জুমুয়া থেকে জুমুয়া
আলোচনার বিষয়- “রামাদানের কিছু সুন্নাত এবং প্রাসঙ্গিক কিছু কথা”।
(জুমুয়ার ইংরেজি বক্তব্যের কিছুটা বাংলা অনুবাদ)
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন। আমাদেরকে সুন্দর সহজ পবিত্র জীবন ব্যবস্থা দিয়েছেন। দুরুদ ও সালাম বিশ্ব নবীর জন্য, যাঁর আগমনে অন্ধজাহান পেয়েছে আলোর দিশা। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যাঁকে বলেছেন “সিরাজুম মুনির”। সালাম সাহাবাগণের উপর এবং নবী পরিবারের উপর।
প্রিয় উপস্থিতি!
আজকের সব কথাই রামাদান, সিয়াম ও কিয়ামকে নিয়ে। বিষয়গুলি কঠিন নয়। অনেকের কাছে নতুনও নয়।
একটু স্মরণ করিয়ে দেবার জন্য আজকের এই আলোচনা।
এখন রামাদানের মাস। কুরআনের মাস। কোরআন শ্রেষ্ঠ আসমানী গ্রন্থ। কোরআন নাজিল হয়েছে শ্রেষ্ঠ রাসূলের উপর। শ্রেষ্ঠ নবী কোরআন গ্রহণ করেছেন শ্রেষ্ঠ মাসে তথা রামাদানে। এই কোরআন ঘোষণা করেছে, লায়লাতুল কদর শ্রেষ্ঠ রাত। শ্রেষ্ঠ রাসুলের উছিলায়, শ্রেষ্ঠ কোরআনের উসিলায় আমরা মানুষেরা হলাম শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি।
কোরআন শুধু মুসলমানদের জন্য নয়, কোরআন এসেছে সারা মানবজাতির জন্য- হুদাল্লিন নাস।
এই মাস পাবার জন্য আমরা অপেক্ষা করেছি। দোয়া করেছি। আমরা বলতাম, হে আল্লাহ আমাদিগকে রামাদানে পৌঁছাও। এখন আমরা রামাদানে পৌঁছেছি। এখন আমাদের দেখার বিষয় এ রামাদানে আমরা কি করছি।
সম্মানিত উপস্থিতি!
রামাদান মাসের নতুন চাঁদ দেখা সুন্নাত।
কিছুদিন আগেও মানুষের মধ্যে আগ্রহ-উদ্দীপনা ছিল চাঁদ দেখার জন্য। এখন সে উদ্দীপনা নেই। আমরা পরিবর্তন হয়ে গেছি। এইভাবে সমাজ থেকে একটি সুন্নাত উঠে গেল।
এ রকম আরেকটি সুন্নাত মিসওয়াক করা। তাও বিলুপ্তির পথে। আল্লাহর নবী জীবনের শেষ মুহূর্তেও মিসওয়াক করেছেন। এর উপর আমি একদিন আলোচনা করেছিলাম, এবং সেদিন আমি মিসওয়াক উপহার দিয়েছিলাম আমার মুসল্লীদিগকে। এই বরকতের মাসে আপনারা মিসওয়াকের প্রচলন করুন। নবীর একটি সুন্নাতকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করুন।
সম্মানিত মুসল্লিয়ানে কেরাম!
সিয়াম পালনের সাথে সাথে তারাবিহ আদায় করা সুন্নাত। কোন কারণে সিয়াম পালন করতে না পারলেও সালাত আদায় করতে হয়। অনেকে আছেন সিয়াম পালন করতে না পারলে সালাত আদায় করে না, সেটা ঠিক নয়।
আমাদের সমাজে আট রাকাত বিশ রাকাত নিয়ে ঝগড়া হয়, মারামারি হয়। এ রামাদানে আমরা যেন তা না করি। যেভাবে হোক আমরা যেন মসজিদে যাই। আমরা যেন সালাত আদায় করি। কত রাকাত বড় কথা নয়। আমি আল্লাহকে কতটুকু ভয় করতে পেরেছি সেটাই বড় কথা।
তারাবির রাকাত নিয়ে ঝগড়া করতে করতে মুসলিম সমাজ বিভক্ত এবং অনেক মানুষ সে কারণে আর সালাত আদায় করতে উৎসাহিত হচ্ছেন না। এ দায়িত্ব তাদের নিতে হবে যারা সমাজকে বিভ্রান্ত করেছেন। বিভক্ত করেছেন। শুনেছি, দোল্লিন জোয়াল্লিন নিয়ে, সাদা টুপি কালো টুপি নিয়ে, আমিন বড় ছোট করে পড়াকে নিয়ে, বুকে উপর নাভির উপর হাত বাঁধাকে নিয়ে, ‘রাফয়ে ইয়াদাইন’ নিয়ে, ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা পড়া কি নিয়ে মারামারি হয়। অথচ ইসলাম এসেছে, কোরআন এসেছে আমাদের মধ্যে বন্ধুত্বের এবং ভাতৃত্বের বন্ধন সৃষ্টি করার জন্য।
ছোট ছোট বিষয় নিয়ে ঝগড়া নয়, মানুষকে মসজিদমুখি করুন। আমাদের প্রজন্মকে আল্লাহ, নবী ও কোরআন প্রেমিক হিসেবে গড়ে তুলুন।
নবীর সুন্নাত হল, যথাসময়ে ইফতারি করা। ইফতার করতে বিলম্ব না করা। অনেকেই ইফতার করতে বিলম্ব করে, যা সুন্নাত সম্মত নয়। অনেক মা-বোন আছেন, এত বেশি ইফতারি বানায় যে, নিজে পানি পান করার সময়ও পান না। আমার প্রথম রোজায় আমার স্ত্রীকে দেখেছি, ডিনার টেবিল ভর্তি করে তুলেছে নানারকম খাবার দিয়ে কিন্তু নিজে তখনও কিচেনে নানা কাজে ব্যস্ত। শুধু একটি খেজুর আর পানিই তার খাবার ছিল অনেকক্ষণ।
শেষ রাতের খাবার শেষ সময়ে করা সুন্নাতে রাসুল। অনেকেই তারাবির সালাত পড়ে বাসায় এসে কিছু খেয়ে ঘুমাতে যান, এইভাবে সকালের সালাত হারান এবং সুন্নাত মতে সাহুর খাওয়া থেকেও বঞ্চিত হন।
কোন কিছু না থাকলে, সময় না পেলে অন্তত এক ঢোক পানি হলেও পান করে আল্লাহর নবী সাহরীর হক আদায় করতে আদেশ করেছেন।
ইফতারের আগে বসে দোয়া পড়লে সে দোয়া কবুল হয়।
ইফতারির সময়ের দোয়া- দোয়ার শ্রেষ্ঠ সময়ের মধ্যে একটি। উক্ত দোয়াতে আপনি আপনার পিতা মাতা, দাদা-দাদী, নানা-নানি, আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী,দোস্ত দুশমন সহ বিশ্ববাসীকে সামিল করতে পারেন।
সময় থাকলে, সুযোগ থাকলে অপরকে ইফতার করানো আল্লাহর নবীর সুন্নাত। তবে লোক দেখাবার জন্য যেন না হয়। ইফতার পার্টি করে, ফেসবুকে বা পেপার-পত্রিকায় দেওয়ার জন্য যেন না হয়। লোক দেখানোর জন্য ইফতার পার্টি করলে, দান-খয়রাত করলে সেটা জায়েজ হবে না। তা ইসলাম নিষিদ্ধ করেছে। সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার জন্য, আরেকজনকে উৎসাহিত করার নিয়তে প্রকাশ্যে এসব করা যায়। তবে যেন সেখানে রিয়া না থাকে। আল্লাহ রিয়াকে অপছন্দ করেন।
আমাদের সিয়াম সাহরির দোয়ারগুলি দেখেশুনে পাঠ করা দরকার। কিছু বই সমাজে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। আমি এর বাইরে আর কোন ব্যাখ্যা দিতে যাব না। আমি আলেম নই। শুনেছি কোন একটি দেশের কিছু মসজিদে সালাতের ভিতরের বাহিরের দোয়া-দরুদ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়ে গেছে।
আমাদের সমাজে প্রচলিত কতিপয় শব্দ আরবি নয়। যেমন রোজা, নামাজ ও সেহেরী। শব্দগুলি যেহেতু আমরা আরবি মনে করে লিখে থাকি, চিন্তা করি, সে হিসেবে শব্দগুলি আরবির মতোই আমাদের সাহিত্যে, আমাদের বক্তৃতায় থাকা উচিত। রোজাকে সিয়াম, রমজানকে রামাদান বলব।
কিছু ভাই অহংকার করে বানানটি স্বীকার করে নিচ্ছেন না। অনেকে কষ্ট করে রোজাকে ‘রামাদান’ স্বীকার করলেও র-তে ‘আকার’ দিতে রাজি নন। তারা বলেন রমাদান। বিষয়টি হাসির উদ্রেক করে। একজন ছোট মক্তবের ছেলেও জানে রা জবর রা, মিম জবর মা, দো জবর দা=রামাদা। শেষে নুন থাকার কারনে আমরা রামাদান বলি।
বিশেষ করে সেহরী শব্দটি অত্যন্ত মারাত্মক। ‘সেহরি’ মানি জাদু টোনা। আমাদের বলা উচিত সাহুর বা সাহরী। সামান্য যের বা যবর, তথা কাছরা বা ফাতাহ’র পার্থক্য। কিন্তু অর্থগত বিশাল ব্যবধানের সৃষ্টি করে; যা অনাকাঙ্ক্ষিত। এই ছোট বিষয় নিয়ে আমাদের সমাজে বিতর্ক না থাকা উচিত। এখানে কারো ধর্ম, জাত এবং মাযহাব যাবার সম্ভাবনা নেই। আমরা সহজ সত্য একটি কথাকে নিয়ে বাড়াবাড়ি করবো না। এর জন্য আপনি কেয়ামতে দায়ী হবেন।
মিথ্যা বলা এমনিতেই পাপ। বিশেষ করে রামাদান মাসে আল্লাহর নবী বলেছেন মিথ্যা না বলার জন্য। এতে সিয়ামের ক্ষতি হয়। আল্লাহর নবী বলেছেন, সিয়াম পালন করে যারা মিথ্যা বলে, অন্যায় করে, পাপের কাজ করে, তাদের সিয়াম হবে না। তাদের সিয়াম হবে উপবাসের নামান্তর।
আল্লাহর নবী বলেছেন, যে ব্যক্তি পাপ, মিথ্যা বা অন্যায় কথা, অন্যায় কর্ম, ক্রোধ, মূর্খতাসুলভ কাজ করে, তার পানাহার ত্যাগ করাতে আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই।
অন্য এক হাদীসে আল্লাহর নবী বলেছেন, পানাহার বর্জনের নাম সিয়াম নয়। সিয়াম হল অনর্থক ও অশ্লীল কথা ও কাজ এড়িয়ে চলা। ঝগড়াঝাঁটি বাদ- বিসংবাদ না করা। কেউ যদি ঝগড়া করতে আসে তাকে বলা, “আমি সিয়াম পালন করছি”। (আমার সাথে ঝগড়া করবেন না। আমি ঝগড়াতে জড়াতে চাই না)।
বেশি বেশি করে কোরআনের আলোচনা করা। এ আলোচনা হতে পারে পরিবারের সাথে, মসজিদে বসে, অথবা ভালো কোন পরিবেশে। অর্থসহ, তাজবীদসহ কোরআন শিক্ষা গ্রহণ করা এবং অপরকে শেখানো আমাদের উচিত। আমাদের মধ্যে অনেকেই আমার মত সূরা পড়তে ভুল করেন। এই কুরআনের মাসে কুরআন শেখার জন্য চেষ্টা করা উচিত। আল্লাহর নবী বলেছেন, যারা চেষ্টা করে তাদের জন্য দ্বিগুণ সাওয়াব। হাদিসে আছে, যে কোরআন শিক্ষা গ্রহণ করে এবং অপরকে শিখায় তোমাদের মধ্যে সে উত্তম ব্যক্তি।
মুসলমানের ঘরে এখন একটি ভালো আবহ বিরাজ করছে। এই সুযোগে ছেলেমেয়েদেরকে কোরআনমুখি, সালাতমুখি করা সম্ভব, যা আমি করছি, বিষয়টি আমার আছে পরীক্ষিত। রামাদানের এই মাসের ছেলেমেয়েরা কথা শুনে। এখন সময় তাদেরকে ধার্মিক রূপে গড়ে তোলা। ধার্মিক হাওয়ার মধ্যেই সমস্যা নেই। সমস্যা অধার্মিকতায়। পৃথিবীতে ধর্মের নামে যা হচ্ছে তাদের মধ্যে মূলত অনেকেই ধার্মিক নয়। তারা ধর্মের নামে ব্যবসা অথবা পলিটিকস করছে। এই এরাই মানুষকে ধর্মের প্রতি অশ্রদ্ধ করে তুলছে। হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কোন ধর্মই মানুষের উপর জুলুম, সমাজের উপর জুলুম এবং অত্যাচার শিক্ষা দেয় না।
ইফতারের আগে দোয়ার জন্য যখন আমরা বসি তখন ছোট ছোট হাদিস ও কোরআন থেকে দুটি কথা বলা সম্ভব।
আত্মীয়-স্বজন পাড়া-প্রতিবেশী সাথে সম্পর্ক বৃদ্ধি করুন।
আপনার ছেলেমেয়েকে বলুন দূরের অজানার কোন আত্মীয়কে ফোন করার জন্য, কথা বলার জন্য, এতে করে সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে। একে অপরকে মোহাব্বত করতে শিখবে। দুটি পরিবারের উপর আল্লাহর রহমত নাজিল হবে। সামাজিক অবকাঠামো রক্ষার জন্য বিষয়টি গুরুত্ব বহন করে। আজ আমাদের সমাজ ভেঙ্গে গেছে। কারো সাথে কারো যোগাযোগ নেই। কেউ কাউকে মূল্য দিয়ে কথা বলে না। আত্মীয়তার সম্পর্ক নেই। প্রতিবেশীর খবর আজকাল কেউ রাখে না। আমরা আমাদের প্রতিবেশীর খবর নেব। যে ধর্মের হোক না কেন, যে দলেরই হোক না কেন, আমরা তাকে ভালোবাসবো, সম্মান দেবো, সহযোগিতা করবো, তার কল্যাণে এগিয়ে আসবো।
এই রামাদান মাসে আল্লাহর নবী বেশি বেশি করে দান করতেন। আমাদের উচিত বেশি বেশি করে দান-খয়রাতের ব্যবস্থা করা। গরীব, অসহায় ও মিসকিনদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়া এখন সময়ের দাবি।
সম্মানিত ব্যবসায়ীদের প্রতি অনুরোধ,
আপনারা জিনিসপত্রের দাম বাড়াবেন না, এবং হালাল-হারাম দেখেশুনে বিক্রি করবেন। যদি সম্ভব হয় কিছুটা কম মূল্যে বিক্রি করবেন। আপনার কম মূল্যে বিক্রির সেই সংখ্যাটি সাদকায়ে জারিয়া হয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ।
আপনারা মাঝেমধ্যে কাস্টমারকে ঠকান। গত সপ্তাহে আমাকে ঠকানো হয়েছে। এ বিষয়ে কোন এক সপ্তাহে আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ।
শেষের দশ দিন ইতিকাফে থাকার জন্য প্রস্তুতি নেয়া উচিত। আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাকে কয়েকবার সে সুযোগ দিয়েছেন।
শেষের এই দশ দিনে আছে ‘লায়লাতুল কদর’। যে রাতে কোরআন মাজীদ নাযিল হয়েছিল। এই একটি রাত হাজার মাস থেকে শ্রেষ্ঠ। এই রাতকে পাবার জন্য আমাদের উদগ্রীব হয়ে থাকতে হবে।
আপনারা যারা ইতিকাফের নিয়ত করেছেন, তারা এখন থেকে আপনাদের চাকরিদাতাকে বলে রাখুন। ছুটি নিয়ে রাখুন। ঈদের বাজার-সাজার করে নিন।
সম্মানিত উপস্থিতি!
‘কিয়ামুল লাইল’ আল্লাহর কাছে একটি পছন্দের বিষয়। আল্লাহর নবী বলেছেন, যে ব্যক্তি খাঁটি ঈমানের সাথে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও সাওয়াব এর উদ্দেশ্যে রামাদানে কিয়ামুল লাইল আদায় করবে তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহ ক্ষমা করা হবে। সূরা মুজাম্মিল ও সূরা মুদ্দাসিরে মধ্যরাতের সালাতের কথা বলা হয়েছে। সূরাতুল মুমিনুনে খুশু খুজুর কথা বলা হয়েছে। শেষে রাতে, নিরব নিরিবিলিতে খুশু খুজুর কোয়ালিটি বৃদ্ধি করা সম্ভব। শেষ রাতে আল্লাহ শেষ আসমানে এসে মানুষের কথা শুনেন। অন্ধকারে আলোর সন্ধান।
কয়েক মাস আগে আমি এর উপর কথা বলেছিলাম।
আপনারা যখন সাহরির জন্য উঠবেন তখন অজু করে কয়েক রাকাত সালাত আদায় করে নেবেন।
ফজর সালাতের পর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে সালাতুল আওয়াবীন পড়া যায়। এটি বড়ই ফজিলতের সালাত। এর উপর আমি এক সময় কিছু কথা বলেছিলাম, আবারো আলাদা করে বক্তব্য রাখবো ইনশাআল্লাহ।
আমাদের সিয়াম কিয়াম হবে খালেস নিয়তে, একমাত্র আল্লাহর জন্য।
আল্লাহর নবী বলেছেন, যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে এবং সাওয়াব অর্জনের খাঁটি নিয়তে রামাদানের সিয়াম পালন করবে তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহ ক্ষমা করা হবে।
যদি আমাদের নিয়ত ভাল না থাকে তা হলে আমাদের সালাত সিয়াম কবুল হবে না। আল্লাহর নবী বলেছেন, অনেক সিয়াম পালনকারী আছে যার সিয়াম থেকে শুধু ক্ষুধা ও পিপাসা ছাড়া আর কোন লাভ হয় না, এবং অনেক তারাবীহ- তাহাজ্জুদ পালনকারী আছে, যাদের শুধু রাত জেগে থাকা ছাড়া আর কোন কল্যাণ হয় না।
সারা দিন সিয়াম পালন করেছি বলেই ইফতারিতে আমরা এত বেশি খাই যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। আমি এমন কিছু বন্ধুকে জানি, যারা ইফতারির পর আর সাহরীর জন্যে উঠে না। কারণ, তারা বলে ইফতারিতে যা খেয়েছি তা যথেষ্ট।
আসুন, রামাদানের এই মাসকে আমরা যথাযথ কাজে লাগাই। আমাদের প্রতিটি কাজ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করি। সেকেন্ড মিনিট ঘন্টাকে পরকালের সংগ্রহের জন্য ব্যয় করি। জীবনের দৈনন্দিন কাজে, হাঁটতে, চলতে, ফিরতেও আমরা ছোট ছোট দোয়া, দরুদ, জিকির-আজকার করি। আমাদের সোশ্যাল মিডিয়াকে সত্যসুন্দর প্রসার ও প্রচারে নিবেদিত হই। আমাদের গুনাহ মাফের জন্য আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করি।
আল্লাহর নবী বলেছেন, যে ব্যক্তি রামাদান মাস পেল কিন্তু এই মাসে তাকে ক্ষমা করা হল না, সেই ব্যক্তি আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত ও বিতাড়িত।
হে আল্লাহ, আমাদের সিয়াম কিয়াম কবুল করুন। আমাদের সালাত কবুল করুন। আমাদের তারাবিহ কবুল করুন। আমাদেরকে মসজিদকে কবুল করুন। আমাদের মাফ করে দিন।
আমীন, ইয়া রাব্বাল আলামীন।
ওয়ামা আলাইনা ইল্লাল বালাগ।
১৫.০৪.২০২১
লন্ডন।
Discussion about this post