নিউজ ডেস্ক: কলম টিভি
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী রিফাত সুলতানা ডাটা এন্ট্রি গ্লোবাল অফিসে, আগ্রাবাদ শাখায় কিউসি পদে চাকরি করতেন। রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের ৪ নাম্বার ওয়ার্ড এর স্থানীয় বাসিন্দা (মৃত) রিফাত সুলতানা চকবাজার এ ব্লকে লায়লা হাউস নামের একটি চারতলা ভবনের নিচ তলায় সাব্লেট বাসায় ভাড়া থাকতেন। সে পরিবারের চার বোনের মধ্যে সবার বড়। একিই বাসায় পাশের রুমে একটা কক্সবাজারের বাসীন্দা দম্পতি থাকতেন তিনি একটা প্রাইভেট কোম্পানির সুপারভাইজার ছিলেন।
মৃত ভিক্টিম সকাল ১০ টায় অফিসের উদ্দ্যেশ্যে রওনা দিতেন আসতেন সন্ধা ৫-৬ মধ্যে।মে মাসের ১৪ তারিখ সকাল ১০টার দিকে, পরিবারের সাথে কথা বলে মৃত রিফাত সুলতানা বাড়ির উদ্দ্যেশ্যে রাঙ্গুনিয়া যাত্রা করে। ১৪ তারিখ না আসলে মৃত রিফাত সুলতানার ছোট বোন রিয়াদ সুলতানা বার বার কল দিতে থাকে একসময় অপরপ্রান্তে কেউ একজন রিসিভ করে এবং মেয়ের কণ্ঠে রিফাত সেজে কথা বলেন। এতে মৃতের বোন বুঝতে পারেন এটি রিফাত সুলতানার বোন নন। পরেরদিন ১৫ তারিখ কল দিতে থাকলে মৃত রিফাত সুলতানার মোবাইল থেকে জিসান নামের এক পাঠাওয়ের রাইডার কল রিসিভ করে ছোট বোন রিয়াদ সুলতানাকে জানান তার বোন মারা গেছে এবং কেউ একজন তাকে মৃত অবস্থায় চকবাজার ফেলে গেছে। এদিকে করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার ভয়ে কেউ মৃতের পাশে আসেনি। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় নগরীর হ্যালথ কেয়ার এন্ড ক্লিনিকে ভিক্টিমকে নিয়ে যাওয়া হলে হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক ভালোভাবে না দেখেই তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বলা হয় করোনায় আক্তান্ত হয়ে বা স্ট্রোক করে রোগী মারা যেতে পারে।
অন্যদিকে মৃতের পরিবারের দাবী প্রায় ৫/৬ বছর ধরে ২৭ বছরের এক বখাটে মৃত রিফাত সুলতানা কে উত্যক্ত করে আসছিল এবং সে একটা রাজনৈতিক পরিচয় বহন করে তাঁদের পরিবারের উপর দিনে পর দিন মানসিক অত্যাচার করে আসছে। তাদের দাবি তার বোনকে দিনের পর দিন ওই বখাটে খারাপ প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। তার অত্যাচার থেকে বাঁচার জন্য তারা শহরমুখী হতে বাধ্য হয় কিন্তু সেখানেও অন্যান্য বখাটেদের সহযোগিতায় রিফাত সুলতানার গতিবিধি নজরদারিতে রাখত ঐ বখাটে এবং বিভিন্ন সময় ফোন করে তার উপর নজরদারির কথা বলে সহযোগী বখাটে দিয়ে তাকে উত্যক্ত করত। পরিবারের দাবি ঐ ২৭ বছরের বখাটে ইমাম উদ্দীন অপু পরিকল্পিত ভাবে তার বোনকে হত্যা করে। রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে চলায় তার বিরুদ্ধে এতোদিন মুখ খুলতে সাহস পায় নি তার পরিবারের কেউ। এটা নিয়ে বেতাগী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান (মৃত্যের আত্মীয়) বিভিন্নভাবে মিমাংসা করার চেষ্টা চালিয়েছে তাতেও বখাটে ক্ষান্ত হয়নি।
এদিকে চকবাজার ওয়ার্ড কমিশনারের সহযোগিতায় চকবাজার থানায় মৃতের বাবা বাদী হয়ে হত্যা মামলা করে। মামলা নং ০৩। মামলা করা হলে চকবাজার থানার ওসির নির্দেশে দ্রুত ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়। ময়না তদন্দের রিপোর্ট পেলে বিস্তারিত জানা যাবে। তবে মৃত্যের গোসলের সময় মরদেহের মাথা থেঁতলানো এবং পিঠে ছুরির আঘাত পাওয়া গেছে বলে মৃতের গোসল দোওয়া স্বেচ্ছাসেবীরা নিশ্চিত করে। স্বেচ্ছাসেবীদের মধ্যে মৃত রিফাত সুলতানার আপন বোনও ছিল।
সন্ত্রাসী ইমাম উদ্দীন অপু অনেকবার মৃত রিফাত সুলতানা এবং ছোট বোনকে রাস্তায় জিম্মি করে যৌন হয়রানি করত। এসব কথা কাউকে বললে জানে মেরে ফেলার হুমকি দিত। বিদেশি পিস্তল হাতে তাদের হত্যার হুমকি দিয়েছে বলে জানান।
মৃতের ছোট বোন রিয়াদ সুলতানা জানান পুলিশের ভূমিকা প্রসংশনীয়। আন্তরিকতার সাথে তদন্ত করছে। আমরা চাই অপরাধীকে গ্রেফতার করে শাস্তি দেওয়া হোক।
এদিকে মৃতের পরিবার এবং এলাকাবাসী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে হত্যার বিচার চেয়ে এলাকায় বেনার নিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে।
তখন রিফাতের বোন প্রধানমন্ত্রীর উদ্দ্যেশ্যে বলেন, আমার বোনের হত্যাকারীদের বিচার চাই,আপনি বলেছিলেন অপরাধী যেই হোক তার বিচার করবেন সে যে দলেরই হোক না কেনো। আমরা আপনার বিচারের অপেক্ষায় চেয়ে আছি। আপনি আমাদের পাশে দাড়ান।
ফেসবুক হতে সংগ্রহীত