চট্টগ্রামে কলম একাডেমি লন্ডন’র “কবি মেলা ও কবির কন্ঠে কবিতা-সন্ধ্যা কালীন কবিতা পাঠ” অনুষ্ঠান সম্পন্ন
নিউজ ডেক্স, কলম টিভিঃ চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমি আর্ট গ্যালারি হলে কলম একাডেমি লন্ডন চট্টগ্রাম বিভাগ কর্তৃক “কবি মেলা ও কবির কন্ঠে কবিতা -সন্ধ্যা কালীন কবিতা পাঠ”
অনুষ্ঠান গত ৮ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয়। কবিতা পাঠ শেষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে লেখক, সাংবাদিক জয়নাল ফয়েজি পবিত্র কোরান তেলওয়াত করেন। লায়ন লুবনা হুমায়ুন সুমি, প্রিয়ান্কা সরকার, নিশিতা বড়ুয়া নিশির সঞ্চালনায় ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি কবি কুতুবউদ্দিন বখতেয়ারের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন কলম একাডেমি লন্ডন এর প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক অধ্যাপক নজরুল ইসলাম হাবিবী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কলম একাডেমি লন্ডন বাংলাদেশ শাখার সভাপতি কবি করুণা আচার্য। এতে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি কবি নাজিম উদ্দিন শ্যামল।
উক্ত আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কলম একাডেমি লন্ডন চট্টগ্রাম বিভাগের সাধারণ সম্পাদক কবি ও গণমাধ্যমকর্মী মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কবি ড.মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন ফারুক, কবি অধ্যাপক জিতেন্দ্রলাল বড়ুয়া,কবি ও গবেষক মুহাম্মদ নিযামুদ্দীন, কবি আরিফ চৌধুরী, কবি আলাউদ্দিন চৌধুরী, গীতিকার আবদুল হাকিম কবি আলমগীর হোসাইন, কবি পারভীন আকতার সহ প্রমুখ।
এতে চট্টগ্রামস্থ স্বনামধন্য ৫০ অধিক কবি তাদের স্বরচিত কবিতা পাঠ করে উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করে রাখেন।
এতে মোঃ কামরুল ইসলামকে উপস্থাপনায় ও
আলমগীর হোসাইনকে কাব্য সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য সম্মাননা দেয়া হয়।
এছাড়াও বাংলাদেশ শাখার নব নির্বাচিত সভাপতি ও ইংল্যান্ড লেস্টার শাখার সভাপতি যথাক্রমে করুনা আচার্য, আলাউদ্দিন চৌধুরীকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
উদ্বোধনী বক্তব্যে অধ্যাপক নজরুল ইসলাম হাবিবী বলেন, কলম একাডেমী লন্ডন বাংলা ভাষার প্রচার প্রসারে যে ভুমিকা রাখছে তা অনন্য। এটি অন্য সাহিত্য গ্রুপের মতো কোন সংগঠন নয়, এটি বিশ্বময় একটি সাহিত্য সমাজ কল্যান মুলক সংগঠন কেননা কলম বর্তমানে একটি প্রতিষ্ঠান। গত ১২ বছর ধরে কলম একাডেমি লন্ডন সাহিত্যের মাধ্যমে বিশ্বে অসাম্প্রদায়িক এবং সাম্য সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি সংগঠনকে ভালবেসে আন্তরিক হয়ে সবাই কে কাজ করার আহবান জানান।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্য বলেন, এখন ও কবিরা এ সমাজে কবিতা পড়ার সুযোগ পায় তা সত্যি অতি আনন্দের। তিনি বলেন, একজন কবি সব সময় সমাজের মুক্তির কথা বলেন, অন্যায়কে কখনও সহ্য করেন না সমাজ পরিবর্তনে ও কবি ভুমিকা রাখেন তবে বর্তমানে সাহিত্য চর্চার নামে যা করা হয় তা বাংলা সাহিত্যের উৎকর্ষে সাধনে কতটুকু ভুমিকা রাখবে তা আলোচনার বিষয়।
তিনি আরও আশা করেন, কবি, লেখকরা সব হীণমন্যতা দুর করে পুরাতন সৃষ্টির ঐতিহ্যকে সন্মান করে পুরোনো আর নতুনের মেলবন্ধনে একদিন কবি আর কবিতা হয়ে উঠবে সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার।
প্রধান বক্তা মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে বলেন, কবিরা ঘুণে ধরা সমাজ ব্যবস্থার পরিবর্তন, অবক্ষয় রোধে তাদের লেখনীর মাধ্যমে সমাজকে পরিবর্তন করে যা স্বভাবিক।কবিরা তখনই কবিতা চর্চা বেশি করবে যখনই স্বার্থপরতা, ভুল ধারনা শোষণ, সমাজে অহেতুক বাড়াবাড়ি হতে থাকে, সমাজের চারদিকে অরাজকতা দেখা দেয়, মিথ্যে এগিয়ে থাকে, সম্পদ সংগ্রহের দৌড়ে সবাই ঝাপিয়ে পড়ে, সমাজ যখন দুষিত হয়, তখন এই সমাজের শোষণ নির্যাতন নানা অসংগতির কথা তুলে ধরে কবিরা অসহায়, নির্যাতিত, শোষিত মানুষকে জাগ্রত করবে। কবি কবিই, কবিরা কখন ও দৈনিক বা সাপ্তাহিক সেরা কবি হতে পারে না।বর্তমানে বিভিন্ন সাহিত্য গ্রুপ কর্তৃক দৈনিক, সাপ্তাহিক ,মাসিক সেরা কবি প্রতিযোগিতা, নিজকে কবি হিসাবে আত্মপ্রচারের দৌড় ঝাপ তা কখনও গুনগত সাহিত্য নির্মানে ভুমিকা রাখে না। তিনি আরো বলেন, কবিদের সাহিত্য চর্চা করতেই হবে তবে এর জন্য সবচেয়ে গুরুত্ব দিতে পড়ার উপর। তিনি বলেন, বর্তমানে আমরা যে সাহিত্য নির্মান করছি তা তার পুর্বের জৌলুস হারিয়েছে, হারিয়েছে কবিতা তার স্বাভাবিক গতিময়তা, বর্তমানে আমরা কবিতার যে শরীর নির্মাণ করি সে কবিতার শরীরে এখন গেঁথে থাকে না শক্তিশালী কোন মানবেতিহাস, প্রেম, কষ্ট বিরহ, যাতনা, সংস্কৃতি পুঁজিবাদ, নিপীড়ন, শোষণ, জীবন বোধের নানান অনুষঙ্গ থাকে শুধু ঠুনকো অপ্রয়োজনীয় নিজস্ব ভাবনা, কথামালা যা কখনও সাহিত্য নয়। তাই বর্তমানে কবির কবিতায় পাঠক আন্দোলিত হয় না। কবির কবিতায় সংস্কৃতি, নানা নিপীড়ন শোষণ, আর সমাজ উন্নয়ন মুলক কোন সচেতনতা বার্তা থাকে না কবির কবিতা এখন পাঠক ভাবে না তাই কবিদের খেয়াল রাখা দরকার যেন কবিতা বখাটে না হয় মুলত কবির ভাবনা হচ্ছে চিন্তার বুদ্ধিনিষ্ঠ প্রকাশ। তিনি কলম একাডেমি লন্ডন প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক অধ্যাপক নজরুল ইসলাম হাবিবী সহ চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সকল নেতৃবৃন্দকে এই সুন্দর আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানান ও কলমের উত্তোরোত্তর সফলতা কামনা করেন।
সভাপতি সবাইকে সার্বিক সহযোগিতা করার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।







Discussion about this post