত্রিক ব্যবস্থায় নিজের স্বার্থে কোন দলের বা গোষ্ঠীর নির্বাচন বর্জন বা প্রতিহত করা এ দেশের মানুষের সাথে চরম বিশ্বাসঘাতকতার সামিল।
অন্যদিকে নতুন যে কোন কোন পদ্ধতি যার সাথে এদেশের সকল মানুষের বা জনগোষ্ঠীর কোন পরিচয় নেই,সুবিদা বা অসুবিধা সম্পর্কে মানুষ জানে না, বিগত দিনের আন্দোলন ও সরকার কাঠামো পরিবর্তনে যা জনগনকে কখনও কেউ অবহিত করে নাই সেই পিআর সহ নানা ধরনের অযোক্তিক দাবী তা কোন কোন দলের স্বার্থে হতে পারে এমনকি তা যদি জনগনের অনিচ্ছা স্বর্তেও জনগনের উপর ছাপিয়ে দেয়া হয় তবে তা হবে সম্পুর্নভাবে অগনতান্ত্রিক। যে দেশের মানুষ ইবিএমকে গ্রহন করে নাই,সে দেশের মানুষ পিআর সহ নানা অসংগতি কখন ও মেনে নেবে না।
নির্বাচন পরবর্তী সংবিধান ও সাংবিধানিক রীতি অনুযায়ী যা হবার তা সংসদে হবে সংসদ আইন তৈরী করবে। বেশির ভাগ জনগনের নির্বাচিত প্রতিনিধি বা সাংসদরা যে সিদ্ধান্ত নিবে সে সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত বলে গৃহীত হবে।নিজেরা কয়েকটি দল সংসদের বাইরে নিজেদের মত করে সিদ্ধান্ত নিয়ে তা সংসদে গিয়ে পাস করবে তাতে জনগনের মতামত প্রতিফলিত হবে না,এটি ঠিক ও নয়।এতে দলীয় ও ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থ হয়। জন গনকে বােকা বানানো হয়।পিআর সহ নানা গুরত্ব পুর্ন সংস্কার বা নিম্ন কক্ষ,উচ্চ কক্ষ যে কোন তত্বাবধায়ক বা কোন না কোন অন্তর্বতীকালীন সরকার করতে পারে না।এটি করবে নির্বাচিত সংসদ। এই জন্য এই বারের নির্বাচন সব নির্বাচন হতে গুরত্বপুর্ন। সে যাই হোক,সবাই এই বার আশা করছে,২০২৬ এর ফেব্রুয়ারীতে যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সেই নির্বাচনে হবে সব চেয়ে গুরত্বপুর্ন।যাতে সব তরুন, তরুনী ভোটারদের অংশ গ্রহন আর আমার মত লক্ষ লক্ষ ভাসমান ভোটার,রা যারা স্থান কাল পাত্রভেদে যতকালে ততবিবেচনা সাপেক্ষে সব সময় বিবেচনা করে যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেয় আর দেওয়ার আগে প্রত্যেকের পূর্ববর্তী আমল নামা বিবেচনা নিয়ে ভোট দেয় তাদের সিদ্ধান্তে ভোটের মাঠে যে নানান হিসাব নিকাশ জরিপ করা হয় তার সব ফলাফলকে যে কোন সময় উল্টে দিতে পারে।
তাই প্রত্যেক দলকে এখন থেকে কারও গীবত না করে তারনির্বাচনী ইশতেহার সহ আগামী সব পরিকল্পনা নিয়ে জনগনের নিকট ভোট চাওয়া উচিত।
পিআর যখন মানুষ বুঝে না তখন আগে তা মানুষকে বুঝাতে হবে।এইবার না হলে ও যেন আগামীতে মানুষ তা গ্রহন করে তার জন্য জনসংযোগ বৃদ্ধি সহ গঠনমুলক রাজনৈতিক পরিকল্পনা নিতে হবে, সবাইকে সুষ্ট রাজনৈতিক চর্চার মাধ্যমে জনগনের মন জয় করে জনগনের নিকট ভোট চেয়ে জনগনের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সংসদে গিয়ে জনকল্যানে ভুমিকা রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে,তাও হতে হবে সাংবিধানিক।এবারে সব নতুন আর ভাসমান ভোটাররা ভোট দিতে অংশগ্রহন করবে তাদের মতামত,প্রতিনিধি নির্বাচনে তারা গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা রাখবে কেননা বিগত দেড় দশক তাদের অনেকে ভোটার হয়নি বা কেউ ভোট দিতে পারেনি।
নির্বাচন ছাড়া জনগনের মতামত জানা যায় না।এই বারের নির্বাচনে সবাই অংশ গ্রহন করবে সকলের বিশ্বাস কেননা বিগত ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪ কোন নির্বাচনে মানুষ অংশ গ্রহন করেনি,ভোট দেয়নি।আমি নিজে ও ভোট দিতে পারেনি,পারেনি দেশের সব জনগন। নিপীড়ক সরকার বিগত দিনে,দিনের ভোট অন্যায়ভাবে রাতে নিয়ে নেয় যার ফলে জনগন বিরক্ত হয় আর সে ফ্যাসিবাদ জনগনকে কে ভীষণ ভাবে পীড়া দেয়। দেশের বেশির ভাগ মানুষের ইচ্ছার বাস্তবায়ন,দূর্নীতিমুক্ত সমাজ প্রশাসনের জবাবদিহিতা,কার্যকর সংসদ,আর জনগনের মতামতকে সম্মান দেয়ার মুলে থাকে গনতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠা। আজ জনগন কে প্রাধান্য না দিয়ে কোন কোন দল বা গোষ্ঠি জনকল্যানের কথা না ভেবে তারা নিজেদের কে আগামীতে সাংসদ হওয়ার খায়েসে বা তাদের জীবন মানকে উন্নত করার ধ্যান ধারনা মানসিকতা দেশের অকল্যান তারা মুলত নিশ্চিত করে।
নির্বাচন এমন একটি গুরুত্বপুর্ন প্রক্রিয়া যেখানে জনগণের হাতে রাষ্ট্র বিনির্মানে যে গনতান্ত্রিক ক্ষমতা থাকে সে ক্ষমতায় তারা তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারে ,রাষ্ট্রকে জনকল্যানমুখী করে।সেই নির্বাচনে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার জনগণের কাছে সব সময় দায়বদ্ধ থাকে যা জনগনের কল্যানে সরকারের বৈধতাকে নিশ্চিত করে। নির্বাচনে প্রত্যকটি দল জনগনের নিকট তার গ্রহনযোগ্যতা যাছাই করতে পারে এমনকি রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারে। নির্বাচনে যারা নির্বাচিত হয় তারা তার এলাকার জনগনের নিকট দায়বদ্ধ থাকে এবং তাদের কাজের জন্য জবাবদিহি করতে ও বাধ্য থাকে এমনকি তার কর্মকান্ড ভালো মন্দ বিবেচনা পরবর্তীতে তার জনসেবা করার একটি সুযোগ তৈরী হয়। নির্বাচনের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করে জনগনের সরকার প্রতিষ্ঠা করা যায়।সুষ্ঠ আর অংশ গ্রহনমুলক নির্বাচন মানুষ, মানবতার কল্যানে সব সময় গণতন্ত্রের পথকে সুরক্ষা করে। সুস্থ ও কার্যকরভাবে পথচলার ও গনমানুষের কল্যানে দেশে নির্বাচনের কোন বিকল্প নেই।
বিগত ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে বিচারপতি শাহাবুদ্দীনের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হয়।দীর্ঘ ৯ বছর নিরলস সংগ্রাম করার পর মানুষ একটি জনবান্ধব ও গণমানুষ দ্বারা নির্বাচিত সরকার পেয়েছিল। পেয়েছিল নির্বাচনের সুফল এবং নির্বাচিত সরকারের সুফল। সুষ্ঠ নির্বাচনের মাধ্যমে জন প্রতিনিধি নির্বাচনে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত হয়, বিরোধী দলের কথা বলার অধিকার,মানুষের কর্মসংস্থান,বিদেশি বিনিয়োগ,দুর্নীতি হ্রাস ও মুলত সামষ্টিক ব্যবস্থাপনা সব সময় নির্বাচনে সুসংহত হয়।
বিগত ফ্যাসিষ্ট সরকার সুপ্রিম কোর্টের রায়কে অপব্যাখ্যা করে তত্ত্বাবধায়কসরকার ব্যবস্থা বাতিল করে দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে ২০১৪ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১৫৪ জনকে নির্বাচিত করে এরপর ১৮,২৪ রাতের ভোট ও নানা কৌশলে ক্ষমতা জোর করে দখল করে ১৯৪১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় দেশ ও দেশের মানুষকে জিম্মি করে আওয়ামিলীগ অপশাসন, দূর্নীতি অব্যাহত রাখে।
কোটা বিরোধী হলেও পরবর্তীতে ২৪ এর গন আন্দোলনে সবাই দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়। এরপর পৃথিবীর একজন স্বনামধন্য উচ্চ শিক্ষিত অর্থনীতিবিদ কে অন্তর্বতীকালীন সরকারের প্রধান করে তার উপদেষ্টা পরিষদকে জনগন দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দেয়।
মানুষের একটি নূন্যতম অধিকার ছিল ভোট দেওয়া, সেই নূন্যতম অধিকারটাও আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের মানুষের কাছ থেকে বার বার কেড়ে নিয়েছে। উন্নয়নের মিথ্যা কথা বলে দেশকে, দেশের মানুষকে এক অসীম ঋণের বোঝা চাপিয়ে দেয়।দেশের রিজার্ভ প্রায় শুন্য করে দেয়।বর্তমানে আমাদের রিজার্ভ ৩০ বিলিয়নের উপরে।
আমরা মুলত ১৯৪৭ এ প্রথমত বিট্রিশ হতে স্বাধীন হয়েছি।মায়ের ভাষা রক্ষার্থে ১৯৫২ তে আন্দোলন করেছি।আমরা জয়ী হয়েছি।১৯৭১ পাকিস্তান হতে এদেশ স্বাধীন হয়েছে মুক্তি যুদ্ধ,স্বাধীনতা আমাদের গর্ব। ৯০এর আন্দোলনে আমরা বিজয়ী হয়েছি।২০২৪ ফ্যাসিবাদ নির্মূলে,সত্যিকারের গনতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের আশায় স্বৈরাচার মুক্ত হয়ে মানুষের যৌক্তিক দাবী আদায়ের লক্ষ্যে আমরা এখন ও আন্দোলন করছি।২৪ ও আমাদের অহংকার। আরেকটি বিরাট অর্জন,বিগত স্বাধীনতার ৫৪ বছরে আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন গন তান্ত্রিক চাহিদা আদায়ে আমরা সবাই আমাদের সচেতনাবোধকে শতভাগ জাগিয়েছি।এক
দলীয় শাসন থেকে আমরা বহুদলীয় গনতন্ত্রে প্রবেশ করেছি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশ,দেশের মানুষকে ভালোবেসে প্রতিটি মানুষ,দলকে মানুষের কল্যানে রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছেন।পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে দেশের সবার গণতান্ত্রিক মূল্য বোধ কে তিনি লিপিবদ্ধ করেন।তিনি এদেশের ইসলামি মূল্যবোধকে মূল্যায়ন করেন। তাঁর সততা,মানবিক মুল্যবোধ,গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও মানুষের বাকস্বাধীনতা থাকার কারণে দেশ সামাজিক অর্থনৈতিক ভাবে উন্নত হতে থাকে তা ভারতীয় আধিপত্য বাদীদের কোন ভাবে সহ্য হয়নি। জিয়াউর রহমানকে হত্যার পর দেশ এক কঠিন সংকটে পড়ে এবং গণতন্ত্র হীন হয়ে পড়ে। এরপর এ দেশের মানুষ কাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্রের জন্য তারা সবসময়ই আন্দোলন করেছে, ত্যাগ স্বীকার করেছে।২০২৪ সালে দেশের নব্য ফেরাউন হতে গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রায় ১৫০০- ২০০০ জন শহীদ হয়েছেন,হাজার হাজার মানুষ পঙ্গুত্ব বরন করেছেন।
প্রকৃত সুষ্ঠ নির্বাচন,নির্বাচিত সরকার না থাকলে নানা সংস্কার ও দেশের মানুষের কল্যানে কোন আইন পাস ও তার বাস্তবায়ন না করতে পারলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারন করবে ও অকল্যান বয়ে আনবে তাই দেশে আগামী নির্বাচনের কোন বিকল্প নেই হতে ও পারে না।
সংস্কার নিয়ে নানা কথা, নতুন সংবিধান, উচ্চ কক্ষ,নিম্ন কক্ষ,পিআর,অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত সহ নানা দাবি বাস্তবায়নে নির্বাচনের কোন বিকল্প নেই।
এমনকি দেশকে গনতান্ত্রিক পথে ফিরিয়ে আনতে রুগ্ন অর্থনীতি সচল করতে আর বিদেশী আস্থা অর্জন ও বিনিয়োগ বাড়াতে,নানা অস্থিরতা নিরসনে মানুষের ন্যায্য পাওনা, তাদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে,সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বর্তমান অন্তর্বতীকালীন সরকার ঘোষিত ফেব্রুয়ারী ২০২৬ নির্বাচনের কোন বিকল্প নেই তবে সেই নির্বাচনকে কিভাবে পেশীশক্তি সহ নানা উপকরণ হতে মুক্ত রাখা যায় সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থেকে আগামী নির্বাচন কে শতভাগ অবাধ করতে না পারলে এবং ফ্যাসিবাদ বিরোধী ঐক্য জোরদার করতে না পারলে, দূর্নীতি, ফ্যাসিবাদ নির্মূলে আগামীতে সকলে ঐক্যবাদ না থাকলে সকলের জন্য এমনকি দেশের জন্য অকল্যান বয়ে আনবে।কাজেই এই নির্বাচনকে সুষ্ঠ করার জন্য যা যা করনীয় তা করে জন গনের ভোটে নির্বাচিত সরকারকে দেশ পরিচালনার সুযোগ দিয়ে দেশের সব মানুষের স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ দেয়া উচিত আর এটি এই মুহুর্তে জনগনের চাওয়া,একমাত্র প্রত্যাশা।
লেখক – মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম।
কবি,প্রাবন্ধিক ও মানবাধিকারকর্মী।







Discussion about this post