শীতের কম্বল
কম্বলের শীত
এবং
ঈদ মোবারক
*
বাংলাদেশের মানুষ ভাগ্যবান সম্ভবত তাঁরা পুরো ত্রিশ সিয়াম পালনের সুযোগ পাচ্ছেন । আবার দেখলাম এখানে সেখানে ঈদ উদযাপিত হচ্ছে।
আমাদের ইংল্যান্ডে ‘সৌদি আরবের চাঁদ’ দেখে ঈদ করে, কী বিস্ময়কর ব্যাপার!
ইংল্যান্ডেও চাঁদের জন্য আকাশে ছাদ ছিল। সাধ করে ঈদের অগ্রিম স্বাদ নিতে ‘চাঁদ’কে সৌদি আরব থেকে ভাড়া করতে হবে কেন জানি না।
দেশে দেশে সময়ের পার্থক্য দেখলে একই সময়ে সব কিছু হয় না, ঈদ হয় না। একটি দেশে যখন রাত অন্য দেশে তখন দিন, তা হলে?
মনে হয় একটি দল ‘ঊনত্রিশ’ করার জন্য উঠে পড়ে লেগে থাকে।
লন্ডনের তার্কিশ কমিউনিটি এক বছর আগে থেকেই বলতে পারে চাঁদ কখন উঠবে? কী মজা তাই না!
ঈদের দিনে বেশি কথা না বলতে পারা ভাল। কিন্তু? কিন্তু হল, এখানে আমাদের ইচ্ছা শক্তি প্রায় ঘুমন্ত। কিছু হলেই আমরা “গেল গেল” রব তুলি!
সারা মাস ‘সেহরি’ খেয়ে রোজা রেখেছি। আপনি আরবি অভিধান দেখুন সেখানে ‘সেহরি’ ভোর রাতের খাবার আছে কিনা? নেই। ‘সেহরি’ মানে যাদু টোনা। শব্দটি বাঙালিরা চেনেন। সেটা হওয়ার কথা ছিল ‘সাহরী’ অথবা সোহর। শত শত পোষ্টার/ ফেজবুকে ‘সেহরি’ বলে প্রমাণ করেছেন আপনি ভোর রাতের খাবার খান নি, খেয়েছেন যাদু। এ
এশিয়ান ভার্সন
পবিত্র “ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা”, অথবা
“ঈদ মোবারক” হতে পারে। কিন্তু আপনি যখন প্রকৃত নীতি অনুসরণ করতে চাইবেন , তখন আপনি লিখবেন
“তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম”
تَقَبَّلَ اللّهُ مِناَّ وَ مِنْكُمْ
কেউ চাইলে تَقَبَّلَ اللّهُ مِنىَّ وَ مِنْكُمْ
বলতে পারেন। তখন এক বচনে নিজের পক্ষে কারো জন্য মঙ্গল কামনা করছেন।
نا আমরা
ى আমি
কিন্তু এ রকম হবে না-
تَقَبَّلَ اللّهُ مِنَّ وَ مِنْكُمْ
এখানে নুনের সাথে ‘আলিফ’ বা ‘ইয়া’ না থাকাতে কোন অর্থ প্রকাশ করছে না। আরবির
এই ভুল বানানের দোয়াটি পেয়েছি এক আলেম থেকে।
আজ একটি পোস্ট দেখলাম, বারবার বলা হচ্ছে:
“তাকাব্বাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম”। ভুল। সামান্য ভুল, বিরাট ক্ষতি।
রাগ করবেন না।
আরবি না জানার ফসল এটি।
ভাষা শেখার মজা আলাদা। আমাদের আশেপাশের ভাষা সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া দরকার। আপনি ধার্মিক সেজে “পর ধর্মে ভয়াবহ” ভাবছেন, কিন্তু সে সব ধর্মের হাজার হাজার শব্দ ও লোকাচার আপনাকে অক্টোপাসের মত জড়িয়ে আছে।
শীতে কম্বল ছাড়ে না, কম্বলে শীত ছাড়ে না।
নজরুল ইসলাম হাবিবী
লন্ডন।
04. 06. ’19





Discussion about this post