মোঃ কামরুল ইসলামঃ
পৃথিবীর সর্বত্র মুসলিম নিধন,নারী ধর্ষন সহ মুসলমান দের উপর অন্য ধর্মের অত্যাচার ব্যাপক হারে বাড়ছে। ইহুদিবাদের খপ্পরে পড়ে, নিজ নিজ স্বার্থের বলয়ে ঘুরতে গিয়ে একজন মুসলমান অন্য মুসলমানের বিপক্ষে অবস্থান নিচ্ছে। সেই সুযোগে ধর্ম নিরপেক্ষ নামধারী,মানবতার লেবাস ধারী অন্য ধর্মের লোক সেই পায়দা লুটে নিচ্ছে।সম্প্রতি অষ্ট্রেলিয়ার একটি তদন্ত সংস্থা এই তথ্য দিয়েছে। তাহাছাড়া আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা সম্প্রতি এক জরিপে দেখিয়েছে চীনই একমাত্র দেশ যে চায় না পৃথিবীতে কোন মুসলমান সম্প্রদায় থাকুক। যার ফলে তারা উইঘুর অঞ্চলের মুসলমানদের হত্যা করে তাদের অঙ্গ,প্রত্যঙ্গ ও বিক্রি করে দেয় (বিবিসি)। উইঘুর অঞ্চলে মুসলিম নারী,পুরুষদের সংশোধনের নামে ‘পুনঃশিক্ষণ’ কেন্দ্র পরিচালনা করে আর তাতে পুরুষদেরকে নির্যাতন করা হয় ও নারীদেরকে পরিকল্পিতভবে ধর্ষণ করা হয়।[ বিবিসি]
চীনের উইঘুর মুসলিম অধ্যুষিত এই অঞ্চলের আগের নাম ছিল ‘পূর্ব তুর্কিস্তান’।পরবর্তীতে চীন সরকার এ অঞ্চলের নাম দিয়েছে জিনজিয়াং।
প্রায় ২০ লাখ উইঘুর নারী-পুরুষ বন্দি রয়েছে চীন সরকারের সুপরিকল্পিত বন্দি শিবিরে। তাদের উপর অমানবিক নির্যাতন,ধর্ষণ,হত্যা, হত্যার পর অঙ্গ,প্রত্যঙ্গ বিক্রি করে দিচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তা উঠে এসেছে।
মুসলমানদের অঙ্গ, প্রত্যঙ্গ বিক্রি করে চীনের বর্তমান কমিউনিষ্ট সরকার আয় করেছে ৭৫ বিলিয়ন ডলার। যে দেশ একটি তথাকথিত ধর্মকে লালন করে যারা প্রথমে তাদের ধর্মের শান্তির বানী উচ্চারন করে তাদের কর্মকান্ড প্রকৃত মানুষের বিবেককে রক্তাক্ত ও ক্ষত বিক্ষত করে। সর্বত্র সম্প্রীতি রক্ষা হোক আমরা তা চাই,প্রতিটি প্রকৃত মুসলমান তা চায় তবে আজ অনেকে মনে করেন বিভ্রান্তির বেড়াজালে পৃথিবীর সব মুসলমান। মুসলমানদের মধ্যে একতার অভাব, সিদ্ধান্তহীনতা, ব্যক্তি স্বার্থ, তোষামোদী মনোভাব,মুসলমানদের মধ্যে যে সব গুন থাকার কথা তার বড্ড অভাব যার ফলে আজ লেবানন,কাশ্মীর ত্রিপুরা,আসাম,মায়ানমার রোহিঙ্গা সহ সবর্ত্র আজ জ্বলছে মুসলমান।
অনেকের মতে,বিশ্বের সব মুসলমান বিশ্ব চক্রান্তের শিকার। কথায় বলে,সব দোষ নন্দ ঘোষ।
মুলত মুসলমান বা মুসলিম হচ্ছে সে,যে স্ব ইচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে ও অনুগত হয়ে নিজের ইচ্ছাকে আল্লাহর কাছে সমর্পন করে।
অন্যদিকে যারা ইসলাম ধর্মকে অনুসরণ করে বা অনুসারী তারা এক কথায় মুসলমান বা মুসলিম।
পৃথিবীতে আল্লাহর দয়া ছাড়া ও মানুষে মানুষে সম্প্রীতি বজায় রাখা ছাড়া কেউ কখনও সুন্দর ভাবে বাঁচতে পারে না।
পৃথিবীর সব মানুষের মধ্যে যদি মায়া,মমতা,মানবতা বোধ,ভ্রাতৃত্ববোধ না থাকে তাহলে পৃথিবী স্বাভাবিক ঘুর্ননগতি হরিয়ে ফেলে আর তখনি এই পৃথিবী একটি বাসযোগ্যহীন নরকে পরিনত হবে তা মুসলমান জানে আর তা কখন ও কোন প্রকৃত মুসলমানের নিকট কাম্য নয়।
সব ধর্মের সব মানুষের সৃষ্টির প্রতি যে মমত্ববোধ তা একটি স্বর্গীয় গুণ।যে মহান রবের প্রতিটি সৃষ্টির প্রতি সহানুভূতি দেখালো তাদের স্বাভাবিক মৃত্যু সহ সুন্দর ভাবে বেঁচে থাকতে সহযোগিতা করলো সে যেন মহান আল্লাহর গুণে নিজকে গুণান্বিত করল। এই পৃথিবীতে সকল মহামানবরা মহান রবের সকল সৃষ্টিকে ভালবেসে ও সৃষ্টির সেবা করে স্রষ্টার সান্নিধ্য লাভ করেছেন।
আল্লাহর প্রিয় হাবিব রাসূলে পাক্ (সা.) বলেছেন,এক মুসলমান অপর মুসলমানের ভাই।সে তার ওপর জুলুম করবে না এবং তাকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেবে না। যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের প্রয়োজনে সাহায্য করবে আল্লাহ তার প্রয়োজনে সাহায্য করবেন। যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানের দুঃখ কষ্ট দূর করবে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার বিপদ দূর করবেন। আর যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানের দোষ-ত্রুটি ঢেকে রাখবে আল্লাহ তার দোষ-ত্রুটি ঢেকে রাখবেন, (বুখারি)।
আল্লাহ পাক্ পবিত্র কুরআনে বলেছেন, ‘আল্লাহ অনুগ্রহকারীদের ভালোবাসেন’ (বাকারা-১৯৫)।
আবার পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ট মহা মানব রাসূলে পাক্ (সা.) বলেছেন,মানুষ মানুষের সাথে পারস্পরিক সহানুভূতি বন্ধুত্ব বজায় রাখবে।দয়া অনুগ্রহের ক্ষেত্রে যেন একটি দেহের মতো কাজ করবে যখন দেহের কোনো অঙ্গ অসুস্থ হয় তখন পুুরো শরীর তার জন্য বিনিদ্রা থাকে অসুস্থতায় সে দেহ আক্রান্ত হয়। (বুখারি ও মুসলিম)।
আজ পৃথিবীর প্রতিটি মানুষ মহামানব হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এর আদর্শ থেকে অনেক দুরে।
এখন মানুষ নিজের স্বার্থ ছাড়া অন্য কিছু ভাবতেই চায় না। মানুষের দুঃখ-কষ্ট, বিশ্ব সমাজ ব্যবস্থা,শোষণ অত্যাচারের বিষয়টি এখন কেউ লিখে না,কাউকে জানান দেয় না,সবাই তার নিজ নিজ সুবিদা আদায়ে ব্যস্ত যা কখনও কাম্য হতে পারে না। অনেকের মতে,এখনকার সময় সাহিত্য সৃষ্টি শুধু মাত্র বিলাসিতা কবিতা,গল্প উপন্যাস অনেকে লিখেন তাতে মানব কল্যানে বা মানবতাবোধকে জাগ্রত করনে তেমন কিছুই থাকে না আবার বর্তমানে অনেকে নিজের প্রচার প্রসারে, নিজের টাকায় ভিন্ন পথে সম্মাননা ক্রেষ্ট সনদ নিয়ে তা আবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারে বেশি ব্যস্ত হয়ে যাওয়া নির্যাতিত,নিরীহ মানুষের কান্নার আওয়াজ তার কান পর্যন্ত যায় না।মানবতা,ভালবাসা, মায়া, মমতা সৃষ্টির প্রতি প্রতিটি মানুষের মানবতাবোধ, গঠনমূলক চিন্তাভাবনা,এ পৃথিবী সকল মানুষের,এই পৃথিবীকে সব মানুষের জন্য বাস যোগ্য করার জন্য অর্থনৈতিক সাম্য ও সামাজিক সাম্য এবং বিভিন্ন ধর্মীয় সমাজের অর্থনৈতিক,সাংস্কৃতিক, শিক্ষাগত, আইনগত, সামাজিক ও রাজনৈতিক সহাবস্থান সৃষ্টি হোক তার জন্য কি কি করনীয়,সৃষ্টিশীল মানুষ হিসাবে তার কি কি দায়িত্ব সে বিষয়ে তার কোন জ্ঞান ও নেই। যে কবি,যে লেখক,যে সাহিত্য-সমাজকে পরিবর্তন করতে পারে না,মানবতাবোধ কে জাগ্রত করতে পারেনা সে সাহিত্য সত্যিকারে মানুষের কোন উপকারে আসে না। মানুষ অধিকার বঞ্চিত হয়ে থাকবে,অবদমিত হয়ে থাকবে এবং নির্যাতিত, অধঃপতিত এবং অসম্মানিত হয়ে থাকবে তা কখনও স্বাভাবিক বিষয় হতে পারে না। পারে না কোন মানুষের পরিচয় সে “সংখ্যা লঘু”। তাই জাতিভেদ অবসান কল্পে ও বিশ্বের নিরীহ মানুষের অবস্থার দ্রুত পরিবর্তনের জন্য ধর্ম,বর্ণ,জাতি গোষ্টি নির্বিশেষে সবাইকে এক হয়ে সুন্দর পৃথিবী বিনির্মানে সকল মানুষকে সম অধিকার দিয়ে,তার ধর্ম নিয়ে সে স্বসম্মানে পৃথিবীতে যেন ধর্মকর্ম করে বেঁচে থাকতে পারে যে অধিকার তাকে দিতে হবে এবং সব মানুষকে তা নিশ্চিত করতে হবে।
লেখক-কবি, প্রাবন্ধিক ও মানবাধিকারকর্মী।







Discussion about this post