মানুষের মনে যখন নানা চাওয়া, পাওয়া ছোটাছুটি করে তখন তার মনের অবস্থা যা “কামনা করা ” “স্পৃহা” বা “আকাঙ্ক্ষা” এর মত শব্দ দ্বারা প্রকাশ হয় তখন তাকে ইচ্ছে বলে। ইচ্ছে নানা ধরনের হতে পারে। এই সমাজ ব্যবস্থায় রাজনীতি, অর্থনীতি, বৈবাহিক নানান বৈচিত্র আবহাওয়া আমাদের ইচ্ছার পরিবর্তন হয়। সব সময় সব ইচ্ছে যে পূরণ হয় তা কিন্তু নয়।মানুষ যা চায় তা পায় না কাজেই সব ইচ্ছে পূরণ হবার নয়।অনেকের মতে ,ইচ্ছে পূরণ হল একটি অনৈচ্ছিক চিন্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একটি ইচ্ছার সন্তুষ্টি। সন্তুষ্টি অর্জন ও অনেক সময় হয় না।
কোন না কোন মারপ্যাঁচে হয়ে উঠে না।সেই যাই হোক বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে মানবিক চট্টগ্রাম কর্তৃক গত ২৩. ০৫.২৫ সন্ধ্যে থেকে গভীর রাত অবধি শিশু, কিশোর ,যুবতী ও বয়স্কদের ইচ্ছে পূরনের যে চেষ্টা তা প্রশংসার দাবি রাখে। বিশেষ করে শিশু কিশোরদের চিত্রাংকন ,রচনা প্রতিযোগীতা, পুরস্কার বিতরন গান নৃত্য কেক কেটে সব শিশুদের নিয়ে আনন্দ করার চেষ্টা মানবিক সমাজ গঠনে নতুন একটি বার্তা।
আমাদের দেশে পথশিশু, অবহেলিত শিশু, এতিম অসহায় শিশুর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। শিশুর অপর নাম হওয়া উচিত ভালোবাসা,আদর,মমতা।
সমাজে কেউ যখন শিশুদের পথশিশু, টোকাই, রাস্তার ছেলে বলে তখন আমার খুব কষ্ট লাগে। মতামত টি আমার নিজস্ব একান্ত ব্যক্তিগত।
আমাদের দেশে পথশিশুর সংখ্যা দিন দিন বাড়ার মূলে রয়েছেন আমাদের অজ্ঞতা,দারিদ্রতা, শিক্ষা সর্বোপরি আমাদের সচেতনতার অভাব। এক শ্রেণির অশিক্ষিত দরিদ্র মানুষ অপরিকল্পিতভাবে সন্তানের জন্ম দিয়ে থাকে এবং একটা নির্দিষ্ট সময় পর তাদেরকে পরিত্যাগ করে এভাবে বাড়তে থাকে দেশে অবহেলিত পথশিশুর সংখ্যা। এই সব শিশু তাদের মা কে, বাবা কে তা তারা জানে না। তাদের কে রাস্তা থেকে পুলিশ তুলে শিশু শ্রম হ্রাস করণ প্রকল্প ” অপরাজেয় বাংলাদেশ “এর মত বা অন্য কোন প্রতিষ্ঠানে বা আশ্রয়কেন্দ্রে রেখে যায তখন তা হয় তাদের ঠিকানা বা আশ্রয়স্হল।
আমাদের মধ্যে মানুষের মধ্যে মানবতাবোধ ও মনুষ্যত্ব দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে এবং এই সব পথ শিশুর সংখ্যা ও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে,লক্ষ্য করলে দেখা যায়,এখন ছোট ছোট বাচ্চারা রাস্তায় পত্রিকা বিক্রি করে,ফুল বিক্রি করে তাদের কথা কে ভাববে – বাস্তবে ওদের কেউ নেই আর আমরা যারা তাদের কথা ভাবি বা হাসি খুশি রাখার চেষ্টা করি তা অতি সামান্য তাতে তাদের ইচ্ছে পূরণ হয় কিনা তাতে আমার যথেষ্ট সন্দেহ। সমাজের যারা উচ্চ বিত্ত তাদের আন্তরিকতা, ইচ্ছে এই সমস্যার সমাধান করতে পারে তবুও মানবিক চট্টগ্রাম তাদেরকে ক্ষণিক সময় নাচ,গান, চিত্রাংকন, রচনা প্রতিযোগীতা অংশ গ্রহন কারার, উপভোগ করার এমনকি সমাজের গুনী মানুষজন কে চেনার, জানার ও তাদের বক্তব্য শুনার যে সুযোগ করে দিয়েছে তার জন্য মানবিক চট্টগ্রাম এর স্বপ্ন দ্রষ্টা ইলিয়াস রিপন সহ সংশ্লিষ্ট সকল কে ধন্যবাদ,অভিনন্দন। আমাকে বিভিন্ন ভাবে সম্মানিত করায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
আমাদের সমাজে যে বয়সে শিশুদের হাতে থাকা উচিৎ ছিল বই-খাতা সে বয়সে তাদের হাতে থাকে প্লাস্টিকের বস্তা। রাস্তায় রাস্তায় তারা প্লাস্টিক খুঁজে,কি নির্মম বেদনাময় দৃশ্য।শিশুরা নানা ভাবে হয়রানির শিকার হয় তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি যৌন হয়রানির শিকার হয় মেয়েশিশু। একটি সমীক্ষায় জানা যায়, ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ পথশিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয় আর মেয়ে পথ শিশুদের মধ্যে ৪৬ ভাগ যৌন নির্যাতনের শিকার। মুলত এই শিশুরা আগামী দিনের দেশ, জাতির ভবিষ্যৎ। বড় হয়ে তারা একদিন এই জাতির আশা আকাঙ্ক্ষা ও ভবিষ্যৎ স্বপ্ন সফল করবে। শিশুর মধ্যে রয়েছে বিপুল সম্ভাবনা।শিশুদেরকে যদি আমরা সযত্নে প্রতিপালন ও বিকাশ সাধনের সুষ্ঠু পরিবেশ দিতে পারি এবং তাদের আদর সোহাগ, যত্ন ও সুশিক্ষা দিয়ে বড় করতে পারি তাদের প্রাপ্য ইচ্ছে পুরণ করতে পারি তাহা হলে তারা সুশিক্ষায় শিক্ষিত হবে।
এই ক্ষেত্রে সমাজের শিক্ষিত ও বিত্তবানদের এগিয়ে আসতে হবে। শিশুরা যে পরিবেশে বসবাস করে তখন সে তার পারিপার্শ্বিক আচার-আচরণ অনুকরণ করে এবং অভ্যস্ত হয়ে পড়ে,উপযুক্ত শিক্ষার অভাবে কুরুচি পূর্ণ পরিবেশ, অসৎসঙ্গ ও বিবেচনাহীন অভিভাবকের অধীনে বা যথাযত পরিবেশ না পেয়ে বড় হয়ে সে অমানুষ, বিবেকহীন হতে পারে।
শিশুর মধ্যে জাতির উন্নতি ও সমৃদ্ধির বীজ লুকায়িত থাকে,তাই শিশুর সফল প্রতিপালন, সুশিক্ষা ও চরিত্র
গঠনে প্রত্যেক অভিভাবককে দায়িত্ব নিতে হবে এবং এক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
এইছাড়া ও যারা অসহায় অবহেলিত শিশু তাদের পূর্ন বাসন ও যথাযত ব্যবস্থা গ্রহন সরকারকে করতে হবে। সরকারের পাশাপাশি সমাজের শিক্ষিত সমাজ ও উচ্চ বিত্ত বা ধনীদের সর্বাগ্রে এগিয়ে আসতে হবে।
মানিবক চট্টগ্রাম সহ অন্যান্য সংগঠন শুধু তাদের কে আলোক জ্বলমল পরিবেশে এনে তাদের মননে এক ধরনে চিন্তা, চেতনা এমনকি তারা তাদের সীমাবদ্ধতার মধ্যে দিয়ে সমাজে অবদান রাখতে পারে নিজে ভালো থাকতে পারে সমাজকে ভালো রাখতে পারে তার সুন্দর একটি বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছে।
মুলত সংগঠন আমাদের জীবনকে আলোকিত করে অসহায়,দরিদ্র মানুষকে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখায়। মানুষকে আত্মবিশ্বাসী করে, সংগঠন মানুষকে বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণার যোগানদাতা।
পুরো অনুষ্ঠানটি ছিল মুলত বিনোদনের। সবার ইচ্ছে হয়ত পুরণ হয়েছে তবে আমার বুক এখনও ব্যাথা করছে।
এক শিল্পীর কন্ঠে সেই গান এখনও আমাকে ভাবাচ্ছে
বুক চিনচিন করছে হায়,মন তোমায় কাছে চায়,আমরা দুজন দুজনারি প্রেমের দুনিয়া, তুমি ছুঁয়ে দিলে হায় আমার কি যে হয়ে যায়…………
প্রচন্ড গরমে আমি ও আশা করেছিলাম কেউ না কেউ গাইবে সে গান, আমার হাজার সুখের ভাগ নিতে হাজার
মানুষ খাঁড়া, আমার সঙ্গী সাথী কেউ হবে না,হবে সে মাটির অন্ধকার করব,হবে বাড়ি ঘর।…..প্রানপাখি উড়ে গেলে আপন কেউ নাই….রে, আপন কেউ নাই..
সেই যাই হোক,যে কোন সংগঠন যে কোন মানবকল্যান মূলক কাজে সম্পৃক্ত থাকে এবং মানুষ তাতে এক ধরনের সুখ অনুভব করে। তাই এরিস্টটল বলেছেন, Pleasure in the job put perfection in the work. সংগঠন হতাশা ও দুখঃবোধ থেকে মানুষকে মুক্ত করে। মানুষের মাঝে সংগঠন সহযোগিতা করার মানসিকতা ও সহমর্মিতার মনোভাব ও তৈরি করে।
সংগঠন জীবনকে শুদ্ধভাবে উপভোগ করার পরিস্থিতি ও করণীয় ঠিক করে দেয়। সংগঠন মানুষের নেতৃত্বের গুণাবলি, দায়িত্বশীলতা, সহনশীলতা, নৈতিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা অনেক গুণ বাড়িয়ে দেয়। প্রতিটি সংগঠন সমাজ উন্নয়নে যেমন ভুমিকা রাখবে তেমনি নীতি, নৈতিকতা ও সমাজিক দায়বদ্ধতা তারা সজাগ থাকবে এই প্রত্যাশা।
লেখক —
মোঃ কামরুল ইসলাম।
কবি,প্রাবন্ধিক ও গণমাধ্যমকর্মী।







Discussion about this post