কাব্যানুবাদ:
পন্দে নামা আত্তার
দ্বিতীয় কিস্তি
নজরুল ইসলাম হাবিবী
মূল:
আঁকে দর আদম দমিদ উ রুহ রা
দাদ আজ তুফাঁ নাজাত উ নুহ রা।।
অনুবাদ:
আদমকে যে প্রভু দিয়েছিলে রুহ
ঝঞ্ঝা থেকে প্রাণ ত্রাণ পেয়েছিল নুহ।
শব্দার্থ:
দমিদ- ফুঁ দিয়েছে।
এখান থেকেই বাংলার দম।
রুহ- প্রাণ।
আজ -থেকে।
তুফাঁ বা তুফান। উর্দু বা ফার্সিতে কখনো কখনো কোন শব্দের শেষের নুন বর্ণ উহ্য থাকে ছন্দের জন্য।
নাজাত- পরিত্রাণ।
উ-তিনি।
নুহ- নুহ নবীর উপাধি।
অবশ্য দুনিয়ার মানুষ তাঁকে নুহ (আ) নামেই চেনে। উনার আসল নাম নিয়ে কয়েকটি বক্তব্য আছে।
নুহ মানে ক্রন্দন করা।
**
মূল:
আঁকে ফরমান কর্দ কহরশ বাদ রা
তা ছজায়ে কর্দ কওমে লুত রা।।
অনুবাদ:
সে সত্ত্বার আদেশে ক্রোধান্বিত ‘বাদ’
পেয়েছিল শাস্তি বড় জাতে লুত- আদ।
শব্দার্থ:
ফরমান-আদেশ।
কহরশ-তার রাগ।
এখান থেকেই আমরা বলি কহর।
শব্দটি আরবি।
শ এসেছে সর্বনাম বা সম্পর্ক বুঝাতে।
বাদ- বাতাস।
তা- তবে, এজন্য।
ছজায়ে বা সজা-শাস্তি।
ইয়া এসেছে বড় কিছু বুঝাতে ।
আমরা বুঝি সাজা
করদে -করেছে।
বাংলায় আমরা বুঝি করা।
কাউম- জাতি।
আদ -বিখ্যাত নবী হুদ (আ) এর গোষ্ঠী।
**
আমরা লক্ষ্য করলে দেখব ফার্সির অনেক শব্দ বাংলা নামেই আমরা ব্যবহার করি।
তাই ফার্সি তেমন কঠিন নয়।
এখানের মূল শেখাগুলি অনেকটাই ইশারা -ইঙ্গিতে বলা। কারো আরো একটু ব্যাখ্যার প্রয়োজন হলে উত্তর দিতে চেষ্টা করা হবে।
ফার্সিতে লেখার খুব দরকার নেই বলে মনে করে মূল বয়েত ফার্সি বর্ণে লিখি নি।
গত সংখ্যায় বলেছিলাম যে, শেখার জন্য আমি কিছু কিছু সহজ ফার্সি শব্দ অনুবাদে ব্যবহার করব।
কেউ আরো ভাল করে পড়তে শিখতে চাইলে বয়েতগুলি ফার্সিতে পাঠ করার জন্য আমাকে বলবেন।
(চলবে)
29. 03. 19
লন্ডন।






Discussion about this post