বিধাতা মানুষ দাও
God give us man
আমরা যারা কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক, গায়ক, ভাবুক, দার্শনিক, শিল্পী, রাজনৈতিক, আলেম, ওয়ায়েজ,পীর, হুজুর তথা সচেতন জনতা বলে দাবি করি সেই আমরা কি বার্মার গণহত্যার বিষয়ে কিছু বলতে করতে লিখতে পারি না?
আমরা যারা পেইজবুক টুইটার ব্যবহার করি এই মিডিয়ার মাধ্যমে আমরা বিশ্বের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে দিতে পারি আমাদের কলমের মাধ্যমে বার্মার গণহত্যার কথা । আমরা কি বার্মার গণহত্যার একটি ছবি শেয়ার করার সময়ও পাই না?
আমি এক সময় একটি কচ্ছপ মার্কা কেক পোস্ট করেছিলাম । এটি লাইক এবং শেয়ার এর শেষ ছিল না । আর যখন প্যালেস্টাইন ও বার্মার গণহত্যার ছবি পোস্ট করি তা শেয়ার তো দূরের কথা লাইকও মিলে না।
পেইজবুকে কত কথাই তো লিখি। বউয়ের শাড়ির দাম, তার চুল- চোখ থেকে শুরু করে শারীরিক শৈল্পিক বর্ণনা আরও কত কি! এটা মন্দ নয়। এ সব পড়তে কার না ভাল লাগে!
আমার এক বন্ধু প্রতি ঘন্টায় জানিয়ে দেয় সে কোথায় আছে, কি খাচ্ছে, কোথায় যাচ্ছে, মেয়ে-বন্ধুটি অভিমান করেছে, ফিলিং গুড, ব্যাড ইত্যাদি ইত্যাদি ।
সে দিন এক বন্ধু পোস্ট করেছে একটি আস্ত খাসির ছবি। খাসিটি তাজা মোটাও ছিল না । লিখেছে ” এই মাত্র বাজার থেকে কিনলাম” ।
এক পেইজবুকফ্রেন্ড জামাইর গলা ধরে ছবি পোস্ট করেছেন। ভাবখানা এমন যে তিনি স্বামীকে ভালবাসেন। আসলে তা নয়। তো কী?
আরেক বন্ধু ভার্সিটির শিক্ষক । দেখে দেখে 2 নম্বরি ছবি পোস্ট করে। তখন তার সামনে বার্মা জ্বলছে!
হে কবি! তুমি এখন কোথায়, যে তুমি প্রতি ঘন্টায় ঘন্টায় কবিতা লিখ ?
হে নেতা, ঐ তো সে দিন ও আপনি মানুষের কষ্টে, মানবতা প্রতিষ্ঠার জন্য কেঁদে ভোট চেয়েছিলেন?
আমরা এত নিষ্ঠুর, এত নির্মম হলাম কেন? কার জন্য? কখন থেকে? কিসের অভাবে?
আমার ভয় এখন শুধু মুসলমানের জন্য নয়, ভয় আপনার জন্যও। কারণ, বিশ্বব্যাপী শুরু হবার পথে, কিছু কিছু দেশে শুরু হয়েছে বিদেশী খেদাও আন্দোলন। ওখানে থেকে শুধু মুসলমান খেদানো হচ্ছে না হবে না।
বার্মার গণহত্যার বিষয়টি আন্তর্জাতিক ভাবে সত্য এবং ঘৃণিত। তা হলে আমাদের কষ্ট কোথায়? এখানে তো খালেদা হাসিনার ভয়ও নেই।
আমি একটা সময়ের কথা বলছি। সময়ের সাথে সাথে আমরা যদি আমাদের চিন্তা ভাবনাকে একটু সময়োপযোগী করি তা নিজের জন্য, জাতির জন্য, এবং বিশ্বের জন্য মঙ্গল এবং আপনার পোস্ট হয়ে উঠবে সর্বজন সমাদৃত। আমি যখন জীবন ও জগতের চাহিদার ব্যাপারে বিমুখ থাকি তখন আমার পেইজবুকের বন্ধু আমাকে জেনে যাচ্ছে যে, আমি কোন ধরনের মানুষ, মানুষ হিসেবে আমার দাম কত।
হিন্দু, বৌদ্ধ এবং খৃষ্টান ভায়েরাও সোচ্চার হতে পারেন । আপনারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান। মানুষ আপনাদেরকে সম্মান করতে শিখবে।
দেশে বিদেশে আমার অনেক হিন্দু, বৌদ্ধ এবং খৃষ্টান বন্ধু আছেন । আপনাদের প্রতি অনুরোধ করার যোগ্যতা এবং অধিকার আমার আছে । আমি ছোটবেলা থেকে আপনাদের মন্দির প্যাগোডায় যাতায়াত করেছি, আপনাদের জন্য গান, কবিতা লিখেছি বক্তব্য রেখেছি, আপনাদের পুজো মণ্ডপে নাটক করেছি, আর্থিক সাহায্য করেছি, কারো কারো জন্য হিথ্রো এয়ারপোর্ট এ ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করেছি, কলেজে ভর্তির ব্যবস্থা করেছি, বাসায় এনে সমাদর করার চেষ্টা করেছি ।
জানেন, আমার জীবনের সেরা একটি সঙ্গীত “বুদ্ধ সঙ্গীত “। আমার লেখা “এসো হে বুদ্ধ ” কবিতাটি আমি কম করে হলেও 100 বার আবৃত্তি করেছি দেশের বৌদ্ধ প্যাগোডায়। কবিতাটি আমার লেখা
” বাংলাদেশে স্বর্গ হাসে” নামক কাব্যগ্রন্থে আছে। (গান ও কবিতাগুলো আমি পরবর্তীতে পোস্ট করব)।
জয় বড়ুয়া নামে আমার এক বৌদ্ধ বন্ধু লন্ডনে ছিল । এখন প্যারিসে থাকে। লন্ডনে আমার ব্যাক্তিগত লাইব্রেরীতে বুদ্ধধর্ম সংক্রান্ত বই এর পরিমাণ দেখে অবাক হয়েছিল। বলেছিল, এত দুর্লভ বই অনেক বৌদ্ধ পরিবারেও নেই।
আমি জানি, লেখাটিতে এ সব কথা বাহুল্য । কিন্তু কি করি বলুন, আপনার নিরবতা আমাকে যে প্রশ্ন বিদ্ধ করে? হত্যা কে হত্যা বলতে এত কষ্ট কেন আপনার? “পানাতিপাতা বে রমনী, শিক্ষাপদম সমাদিয়ামী”-প্রাণী হত্যা মহা পাপ এ মর্মে আমি শিক্ষা গ্রহণ করলাম”।
“অহিংসা পরম ধর্ম ” । “সব্বে সত্ত্বা সুখিতা হোন্তু”-সকল প্রাণী সুখি হোক। “মুসাবাদা বে রমনী”………, “আদিন্না দানা বে রমনী”….. পঞ্চ শীলের এ সব পবিত্র বাক্যের পিছনে ছোটবেলা থেকে ঘুরেছি। পরিবারে সমাজে অবহেলিত হয়েছি। তা হলে আমি কী ভুল করেছিলাম?
তো, আমাকে কি সব শ্রদ্ধা প্রত্যাহার করে নিতে হবে? আপনাদের জন্য রচিত ও প্রকাশিত লেখাগুলো লুকাব কোথায়?
এই সেদিনও লন্ডনের এক সেমিনারে আমার বক্তব্যের পর এক বন্ধু পরামর্শ দিয়েছেন, “বাংলাদেশে বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রীতি” ধরনের বিষয়কে আমি যেন আমার পিএইচডির গবেষণার জন্য পছন্দ করি ।
চমৎকার একটা বিষয়! কিন্তু এত মজার অথচ
অর্থবহ, সত্য, তথ্য ও তত্ত্ব আমি কোথায় পাব?
কবি জে জে হল্যান্ড মৃত্যুর সময় কেঁদে কেঁদে বলেছিলেন , ” God give us man”- বিধাতা মানুষ দাও।





Discussion about this post