প্রতি,
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।
ঢাকা, বাংলাদেশ।
“অক্ষরে অমরতা” শ্লোগানের পতাকাবাহী আন্তর্জাতিক সাহিত্য ও সমাজকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান ‘কলম একাডেমি লন্ডন’ ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ ১০ বছর ধরে সাহিত্যের মাধ্যমে বিশ্বে অসাম্প্রদায়িক এবং সাম্যসমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিশ্বের দেশে দেশে এমনকি গ্রামপর্যায়েও কলমের সংগঠন আছে। এই সংগঠন বিশ্ব জুড়ে এক অনুপম ভ্রাতৃত্ব ও ভালবাসার বন্ধন সৃষ্টি করেছে।
জাতি, ধর্ম, দর্শন, শ্রেণি ও বর্ণ নির্বিশেষে সকলের প্রতি সহযোগিতার হাত প্রসারিত করে পৃথিবীতে এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এ সংগঠন বৃটেন এবং বাংলাদেশ থেকে রেজিস্ট্রার্ড চ্যারিটিবল সংস্থা (দুই জাহানের সংগঠন) ‘সারাহ-হাবিব লন্ডন’ এর অন্বিত সংগঠন।
সাহিত্যের মাধ্যমে সমাজ বিনির্মাণের পাশাপাশি, এই সংগঠন বিভিন্নভাবে সমাজের অসহায় দরিদ্র মানুষের সেবায় এগিয়ে আসে। এই সংগঠন বই-পুস্তক লিখে দেশে-বিদেশে ফ্রী বিতরণ করে থাকে। শিক্ষা কেন্দ্র স্থাপন, ভারত ও বাংলাদেশের লেখকের লেখা ইংরেজিতে অনুবাদ করে বহির্বিশ্বে প্রচার প্রসারের ব্যবস্থাকরণ, এবং বাংলা ভাষার উপর বহিঃবিশ্বে সভা-সেমিনার করা সহ অনেক কাজ এই সংগঠন করে থাকে। এতে করে আমাদের দেশ ও আমাদের পতাকা সম্মানিত হতে হয়।
কলম একাডেমি লন্ডন এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য (আংশিক)-
* দেশে বিদেশে বাংলাভাষার প্রচার ও প্রসার,
* বিদেশে বাংলা স্কুল প্রতিষ্ঠা,
* এতিমখানা প্রতিষ্ঠা,
* দেশে বিদেশে সাহিত্য সম্মেলন
* সমাজকল্যাণমূলক প্রশিক্ষণ ও সভা সেমিনার,
* বাঙালি লেখকদের লেখা ইংরেজি সহ অন্যান্য ভাষায় অনুবাদ,
* অসাম্প্রদায়িক ও সাম্যসমাজ প্রতিষ্ঠা,
* আর্থিক ও নৈতিকভাবে সমাজসেবা,
* পল্লী পাঠাগার প্রতিষ্ঠা,
* পল্লী সাহিত্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ,
* পল্লী প্রতিভার লালন,
* ‘অক্ষর পাবলিকেশন্স ও মিডিয়া’র আর্থিক সহযোগিতায় সুবিধা-বঞ্চিত লেখকদের লেখা প্রকাশ,
* লেখক পুরস্কার
* শিক্ষাবৃত্তি
* সমাজের গরিব এবং নির্যাতিত মানুষের জন্য আইনি সহায়তা প্রদান,
* ‘শেয়ার এন্ড কেয়ার’ এর নামে জরুরি ভিত্তিতে সহযোগিতা করা সহ গোপনে ও প্রকাশ্যে আমরা বহুবিধ কল্যাণমূলক কাজ করে থাকি।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
এই সংগঠন মনে করে, লেখক সমাজের চক্ষু। জাতির বিবেক। লেখক বুকের রক্ত কালি করে বিশ্বশান্তির জন্য লিখেন। তাঁরা জাতির অহংকার। ইতিহাস ও ঐতিহ্যের রূপকার।
তাঁরা নির্লোভ, নিরহংকার ও নির্ভেজাল ভালোবাসার মানুষ। অথচ তাঁরাই আজ সমাজে চরম অবহেলিত, কখনো ক্ষুধার্ত। তাই এ সংগঠন লেখকের সম্মানে প্রতি বছর ১৮ সেপ্টেম্বর ‘বিশ্ব লেখক অধিকার দিবস’ পালন করে থাকে।
আমরা লক্ষ্য করেছি, বিশ্বের দেশে দেশে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় আছে, সাহিত্য মন্ত্রণালয় নেই।
তত্ত্বমতে, সংস্কৃতির সৃষ্টি সাহিত্য থেকে। তাই আমরা বলি, ‘সাহিত্য সংস্কৃতি’। সাহিত্য সাগর হলে সংস্কৃতি খালের মতো। তাই আমরা ‘লেখক মন্ত্রণালয়’ এর দাবি তুলেছি। এ দাবি যৌক্তিক ও সাংবিধানিক বলে আমরা মনে করি।
‘লেখক’ বলতে আমরা কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, গীতিকার, সুরকার, নাট্যকার, শিল্পী, সাধক, আউল বাউল সহ সকল ধরনের কলম সৈনিক তথা শব্দসাধকের কথা বলব। (প্রয়োজনে আপনি সংসদে ‘লেখক’ শব্দের একটি সীমানা বা সংজ্ঞা ঠিক করে নেবেন)।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
আপনার পিতা আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে এ দেশে এনে এবং তিনি ইউনাইটেড নেশনে বাংলায় বক্তব্য রেখে আজ ইতিহাস হয়ে আছেন। অনুরূপ ভাবে আপনি লক্ষ লক্ষ লেখকের মনের আবেদন ‘লেখক মন্ত্রণালয়’ প্রতিষ্ঠা করে ইতিহাস সৃষ্টি করতে পারেন।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ‘কলম একাডেমি লন্ডন’ এর শাখা আছে। এই সংগঠনে ভিন্ন ভাষাভাষীর লেখকরাও আছেন। তাঁরাও তাঁদের দেশে এই দাবির পক্ষে কাজ করছেন।
একজন বাংলাদেশী হিসেবে আমি চাই, এই দাবির বাস্তবায়ন প্রথম বাংলাদেশ থেকে শুরু হোক। বাংলাদেশই প্রথম ইতিহাস সৃষ্টি করুক। পৃথিবীর ইতিহাসে আপনার নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখিত হোক। এতে বাংলাদেশের নাম ও সম্মান আরো বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। বিশ্বের ভিন্ন ভাষাভাষীরা বাংলাভাষার প্রতি আগ্রহী হবে।
বাংলাদেশের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
বেশ কিছু কারণে লেখকদের পাশে আমরা আপনাকে পেতে চাই-
*আপনি বাঙালি। বাংলাভাষাকে ভালোবাসেন। সাহিত্যকে ভালোবাসেন। আমি লক্ষ্য করেছি, আপনি গ্রামগঞ্জের সাহিত্য সম্পর্কেও খবরাখবর রাখেন, এবং অনেক সময় কবিতা বা গান শুনে আপ্লুত হয়ে পড়েন! তাই আমি মনে করি, আমাদের এই নৈতিক এবং যৌক্তিক দাবি পুরন করা আপনার পক্ষে সম্ভব, কারণ আমাদের কথাগুলি আপনারও মনের কথা।
*আপনি জানেন, লেখকেরা যদি স্বাচ্ছন্দ্যে লিখতে পারেন সাহিত্য সমৃদ্ধ হবে।
* লেখক সুখি হলে, অভাবে না থাকলে নির্দ্বিধায় নিশ্চিন্তে নানাবিধ কল্যাণকর সাহিত্য রচনা করতে পারবেন। এতে
*জাতি শিক্ষিত হবে।
*দেশ মর্যাদাশীল হবে।
* বিশ্বের ধনী এবং শিক্ষিত রাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশ পাল্লা দিয়ে এগিয়ে যেতে পারবে।
* বাংলাদেশ, বাংলাভাষা এবং বাংলাসাহিত্যের গ্রহণযোগ্যতা বিশ্বে বেড়ে যাবে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
অভাবের কারণে অনেক লেখক কলম ধরতে পারেন না। লিখতে পারেন না। হাড়ভাঙ্গা কষ্ট করে কিছু লিখলেও তা প্রকাশিত হয় না। বই প্রকাশের সামর্থ্য তাঁদের নেই। এতে তাঁরা ব্যতীত হন। নিজেকে ধিক্কার দিতে থাকেন।
আমরা চাই আপনার মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত লেখকের লেখা প্রকাশিত হোক। আমাদের সাহিত্য সমৃদ্ধ হোক। আমাদের দেশের ইতিহাস সম্মানিত হোক। একই ভাবে সকল ধরনের লেখকের মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হোক। লেখক তাঁর সৃষ্টিকর্ম নিয়ে সম্মানিত হোক। তাঁরা সুখে সুনামে বেঁচে থাক।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
পৃথিবীতে লেখকের বড় কোনো দাবি নেই। তাঁরা তাঁদের রক্তকে কালি করে লেখা একটি প্রকাশিত বই পৃথিবীতে দেখে যেতে চান। তাঁর প্রজন্মের কাছে রেখে যেতে চান। এতোটুকু অনুরোধ আপনার মাধ্যমে পৃথিবীতে প্রথম প্রতিষ্ঠিত হবে বলে ‘কলম একাডেমি লন্ডন’ বিশ্বাস করে।
আপনার অবগতির জন্য আমরা এখানে কিছু আবেদন পেশ করছি যা বিশ্বময় লক্ষ লক্ষ লেখকের মনের কথা।
আমাদের দাবি-
* বিশ্বের সকল দেশে লেখক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা,
(যার সূচনা হবে বাংলাদেশ থেকে)।
*বিশ্ব লেখক অধিকার দিবস’ এর রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি,
* লেখক পরিবারের জন্য সরকারি ভাতা,
* লেখক ও তাঁর প্রজন্মের জন্য ফ্রী শিক্ষা/ উচ্চ শিক্ষার সুযোগ,
* লেখক ও তাঁর পরিবারের জন্য ফ্রী চিকিৎসা,
* লেখক ও তাঁর পরিবারের জন্য ফ্রী বাসস্থান,
* জাতীয় পর্যায়ে পল্লী লেখকদের স্বীকৃতি,
* সরকারি খরচে পল্লী লেখকদের সাহিত্যকর্মের প্রকাশ ও বিক্রির ব্যবস্থা,
* চাকরিতে লেখক কোটার ব্যবস্থা,
* লেখক ও তাঁর পরিবারের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
এই সকল দাবি আদায়ের জন্য আমরা বিশ্বের দেশে দেশে সভা-সেমিনার করছি, এবং অনেক লেখক এবং তাঁদের সংগঠন এই প্রাণের দাবির সাথে সমর্থন ঘোষণা করেছেন।তাই আমি ‘কলম একাডেমি লন্ডন’ এর মাধ্যমে, লক্ষ কোটি লেখকের পক্ষে আমাদের প্রাণের আবেদন আপনার সদয় বিবেচনার জন্য সবিনয় অনুরোধ করছি।
আমার ফেজবুক আইডি- Nazrul Habibi
সাহিত্য সংগঠনের নাম- ‘কলম একাডেমি লন্ডন’ Qalam Academy London এ লিঙ্কে আপনি দেখবেন লেখকের অধিকার এবং লেখক মন্ত্রণালয় চেয়ে আমাদের প্রিয় লেখকগণ কত ভাবে লেখালেখি করছেন। আপনার প্রতি আকুল আবেদন জানাচ্ছেন।
উল্লেখ্য যে, এ সংগঠন সব সময় আমাদের বর্তমান সরকারের পক্ষে লেখালেখি করে থাকে। আমরা কখনো কোন দেশ, ধর্ম বা দলের বিরুদ্ধে লেখা অ্যাপ্রুভ করিনা।
সংগঠন হিসেবে ‘কলম একাডেমি লন্ডন’ সারা বিশ্বে অতি পরিচিত সম্মানিত ছোট একটি নাম। সংগঠনের সদস্যরা বলে থাকেন, “বাংলা ভাষা যতদূর, কলম ততদূর”।
জাতি, ধর্ম, দল ও মতের ঊর্ধ্বে থেকে এই সংগঠন পরিচালিত হয়। বিশ্বের অনেকগুলি দেশে এর শাখা-প্রশাখা আছে। ভারতের আসাম, ত্রিপুরা সহ পশ্চিমবঙ্গের প্রায় প্রতিটি জেলায় ‘কলম একাডেমি লন্ডন’ এর শাখা আছে। ভারতেও আমরা ছোটখাটো সমাজসেবামূলক কাজ করেছি।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
সাহিত্য তথা সাহিত্যিকদের এই বিষয়টি ছোট নয় বলে আমরা মনে করি।
আমরা মনে করি, বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে লেখকের গুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়টিকে বাস্তবে রূপ দিয়ে আপনি নতুন একটি ইতিহাস সৃষ্টি করবেন। বাংলাদেশ সহ বিশ্বের লক্ষ কোটি লেখকের কাছে আপনি হয়ে থাকবেন পরম সম্মানিত। লেখকেরা আজীবন আপনাকে নিয়ে লিখবেন। তাঁরা আজীবন গাইবেন আপনার গুণগান। লেখকের কলমে আপনি পাবেন “অক্ষরে অমরতা”।
আশা করি আগামী কোন সংসদ অধিবেশনে আপনি আমাদের লক্ষ কোটি লেখকের মনের আবেদন উত্থাপন করবেন। আপনার সংসদে অনেক সম্মানিত এমপি মহোদয় আছেন,এখান থেকে আপনার পছন্দের একজনকে দায়িত্ব দিতে পারেন। পরবর্তীতে আমরা উনার সাথে যোগাযোগ রক্ষা করব।
আপনি চাইলে মন্ত্রণালয়ের গৃহ নির্মাণে আমরা এমেরিকা, ইউরোপ তথা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে তহবিল সংগ্রহ করবো।
আপনার জন্য অবারিত সম্মান শ্রদ্ধা নিবেদন করি।
💐
বিশ্বের লক্ষ কোটি লেখকের পক্ষে
বিনীত অনুরোধে
প্রফেসর নজরুল ইসলাম হাবিবী
প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক
‘কলম একাডেমি লন্ডন’।
১২.০৯.২০২১
লন্ডন।
ঠিকানাঃ গ্রাম- কেউটিয়া,
পোস্ট-রমজান আলী হাট,
থানা -রাউজান, জেলা -চট্টগ্রাম।
আমার ইংল্যান্ড ঠিকানা-
13 Stanbridge place
Winchmore hill
London
N21 3LX
My mobile number- 07950388714
E-mail- [email protected]
💐💐💐💐💐
(এই লেখাটি বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং ইংল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনারের কাছে পাঠানো হয়েছে।
পরবর্তীতে অনুবাদ করে ইউনেস্কো এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাঠবো যেখানে আমাদের সংগঠন আছে, আমাদের সদস্যরা আছেন তাদের মাধ্যমে। আপনারা লেখাটি আপনাদের টাইমলাইনে রাখুন। বেশি বেশি শেয়ার করুন। লাইক করুন।
জয় হোক সাহিত্যের। জয় হোক লেখকের।
প্রতিষ্ঠিত হোক ‘লেখক মন্ত্রণালয়’। পূরণ হোক আমাদের মনের দাবি। অর্জিত হোক আমাদের অধিকার)।







Discussion about this post