তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এ পরিবর্তন আসছে সরকারি বিভিন্ন উদ্যোগের পাশাপাশি তরুণদের নানা উদ্যোগ আর প্রচেষ্টায়। তাঁদের হাত ধরেই দেশে স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের ব্যবহার বাড়ছে। এতে দ্রুত বদলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন খাত। নিঃসন্দেহে বলা যায়, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের মোকাবিলায় বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাত দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়নে জোর দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের বরাতে জানা যায়, ‘ডিজিটাল সেবার বিস্তৃতি ও উন্নতি ঘটিয়ে বাংলাদেশ আগামী পাঁচ বছরে জাতিসংঘের ই-গভর্ন্যান্স উন্নয়ন সূচকে সেরা ৫০টি দেশের তালিকায় থাকবে। ই-গভর্ন্যান্সের জাতীয় ইনডেক্সে আমরা এখন ১১৫ নম্বরে আছি।
আগামী পাঁচ বছরে আমরা আরও ৫০ ধাপ উন্নতি করে দুই অঙ্কের সংখ্যায় আসব, এমন লক্ষ্যমাত্রা আমাদের। তাঁর ভাষায় তিনি বলেন, ১০ বছর আগে আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিলাম। তখন অনেকেই বুঝতে পারেনি যে ডিজিটাল বাংলাদেশ কী? তবে অল্প সময়ের মধ্যেই আমরা তাদের ভুল প্রমাণ করেছি। ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন আর স্বপ্ন নয়, বাস্তব। আজ যা দেখছেন, তা ডিজিটাল বাংলাদেশের সামান্য কিছু। আরও অনেক কিছু আমরা করেছি এবং সামনে করব।’ আর বর্তমানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নের নিমিত্তে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে সরকার এ খাতকে বিশেষ গুরুত্বারোপ করে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সর্বব্যাপী প্রয়োগ ও ব্যবহারে কারিগরি সহায়তা নিশ্চিতকরণ; তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সুবিধাসমূহ প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছানো, অবকাঠামো নিরাপত্তা বিধান; রক্ষণাবেক্ষণ; বাস্তবায়ন; সম্প্রসারণ মান নিয়ন্ত্রণ ও কম্পিউটার পেশাজীবীদের দতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ই-সার্ভিস প্রদান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ৩১ জুলাই, ২০১৩ তারিখে ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর’ গঠন করা হয়।
সাধারণত তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ মানব সম্পদে পরিণত করতে বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। এ ছাড়াও উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য বিপুল সম্ভাবনা কাজে লাগাতে দেশের জন্য দক্ষ মানব সম্পদ প্রয়োজন। বাংলাদেশের বিপুল সম্ভাবনা কাজে লাগাতে জ্ঞান বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি ভিত্তিক শিক্ষা তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ মানব সম্পদে পরিণত করতে পারে। বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে দক্ষ মানব সম্পদ তৈরিতে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভূমিকা প্রশংসনীয়। এই ধারাবাহিকতায় একজন সফল তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নারী শিকিক্ষা রফরফের নূর সিদ্দিকা। বর্তমান চট্টগ্রাম অনলাইন স্কুলে তিনি প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে পাঠদান প্রক্রিয়া চালাচ্ছেন।
এই অনলাইন স্কুলের সাথে জড়িত হয়েছে বিভিন্ন স্কুলের সাত শিক্ষক। বর্তমান কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে ঘরবন্দি শিক্ষার্থীদের অনলাইন পাঠদান প্রক্রিয়া চালিয়ে নিয়ে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। নিঃসন্দেহে বর্তমান এই সময়ে এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। সফল এই আইসিটি বিভাগের শিকিা ১৯৮০ সালের জানুয়ারি মাসে সীতাকুণ্ড থানার মুরাদপুর গ্রামের বহদ্দার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা আলী হাসান ও মা মর্তুজা বেগম খুকি। বাবা-মা দুজনেই প্রয়াত। স্বামী পেশায় কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার ও প্রযুক্তি খাতের একজন ব্যবসায়ী। সংসার জীবনে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে তাঁর। তিনি এসএসসি-১৯৯৬, এইসএসসি-১৯৯৮, বিএসএস-২০০০, এমএ-২০১৭, বিএড-২০০৫, কম্পিউটার ডিপ্লোমা-২০০৬ (নট্রামস), নিবন্ধন ইন আইসিটি-২০০৪ শিক্ষাজীবন শেষ করেন।
Discussion about this post